fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জীবনদায়ী ওষুধ সহ দুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে কালনার গবেষক ছাত্র

অভিষেক চৌধুরী,কালনা: কর্মহীন অবস্থায় বাড়িতেই। তাই উপার্জনও বন্ধ।এইরকম পরিস্থিতিতে সংসারও প্রায় অচল। তার উপর অর্থের অভাবে অনেকেই বাচ্চাদের দুধ কিনে দিতে পারছেন না। এমনকি ওষুধও কিনে দিতে পারছেন না।

পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানা এলাকায় রয়েছে এইরকমই কয়েক হাজার পরিবারের মানুষজন। যারা কুটির শিল্প সহ দিন আনা দিন খাওয়ার মতো বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত। এইরকমই এক কঠিন পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন কালনার গবেষক ছাত্র রেজাউল ইসলাম মোল্লা। জীবনদায়ী ওষুধ সহ বাচ্চাদের দুধ, চাল-ডালের মতো জিনিসপত্র সহ অন্যান্য দ্রব্য পেয়ে খুশি এলাকার অসহায় মানুষজন।

পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানা এলাকায় রয়েছে তাঁতশিল্প সহ একাধিক কুটিরশিল্প। আর এই কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন হাজার-হাজার মানুষজন।লকডাউন চলার কারণে তাঁদের বেচাকেনাও বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই তৈরী হয়েছে অর্থের অভাব। তাই অনেকেই বাচ্চাদের দুধ সহ জীবনদায়ী ওষুধ যেমন কিনতে পারছেন না। তেমনই বড়োসড়ো সংসারে পর্যাপ্ত পরিমাণে চালডালেরও অভাব রয়েছে। কখনও সাইকেলে,আবার কখনও মোটরবাইকে চেপে এলাকার মানুষজনের কাছে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গবেষনারত ছাত্র রেজাউল ইসলাম মোল্লা ওরফে রানা। তাঁদের মুখ থেকেই এইরকম সংকটের কথা শুনে নিজের পিএইচডির ফেলোশিপের টাকায় ওষুধ,বাচ্চাদের দুধ,চাল-ডাল কিনে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন তিনি।

কালনার হাতিপোতার বাসিন্দা রেজাউলের গবেষণার বিষয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই গবেষনারত এই ছাত্রের গবেষনাও প্রায় শেষ। তাঁর এই কাজে খুশি ধাত্রীগ্রামের দুলাল বসাক,লক্ষ্মী বসাক সহ নান্দাই এলাকার বাসিন্দা মুন্না শেখ, নিজাম শেখরা।

এই বিষয়ে তাঁরা বলেন, ‘আমাদের কেনাবেচা বন্ধ রয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহ ওষুধ,বাচ্চাদের দুধ কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকাও এই মুহূর্তে আমাদের হাতে নেই। এইরকম পরিস্থিতিতে রেজাউলের এই সাহায্য আমাদের ভীষণ কাজে লেগেছে।’এই বিষয়ে গবেষক ছাত্র রেজাউল ইসলাম মোল্লা বলেন,‘লকডাউন পরিস্থিতিতে অনেক মানুষই তাঁদের নিজেদের জীবনদায়ী ওষুধ সহ বাচ্চাদের দুধ কিনতে পারছেন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসেরও অভাব তো রয়েছেই।কুটিরশিল্পী সহ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের এই সংকটের কথা জানতে পারি। তাই নিজের জমানো পিএইচডির পাঁচ বছরের ফেলোশিপের টাকা থেকেই এখনও পর্যন্ত চার হাজার মানুষকে তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলে দিয়েছি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই।

ধারাবাহিকভাবেই এইটা করতে চাই।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমার এই কাজের অনুপ্রেরণা। কারণ তিনিই আমার গবেষণার বিষয়। সকলের কাছে অনুরোধ ঘরে থাকুন,ভালো থাকুন।প্রয়োজনে আমাদের জানান।’

Related Articles

Back to top button
Close