fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনার দোসর ডেঙ্গি, সঙ্কটে হুগলিবাসী

আসাদ মল্লিক, হুগলি: হুগলিতে করোনার সঙ্গে হাজির ডেঙ্গিও। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, গত দশ দিনে শ্রীরামপুর, রিষড়া এবং কোন্নগরে অন্তত পাঁচ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আতঙ্কের মাঝে ডেঙ্গি যাতে বাড়তে না পারে তার জন্যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন জেলা প্রশাসনিক কর্তারা।

স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈশাখ মাসে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে গরম না থাকার কারণেই ডেঙ্গি ছড়িয়েছে। ফলত এলাকায় এলাকায় মশার লার্ভা মারার ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গি নিয়ে কালঘাম ছুটছে স্বাস্থ্যদফতরের অধিকর্তাদের।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাওয়ের নেতৃত্বে শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হওয়া জেলাশাসকের দফতরে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, জেলা সভাধিপতি মেহবুব রহমান প্রমুখ। উক্ত বৈঠক থেকে চার মহকুমা শাসকের দফতর এবং ব্লক অফিসগুলিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বিভিন্ন পুরসভা এবং ব্লকের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। মশার লার্ভা মারার তেল ছেটানো, বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার কথা বলা হয়। শ্রীরামপুর এবং রিষড়া পুরসভাকে বিশেষভাবে সতর্ক করার কথাও বলা হয়।

সিএমওএইচ জানান, ব্লকগুলিতে আশাকর্মীরা এবং শহরে পুর-স্বাস্থ্যকর্মীরা সমীক্ষা করবেন। বিধি মেনে ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করা হবে। কারও বাড়ির ভিতরে না ঢুকে তথ্য সংগ্রহ এবং মানুষকে সচেতন করার উপরে জোর দেওয়া হবে। বাড়ির আশেপাশে যাতে জল না জমে, সাধারণ নাগরিকদের সে ব্যাপারে সচেতন করতে হবে।
কোন্নগর পুর-কর্তৃপক্ষের কথায়, ডেঙ্গি মোকাবিলায় পুরনো অভিজ্ঞতাকে সম্বল করেই লড়াই চলবে।

শ্রীরামপুরের পুরপ্রধান অমিয় মুখোপাধ্যায় জানান, জানুয়ারি মাস থেকে চার জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে তিন জন অন্য জায়গায় বাস করে আক্রান্ত হন।
পুরপ্রধান বলেন, ‘‘বাড়ি বাড়ি জ্বরের তথ্য সংগ্রহ চলছে। মশার লার্ভা মারতে তেল ছড়ানো হবে।’’ কোন্নগরের পুরপ্রধান বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘‘ডেঙ্গি মোকাবিলায় আমারা বছরভর কাজ করি।’’

গত কয়েক বছরে হুগলিসহ বিভিন্ন শহরাঞ্চলে ডেঙ্গির প্রকোপে ২০১৬ সালে শ্রীরামপুরে ডেঙ্গিকে ‘মহামারী’ ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। গত বছর শ্রীরামপুর, রিষড়া, ডানকুনি-সহ কয়েকটি জায়গায় ডেঙ্গির বহর বাড়ে। এ বছর করোনার মাঝে ডেঙ্গির প্রকোপকে তাই আগেভাগে সামলাতে সচেষ্ট প্রশাসন।

 

Related Articles

Back to top button
Close