অন্যান্যঅফবিটগুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

নিজেকে বন্দি রেখেই দেশকে সুরক্ষিত করুন, প্রকৃত দেশপ্রেমিকের পরিচয় দেওয়ার এই তো সুযোগ

সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন করতে নোভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে কলম ধরলেন যুগশঙ্খ পত্রিকার বিশেষ রাজনৈতিক  সংবাদদাতা  শংকর  দত্ত

 

নিজেকে বন্দি রেখেই দেশকে সুরক্ষিত করুন প্রকৃত দেশপ্রেমিকের পরিচয় দেওয়ার এই তো সুযোগ

………………………………………………………………………………………………..

অবশেষে জনতা কার্ফুর দিন তিনেক পর করোনা নিয়ে আমার কিছু লিখতে ইচ্ছে হল। আমি ডাক্তার নয়, নই কোনও বিশেষজ্ঞ বা জৈব বিজ্ঞানী। তাই নোভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবার কোনও ইচ্ছে বা দায় কোনওটাই আমার নেই। একজন সাংবাদিক হিসাবে প্রতিনিয়তই গোটা দেশ-দুনিয়া তোলপাড় হতে দেখছি। টিভি, ইন্টারনেট, সোশ্যাল সাইট ঘেঁটে ঘেঁটে, পড়ে পড়ে কিংবা বিদেশ বা রাজ্যের বাইরে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স-এ কথা বলে বলে বুঝেছি অনেক।

বস্তুত এ’ কদিন বিষয়টি নিয়ে এতো হুল্লোড় চলছে, এতো মেসেজ, টেক্সট, অডিও-ভিডিও বার্তার আদান-প্রদান চলছে, আমি প্র্যাক্টিক্যালি কনফিউসড। মাথা ঝাঁ-ঝাঁ করছে, কান গরম হয়ে যাচ্ছে, শরীর আইঢাই করছে। আমার মতো অতি সাহসী, অতিরিক্ত জ্ঞানী মানুষ গুলোও আজ ঘরের মধ্যে সেঁধিয়ে গেছেন। আমি নিজেও তাই। জনতা কারফিউর পর থেকেই পুরোপুরি

স্ব-ইচ্ছায় ঘরবন্দি। গত ক’ দিনে নিজেকে অনেকটাই হালকা লাগছে। বাড়িতে থাকার দরুণ ধূমপানও কমে গেছে অনেকটাই।

 

সবাই সব জানে, তবুও

———————–

এখন বিষয় হল কী লিখব আর কেনই বা লিখব? কারণ বিশ্ব-নিন্দিত এই ভাইরাসটি নিয়ে এ পর্যন্ত যা যা লেখার সবই প্রকাশিত হয়ে গেছে। টিভির পর্দায় সকাল- সন্ধ্যে চর্বিতচর্বন করে করোনার গুষ্ঠীর ষষ্টি পুজো করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থেকে টিভির সর্বজ্ঞানী উপস্থাপক বা উপস্থাপিকারা। মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে গেছে নোভেল করোনা কী ও কেন !

কিন্তু তা সত্ত্বেও আম-বাঙালির বা বাংলাবাসীর একটা বড় অংশ এখনও বিষয়টাকে সচেতনভাবে নিচ্ছেন না। চারিদিক সচেতনতার একটা বড় অভাব প্রকট হয়ে উঠছে। এই বিষয়টা নিয়েই আমার নিজস্ব কিছু মত আজ প্রকাশ করতে চাই।

 

লকডাউন বলতে মানুষ কী বোঝে

———————————————–

আচ্ছা লকডাউন কথাটার ঠিক মানে কী? এটাই বুঝতে পারছেন না বা বুঝতে চাইছেন না এক শ্রেণীর মানুষ। সাধারণত আমাদের দেশে কারফিউ বা জরুরি অবস্থার মানে টা অনেকের জানা। অনেকে ধর্মঘটকে জানেন। যেখানে প্রশাসনিক ভাবে মিলিটারি বা পুলিশ দিয়ে মানুষকে বাইরে বেরোনো থেকে আটকানো হয়, বা একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে যেতে নিষেধ করা হয়। আবার ধর্মঘট হলে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরাই দোকান, বাজার বন্ধ, ট্রেন-বাস বন্ধ করে দিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে দেন।

এক্ষেত্রে লকডাউন কথাটা আমাদের এখানে একটু অপরিচিত ছিল। আমেরিকায় ৯/১১ তে সন্ত্রাসবাদ ও ১৯১৩ সালে বোস্টন ও ১৯১৫ সালে প্যারিসে হামলার পর ব্রাসেলসে প্রথম লকডাউন প্রচলিত হয়। এর মানে জরুরি বা আপদকালীন সময়ে কয়েকটি অতি প্রয়োজনীয় পরিষেবা ছাড়া কেউই নিজের বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না, বা কাউকেই নিজের বাড়িতে আসতে দেবেন না। নিজেকে নিজেই গৃহবন্দি রাখতে হবে, নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থে।

 

তোরা যে যা বলিস ভাই

———————————

কিন্তু আমাদের দেশের একাধিক রাজ্যে বিশেষত আমাদের রাজ্যে দেখা যাচ্ছে এই বিষয়টাকে কেউই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের মতোই রাজ্য সরকারও এ রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতোই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বার বার হাত জোড় করে জনতার কাছে আহবান করছেন, ‘আপনারা বাড়ি থেকে বেরোবেন না’ বলে। নিজেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য আবেদন নিবেদন করছেন যেখানে।

যেখানে সরকারি তরফে বার বার ঘোষণা করা হচ্ছে এই অবস্থায় দেশ বা রাজ্যের খাদ্য সামগ্রীর অভাব নেই । সেটা জানা সত্ত্বেও এক শ্রেণীর মানুষ প্রতিদিন কোনও রকম ভাবে সব রকম নির্দেশ উপেক্ষা করেই ইচ্ছে মতো রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ইচ্ছে মতো গাদাগাদি করে মাছ বাজার, সবজি বাজারে গায়ে গা ঘেঁষে কুদকুদি করে বাজার করছেন। কে কাকে টক্কর দিয়ে কতো বেশি খাদ্যদ্রব্য নিজের বাড়িতে বা ফ্রিজে স্টক করতে পারেন, চলছে তার বিপুল প্রতিযোগিতা। প্রয়োজন ছাড়াই ধর্মঘট ভেবে নিয়ে

পাড়ার মোড়ে, গলির রাস্তায় ক্রিকেট খেলা চলছে, চলছে জটলা। ঘুপছি মারা চায়ের দোকানে ঢুকে চলছে ঠেকবাজি। অনেকেই মূল রাস্তা থেকে পুলিশের আড়াল হতে ফাঁকা জায়গায় বসে দল বেঁধে গাঁজা খাচ্ছে। কেউ বন্ধুদের ডেকে এনে বা বন্ধুর ফ্ল্যাটে, বাড়িতে গিয়ে মদের পার্টি করছেন। অনেকেই এ’কদিন ছুটি মনে করে পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে ফাঁকা ছাদে পিকনিক করতে বসে যাচ্ছেন। কেউ কেউ সন্ধ্যে হলেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে হাঁটতে বেরোচ্ছেন। পাড়ার কলতলায়, পুকুর ঘাটে রাতে আড্ডা দিচ্ছেন। সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে কচি-কাঁচা বাচ্চারা। ইচ্ছে মতোই পাড়ার সন্তু কাকু সাত বাড়ি ঘুরে বেরিয়ে চা খেয়ে বাচ্চাদের কোলে তুলে আদর করছে। অনেকেই ভাবছেন এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি গেলে কি-ই বা সমস্যা।

 

কিছু কাজ করবেন না প্লিজ

————————————–

গ্রামের ছোট মুদি দোকানে বিড়ি-সিগারেট কিনতে গিয়ে বা সন্ধ্যের চায়ের দুধ কিনতে গিয়ে অনেকেই খানিকটা ঘরের বউকে ফাঁকি দিচ্ছি ভেবে একটু আড্ডাবাজি করে আসছেন। আবার কেউ কেউ পুলিশের গাড়ি আসছে এই ভেবে ভয়ে দোকানের পাল্লা ফেলে দিচ্ছেন। দোকানের ভেতরেই পাঁচ বন্ধু মিলে মোদি-মমতার নিন্দে বা প্রশংসা করতে ব্যস্ত। কেউ আবার বাড়ির জিনিস কিনতে বেরোনোর আগে বন্ধুদের ফোন করছেন, যাতে টুক করে আড্ডা দিয়েই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারেন।

কারও কারও আবার ভালোবাসা উথলে উঠছে প্রতিবেশী বা নিকট আত্মীয় বয়স্ক মাসি-পিসি বা কাকা-কাকিমার জন্য। দিব্যি তাঁদের বাড়িতে খোঁজ খবর নিতে যাচ্ছেন। তাঁদের বাজারের থলি নিয়ে নিজেই চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসে আড্ডা মেরে গুঁতোগুতি করে বাজারের মালপত্তর নিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে যাচ্ছেন। আদরের ছেলেকে পেয়ে অনেকেই আবার বিছানা ছেড়ে দিয়ে সেখানে বসতে দিচ্ছেন। সেখানে বসে হিঞ্চের বড়া দিয়ে মুড়ি আর এক কাপ চা খেয়ে আবার নিজের বাড়িতে ঢুকছেন। আবার বাড়ি ফিরে কেউ কেউ জামাকাপড় ছেড়ে বা না ছেড়েই নিয়মমাফিক হাত পা ধুয়েই খেতে বসছেন।

যাদের বেশি উপায় নেই তাদের অনেকেই ওই জামা কাপড় পরেই ছেলে-বউকে নিয়ে যে বিছানায় রাতে শুয়ে থাকেন, সেখানে হেলান দিচ্ছেন। গা এলিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ বাইক বা সাইকেল নিয়ে উদমার মতো এর -ওর বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এমনও শোনা যাচ্ছে অনেকেই আবার ভিন রাজ্য বা ভিন দেশ থেকে ফিরে এ-আত্মীয়, সে আত্মীয়ের বাড়িতে সময় কাটিয়ে পুলিশ বা স্বাস্থ্যকর্মীদের চোখে এমনকী পাড়ার বা আবাসনের লোকের চোখে ধুলো দিয়ে রাতের অন্ধকারে টুকুশ করে ঘরে ঢুকে বাপ-মার কোলে সেঁধিয়ে বাধ্য ছেলের মতোই।

 

এখন আপনি কী করবেন

———————————–

গত দুদিনে সমস্ত সরকারি ঘোষণা, নির্দেশিকা, ডাক্তারি পরামর্শ, বিশেষজ্ঞদের মতামত, পুলিশ কর্তাদের বক্তব্য, সেলিব্রিটিদের ভিডিও ভাষণ শুনে আমার যা মনে হয়েছে সেটাই বলি এইবার। পাতি কথায়, একদম দাঁত বের করা বন্ধ করুন। এইসব ছ্যাবলামী, আঁতলামি গা-জোয়ারী, হাম্বরিয়া, আদখালেমি একদম বন্ধ করুন। জনগণের তুলনায় আমাদের দেশে বা রাজ্যে ততোধিক পুলিশ কর্মচারী নেই, যাঁরা মানুষের বাড়ি বাড়ি বা অলিগলিতে গিয়ে পাহারা দিতে পারেন। তাই পুলিশের ভয়ে নয়, নিজের ও নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু ভয় থাকলেই শুধু লকডাউন পালন করুন। আর নিজের ভালো নিজে না বুঝলে পুলিশই বা তা জোর করে কেন বোঝাতে যাবেন ভাবুন তো। মাত্র তো কয়েকটা দিন। বাড়িতে চুপচাপ বসে থাকুন। দেশের বা রাজ্যের জনসংখ্যার তুলনায় এতো হাসপাতাল, আইসলেশন হওয়ার মতো জায়গা, ডাক্তার, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী নেই। তাই কিছু একটা হলে জাস্ট পচে পচে মরবেন এই ভাবনা থেকে ঘরে থাকুন। আর মরলেও এলাকার বার্নিংঘাট বা ঈদগা নয় সোজা ধাপার মাঠ।

বার বার বলছি, আবারও বলছি। অতি প্রয়োজনে বাজারে, মুদি দোকানে একান্তই গেলে অন্তত অন্যদের থেকে এক মিটার দূরে দাঁড়ান। কাশি থাকলে নিজে মাস্ক পড়ুন।

অন্যরা কাশলে তাঁকে মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন।

 

যা করবেন না একদম

———————————

যদি শুধুই বাড়িতে থাকেন, তাহলে মাস্ক নিয়ে কোনও মাতামাতি করবেন না। বাড়িতে এই ২১ টা দিন কাজের লোক, আত্মীয় বন্ধু কাউকে আসতে দেবেন না। যত পরিচিতই হন নিজে কারও বাড়ি যাবেন না। এই মুহূর্তে পাবলিক ভেহিক্যালস-এ চড়বেন না। কোনওরকম পার্টিতে অংশগ্রহণ করবেন না। এলাকার পুজো, মেলা, রাজনৈতিক কৌশল বা করোনা নিয়ে সচেতন করে ফায়দা তোলার কথা ভেবে পাড়ার ক্লাব বা পার্টি অফিসে এক সঙ্গে দল বেঁধে বসে মিটিং করবেন না। কেউ করলে সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে বাধা দিন। দরকার হলে পুলিশে ফোন করুন। সরকারি টোল ফ্রি নম্বরে জানিয়ে দিন। বাড়িতে কারো বিপদ মনে করলেও পাড়ার কাউকে দুম করে বাড়িতে না ডেকে পুলিশে জানান আগে।

 

এই কথাটি মনে রেখো

————————————-

চেক-আপ ছাড়া বাইরে থেকে কেউ ফিরে নিজের গ্রাম বা বাড়িতে লুকিয়ে আছেন জানতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানান। সারাদিন যারা বাড়িতে হোম-কোয়ারেন্টাইনে আছেন, তারা প্রতিটা জিনিস ধরবার পর সাবান দিয়ে হাত ধুন। এলাকায় বাড়ি বা আবাসনের সামনে একাধিক ব্যক্তিকে এক সঙ্গে দেখলেই আগে ছাদ, বারান্দা বা ব্যালকনি থেকে চিৎকার করুন, নয়তো স্থানীয় থানায় ফোন করুন। যত কাছের আত্মীয় বা অসহায় মানুষই হন না কেন, তাঁদের সংস্পর্শে যাবেন না। কারণ এই অবস্থায় কারো উপকার করার দায়িত্ব আপনার নেই। শুধুই নিজে যেখানে আছেন সেখানে থাকলেই সমগ্র সমাজের উপকার হবে।

একটা জাস্ট ছোট্ট উদাহরণ দিলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। সাধারণত একজন ব্যক্তি করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সাত দিন পর তার শরীরে উপসর্গ লক্ষণীয় হয়। তাই যিনি আক্রান্ত তিনি কোনও ভাবেই আগে থেকে বুঝবেন না যে ভাইরাস তাঁকে গিলে খেতে শুরু করেছে। তাই তিনি যত বাইরে গিয়ে অন্যদের সংস্পর্শে আসবেন রোগটা তত দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়াবে এবং সেই অন্য ব্যক্তিরাও তাঁদের পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছড়িয়ে ফেলবেন। নিজের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে কোনও রকম দ্বিধা- দ্বন্দ্ব না করে স্থানীয় নামী চিকিৎসকদের কাছে যান বা হাসপাতালে যান। ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। এই রোগে মৃত্যুর হার শতকরা ২ শতাংশ। তাই চিকিৎসা ঠিক সময়ে বা দ্রুত শুরু হলে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাবেন অবশ্যই। কোনওরকম গুজবে কান দেবেন না। চিকিৎসকরাও বলছেন এই সময় ঋতু পরিবর্তনের কারণে অনেকেরই জ্বর, সর্দি-কাশি হতেই পারে। তবে সেটা কারও হল মানেই তাকে করোনা আক্রান্ত ভেবে এক ঘরে করবেন না।

 

শেষ কথা বলি

——————–

তাই একটাই বার্তা,নিজে সুস্থ থাকুন।নিজের ঘরে বন্দি থাকুন। দেশ ও জাতিকে সুরক্ষিত করতে এই প্রথম আপনার কাছে দেশ ভক্তির একটা দারুন সুযোগ এসেছে। দয়া করে সেটাকে হাত ছাড়া করবেন না। আপনাকে পাকিস্তান সীমান্তে বা চিনের সীমান্তে গিয়ে কেউ দেশকে বা জাতিকে পাহারা দিতে বলছেন না। শুধু মাত্র নিজের ঘরে নিজেকে ও পরিবারের লোকজনকে বন্দি রেখে দেশকে সুরক্ষিত করুন। জয় হিন্দ।

 

 

………………

Related Articles

Back to top button
Close