fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ত্রাণেও দুর্নীতি,আদালতে যাওয়ার হুমকি দিলীপ ঘোষের

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: আমফানে বাড়িভাড়ার সংখ্যা নিয়ে আগেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল রাজ্য বিজেপি। মঙ্গলবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সল্টলেকে নিজের বাসভবনে  সাংবাদিক বৈঠকে ত্রাণ বিতরণের আগেই দুর্নীতি, কাটমানির অভিযোগ করলেন। এদিন তিনি বলেন, ‘ পশ্চিম মেদিনীপুরে আমার নির্বাচনী এলাকায় আমরা সমীক্ষা করে ১৫০০ জন ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা প্রশাসনকে দিয়েছি। অথচ মজার ব্যাপার ইতিমধ্যেই বিডিও ২৭০ জন এমন ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন যাদের পাকা বাড়ি আছে এবং বাড়ি ভাঙেনি। আর আমাদের ওই তালিকা থেকে মাত্র একজন যার সত্যিই কাঁচা বাড়ি ছিল ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। অর্থাৎ বিতরণের আগেই দুর্নীতি শুরু, কাটমানি, সিন্ডিকেট, ৫০- ৫০ ভাগ হয়ে যাবে। এরফলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। গোসাবা থেকেও অভিযোগ এসেছে। বাড়ি ভাঙেনি এমন লোকজন ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।’ এটা খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘ পাকা বাড়ি আছে অথচ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন আমরা তার নথি সংগ্রহ করছি। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আমরা আদালতেও যেতে পারি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিরোধীদের ত্রাণ বিলিয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ইতিমধ্যেই উঠেছে। এদিন আদালত ত্রাণের কাজে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘ কোর্টের রায়কে স্বাগত। আমরা যখন ত্রাণ দিতে গিয়েছি বাধা এসেছে। আয়লা, বুলবুল সবক্ষেত্রেই এক অভিজ্ঞতা। আমাদের দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, বাবুল সুপ্রিয়কে ত্রাণ বিতরণ করতে দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের লোকেরা ত্রাণ দিতে গিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে মারপিট করেছে। বেলঘরিয়ায় একটি ছেলে খুন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দুর্গত মানুষ। আমরা এখনও পর্যন্ত করোনার সময় থেকে ১ কোটি মানুষকে খাবার দিয়েছি, ৩৫ লক্ষ পরিবারকে কাঁচা আনাজ দিয়েছি। এখন কাশি থেকে, বিহার, মধ্যপ্রদেশ থেকে বাংলার জন্য ত্রাণ আসছে। আমরা ইতিমধ্যেই জেলায় ২৯ হাজার ত্রিপল পৌঁছে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন: একুশের ভোটে তৃণমূলকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়বে না যুবমোর্চা! হুঙ্কার সৌমিত্রর

তিনি এদিনও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে করোনা নিয়ে তথ্যগোপনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘ ‘প্রথম থেকে রাজ্য সরকার কোনায় মৃতের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করে চলেছে। এতে পশ্চিমবঙ্গবাসীর বিভ্রান্তি বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী করোনাকে পাশবালিশ করার কথা বলেছেন। এরফলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। করোনার সতর্কতা বিষয়ে মানুষ গুরুত্ব দেবে না। তখন লড়াইটা কঠিন হয়ে যাবে। বিপন্ন হয়ে পড়বেন সাধারণ মানুষ।’ এদিন তিনি অভিযোগ করেন, ‘ কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন খাতে টাকা দিয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার উন্নয়ণের খতিয়ানের হিসাব দিতে পারেনি। যেমন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে ১২৩৮ কোটি টাকা কেন্দ্র অনুমোদন করেছে। কিন্তু সেই প্রকল্পে রাজ্যের ভাগ কতো হবে রাজ্য এখনও ঠিক করতে পারেনি। ফলে প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। আর প্রতি বছর ঘাটাল বন্যায় ভাসছে।’

Related Articles

Back to top button
Close