fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ক্রীড়া ও সামাজিকতায় সমান দায়বদ্ধতায় এগিয়ে কসমো

জাকির হুসেন, করিমগঞ্জ: প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পেরিয়ে এসেছে সীমান্ত জেলা সদরের কসমোপলিটন ক্লাব। করিমগঞ্জ শহরের লঙ্গাই রোড এলাকায় অবস্থিত ক্লাবটি ১৯৭৯ সালে সরস্বতী পূজা আয়োজনকে কেন্দ্র করে মুলত প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন জ্ঞানেন্দ্র নাথ শর্মা ও সম্পাদক জয়রাজ সিনহা (তাপস)। তবে পূজা বা সামাজিকতায় আটকে থাকেনি ক্লাব। বৃহত্তর পরিচিতির লক্ষ্যে তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের বৃত্ত বড় করে ফেলে তারা। এর মধ্যে ঢুকে পড়ে ক্রীড়াঙ্গনও। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দল নামানো ছাড়াও নিজেরা খেলাধুলার আয়োজন করতে থাকে। ১৯৮৬ সালে বি ডিভিশন ক্রিকেট লিগ দিয়ে খেলার মাঠে আত্মপ্রকাশ করে কসমো। এরপর এক সময় এ ডিভিশন ক্রিকেট লিগ নিয়মিত খেলে। ধীরে ধীরে পরিচিত এবং দায়িত্ব বাড়ে।

২০০১ সালে বি ডিভিশন ক্রিকেট লিগে রানার্স হয়ে এ ডিভিশনের ছাড়পত্র আদায় করে। প্রথম বছরই তারা এ ডিভিশনে চ্যাম্পিয়ন হয়। ক্রিকেটে কসমোর জার্সিতে খেলা উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়রা হলেন- বিভাস রায়, অরূপ তালুকদার, ভোলানাথ মৃদা, শ্রীদেব বিশ্বাস, জন্মজয় দাস, বিপ্ররাজ দাস পুরকায়স্থ, উদয় শংকর দাস, অমিতাভ দাস, রূপজ্যোতি দাস, রাজা রায়, প্রশান্ত দাশগুপ্ত, দেব প্রাসাদ দত্ত, কৃষ্ণ দাস, শান্তনু সরকার, শুভ্র জ্যোতি বিশ্বাস, দ্বীপ্তপ্রাংশু পাত্র প্রমুখ।

১৯৯৪ সালে পার্থসারথি দে’র উদ্যোগে ক্লাব দল ভলিবল টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করে। ভলিবলে ক্লাবের হয়ে যারা খেলেছেন পার্থসারথি দে, দেবব্রত দাস, গৌরাঙ্গ সিনহা, প্রণব সিনহা, অনুপ সিনহা, দেবাশিষ শর্মা, চিরঞ্জিত সিনহা প্রমুখ। ১৯৯৩ সালে কসমোপলিটন করিমগঞ্জের ফুটবল লিগে অংশ নেয়। পূর্ণেন্দু রায়চৌধুরী এতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন সময় ক্লাব দলের হয়ে খেলেছেন ফখর উদ্দিন, সুরজিৎ মালাকার, টুলটুল রায়, ব্রজকিশোর দাস, সুশান্ত দাস, মুক্তা হুসেন, সূর্য গোয়ালা, পান্তু দে, জয়দীপ দাস, অমিতাভ দেবরায়, আনোয়ার হুসেন প্রমুখ।

শুরুর দিকে কর্মকর্তাদের বাড়িতেই চলতো ক্লাবের কাজকর্ম। ১৯৯৬ সালে বাঁশ বেত দিয়ে অফিস ঘর নির্মাণ করা হয়। ২০০৫ সালে তৈরি হয় দ্বিতল ভবন। এর নিচের তলা জিমের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ক্লাবের নিজস্ব জিম গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে। জিম গড়ে তোলার জন্য বদরপুর নবীন চন্দ্র কলেজের অধ্যাপক প্রয়াত প্রভাংশু দত্ত তিন লক্ষ টাকা দান করেছিলেন। প্রচার বিমুখ রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ওই অধ্যাপক জিমের জন্য তৈরি করা ফলকে নিজের নাম লিখতেও আপত্তি করেছিলেন। ২০১৭ সালে জিম গড়ে তোলার আগে অনেকেরই সহযোগিতার আশ্বাস ছিল। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি।

আরও পড়ুন: মৃত্যু পথযাত্রী মা, জানালায় বসে অপেক্ষায় ছেলে, ‘ভাইরাল’ বারুদের গন্ধমাখা প্যালেস্টাইনে

সামাজিক কাজকর্মে ক্লাব সদস্যদের বিভিন্ন সময় সাহায্যের হাত বাড়িতে দিয়েছে। বন্যা কবলিত লোকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে রক্ত দান শিবির করা। এমনকি মুমূর্ষু রোগীর প্রয়োজনে রক্ত দান করা হয়। ক্লাবের বর্তমান সম্পাদক অরূপ রায় জানান,’জীবন জীবিকার তাগিদে অনেক কর্মকর্তা এখন দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। তাই আগের মতো শিবির করে রক্ত দান করা সম্ভব হয় না। এখন ব্যক্তিগত ভাবে মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্ত দান করি আমরা।’ তাজ উদ্দিন যখন বাকস-এর কেন্দ্রীয় সচিব ছিলেন সেই সময় ২০১৫ সালে করিমগঞ্জ জেলার বর্ষসেরা পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান কসমোপলিটন ক্লাবে হয়েছিল।

ক্লাবের সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সময় যারা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কৃপাতোষ সেনগুপ্ত, মণি দেব, হরিশংকর চক্রবর্তী, রথীন্দ্রদাস চৌধুরী, অভিজিৎ দাস, বিভাস ধর, নৃপতি রঞ্জন চৌধুরী ও বর্তমান সভাপতি চন্দ্রজ্যোতি ভট্টাচার্য। সচিবদের মধ্যে রয়েছেন রথীন্দ্রদাস চৌধুরী, রাজীবেন্দ্র ভট্টাচার্য, মান্না ভট্টাচার্য, বিভাস রায়, নির্ঝর কান্তি পাল, বাপ্পা দেব ও বর্তমান সম্পাদক অরূপ রায়।

 

Related Articles

Back to top button
Close