fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

অযোধ্যায় আজ ইতিহাস, ভূমিপুজোর মাধ্যমে রামমন্দিরের নির্মাণ শুরু

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা

রক্তিম দাশ: শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। সব বির্তকের অবসান ঘটিয়ে সমগ্র বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের আশা-আকাক্ষার প্রতীক ভগবান শ্রীরামের জন্মস্থলে অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাস। হিন্দু শাস্ত্র মতে রাজ মহেন্দ্রক্ষনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিপুজোর মধ্য দিয়ে নয়া রামরাজ্যের অভিষেককে প্রত্যক্ষ করবে বিশ্ববাসী। রামমন্দির শিলান্যাস ঘিরে এখন কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে রামলালার নগরীকে।রামমন্দির মামলার রায়ে বের হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী এটাই প্রথম অযোধ্যা সফর।


জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লখনউ বিমানবন্দর এসে পোঁছবেন। সেখান থেকে ঠিক ১০টা ৪০ মিনিটে বায়ুসেনার বিশেষ হেলিকপ্টারে করে অযোধ্যায় রওনা দেবেন তিনি। অযোধ্যার সাকেত কলেজে অস্থায়ী হেলিপ্যাডে বেলা সাড়ে ১১টায় নামবে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। সেখান থেকে সোজা প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যাবে হনুমান গড়ি মন্দিরে। সেখানে ভগবান হনুমানকে পুজো দেবেন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে। হনুমান গড়ি পুজো শেষ করে মোদি ঠিক ১২টায় রাম জন্মভূমি আসবেন। এখানে থাকবেন ঠিক ১০ মিনিট। প্রথমে অস্থায়ী মন্দিরে থাকা রামলালার দর্শন করবেন। এরপর সাড়ে ১২টায় রাম মন্দিরের ভূমিপুজো শুরু হবে। ১২টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এরপর দুপুর ১টা ১০ মিনিটে রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের প্রধান আচার্য নৃত্যগোপাল দাস সহ অন্যান্য ট্রাস্টের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বেলা ২টো ৫ মিনিটে সাকেত হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে করে লখনউ বিমানবন্দর হয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
এদিকে করোনা আবহে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টরিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে অযোধ্যাকে। বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সি এবং এসপিজি-র সঙ্গে আলোচনা করে অযোধ্যার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে প্রশাসন। অযোধ্যায় জঙ্গি হামলার সর্তকতাকে মাথায় রেখে হাই অ্যার্লাট জারি করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে একটি ডিজিটাল সিকিউরিটি প্ল্যান। নগরীর কোনও একটি স্থানে পাঁচজনের অধিক জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন। নিরাপত্তার স্বার্থে সাতটি জোনে ভাগ করা হয়েছে অযোধ্যা শহরকে। বুধবার শহর থেকে রাম মন্দিরে যাওয়ার প্রধান রাস্তায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ করা হবে। অযোধ্যার আকাশে উড়ছে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার। সব মিলিয়ে যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এখন রামলালার নগরী।
উত্তরপ্রদেশের পুলিশ ডিজিপি হিতেশ চন্দ্র অবাস্তি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার দায়িত্বে থাকছে এসপিজি। করোনার কথা মাথায় রেখে পুরো আইসোলেশনে থাকা পুলিশ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার জন্য থাকছেন।’

এদিকে, অযোধ্যা নগরীর প্রবেশপথে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাতে তৈরি হয়েছে বিশাল একটি গেট। প্রধানমন্ত্রীর ভূমিপুজোয় আসার মূল রাস্তাটি সাজানো হয়েছে হিন্দু সংস্কৃতির নানা উপকরণে। সমগ্র অযোধ্যার রাস্তার পাশে থাকার বাড়ি গুলোর দেওয়ালে চিত্রিত হয়েছে রাময়ণের বিভিন্ন ঘটনা। বাড়িগুলোতে পড়েছে হলুদ রঙের প্রলেপ। অযোধ্যার সন্ত এবং জ্যোতিষিরা বলছেন, ‘হলুদ রঙের সঙ্গে বৃহস্পতির সংযোগ রয়েছে। সূর্যের উজ্জ্বলতম অংশের রং-ও হলুদ। এই রং ইতিবাচক শক্তির জন্ম দেয়।’
প্রতিটি মঠ এবং মন্দির সাজানো হয়েছে আলোকমালায়। চলছে অবিরত মন্ত্রপাঠ ও কীর্তন। গত বছরই অযোধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে গিনেস বুকে নাম তুলেছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নয়া রেকর্ড করতে চলেছে অযোধ্যাবাসীরা। শ্রীরাম জন্মভূমি ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে দীপ উৎসবের।

মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই উৎসব বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হবে। সরযু নদীর পাড়ে, হনুমানগাড়ি, দশরথ মহল, কনক ভবন, সীতা রসোই , রং মহল , ছোটো দেবকালী ও বড় দেবকালীসহ বিভিন্ন মন্দির সহ অযোধ্যার প্রতিটি বাড়িত এখন আলোর রোশনাইতে ভেসে যাচ্ছে।
এই দিনটির জন্যই যেন অপেক্ষা করেছিলেন রামমন্দিরের প্রধান

পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাস। এদিন তিনি যুগশঙ্খকে বলেন,‘ বাবরে আমলে শুরু হওয়া পরাধীনতার গ্লানি এবার ঘুঁচতে চলেছে। অগনিত সাধু-সন্ত আর রামভক্তদের ৫০০ বছরের লড়াইয়ের শেষে ভগবান শ্রীরামের মন্দির তৈরির সূচনা হতে চলেছে। এতে একটা প্রসন্নতা তৈরি হয়েছে। আর এই রকম প্রসন্নতা যে সময়ে তৈরি হয়, এসময় শুভ সময় ছাড়া আর কিছু হতেই পারে না।’
এই দিনটির মাহাত্য নিয়ে বলতে গিয়ে রামমন্দিরের প্রধান পুরহিত বলেন,‘ ১২ টা ১৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ড থেকে ১২ টা ১৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের মধ্যেই ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময়ের মধ্যে তিনি ৫টি রুপোর ইট স্থাপন করবেন ভগবান শ্রীরামকে উৎসর্গ করে। এই ইটগুলিতে রয়েছে নক্ষত্রের প্রতীক আঁকা। এই সময়ে জ্যোতিষ মতে রাজ মহেন্দ্রক্ষণ। পরাশর শাস্ত্র মতে, এই সময় বুধ,শুক্র,বৃহস্পতি এবং মঙ্গল একই অবস্থানে থাকে। একে বলা হয় রাজ মহেন্দ্রক্ষণ। ভগবান রামের জন্মের সময় যেভাবে পুজো হয়েছিল বলে শাস্ত্রে লেখা আছে সেভাবে বুধবার ভূমিপুজো হবে। ’

রামজন্ম ভূমি ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গর্ভগৃহে ৩ বাই ৩ ফুট একটি গর্ত করা হবে। মণিরাম দাস ছাউনির মুখ্য মোহন্ত এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ট্রাস্টের প্রধান নৃত্যগোপাল দাস মহারাজের হাত থেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি পাঁচটি রুপোর ইট ওই গর্তে স্থাপন করবেন। গর্ভগৃহে পাঁচ ধরণের শিলা পুজো হবে রামানন্দী পরম্পরা মেনে। জয়া, ভদ্রা, রিত্তা, নন্দা এবং পূর্ণার পুজো হবে। পুজোর চারদিকে থাকবে চারধরণের শিলা। মধ্যে থাকবে একটি শিলা। এরপর গর্ভগৃহে তামার কলসী স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভূমিপুজোর কাজ শেষ হবে।

Related Articles

Back to top button
Close