fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোভিড-১৯ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকে গোব্যাক, কিন্তু আমফান প্রতিনিধি দলকে স্বাগত! দ্বি-চারিতা নয় কি?

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস : কোভিড ১৯, রাজ্যের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন সহ সার্বিক স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিকাঠামোগত উন্নয়নে আলোচনা, পর্যালোচনা ও ব্যাবস্থা গ্ৰহনের উদ্দেশ্যে আসা কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চুরান্ত অসহযোগিতা সহ বন্দি দশার মতো আবহ তৈরি করে কড়া নজরদারিতে রাখা, কোথাও বা দলীয় কর্মীদের অতি সক্রিতায় গোব্যাক ধ্বনিতে উত্তপ্ত পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হলেও আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসা কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য-সদস্যাদের আদর, অভ্যর্থনা, সৌজন্যবোধ,সিস্টাচারে এতটা আমুল পরিবর্তন কেন? বরঞ্চ দেখে মনে হচ্ছে, সহযোগিতার ডালি সাজিয়ে,লাল কার্পেট বিছিয়ে সাদর অভ্যর্থনা জানানোর অপেক্ষায় রাজ্য সরকার।

 

 

তবে কি জৈষ্ঠ মাস বলে, বাংলা ও বাঙ্গালীর বারো মাসের তের পার্বনের বিশেষ পর্ব, জৈষ্ঠ্যের জামাইষষ্ঠী পক্ষকালে অতিথি আসার আপ্যায়নে এই উষ্ণ অভ্যর্থনা? নাকি অন্য কোন অভিঃসন্ধি লুকিয়ে আছে এই ঘটনার নেপথ্যে। সমালোচকদের মতে, করোনা পরিস্থিতি পরিদর্শনের সময় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সহযোগিতা করলে রাজ্যের বে-আব্রু চেহারা বেড়িয়ে পরতো। আক্রান্তের তথ্য গোপন সহ রাজ্যের হাসপাতাল গুলির স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কঙ্কাল সার দেহ প্রকাশ্যে বেড়িয়ে আসতো। এজন্যই ছিল এত বিরোধীতা কিন্তু এখানে সরাসরি আমদানির স্বার্থ জড়িয়ে আছে। প্রতিনিধি দলকে খুশি সহ প্রভাবিত করতে পারলেই উদ্দেশ্য সফল। যদিও শাসকদল, সরাসরি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান নি।

 

 

মুখ্যমন্ত্রী যতই মুখে রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে করোনা এবং আমফান পরবর্তী পরিস্থিতির মোকাবেলার সৌজন্য বার্তা দিন না কেন, বাস্তবে কিন্তু করছেন উল্টো টা। বিরোধীদের বিশেষ করে মুল প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি কে একচুল ও মাটি ছাড়তে নারাজ। ত্রাণ বিতরণে বাধা সহ জনপ্রতিনিধিদের জোড়পূর্বক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য করছেন।শাসক দলের সার্বিক বিরোধিতা সত্বেও বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলি চাইছেন, ক্ষতিগ্রস্ত দের সঠিক মূল্যায়ন হোক। রাজ্যের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা যেন কোন অবস্থাতেই বঞ্চিত না হন।তারা পৃথক পৃথক ভাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলগুলির সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে চাইছেন।

 

 

কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা দুটি জেলাতে পরিক্রমা করবে। আজ থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলি পরিদর্শক সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন তারা। বিরোধী কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই চাইছে বিষয়টির সঠিক মূল্যায়ন হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা যাতে কোনও অবস্থাতেই বঞ্চিত না হয়, প্রয়োজনে যদি কোন আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়, তাহলে অবশ্যই যেন ক্ষতিগ্রস্থদের ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টে সরাসরি সেই আর্থিক অনুদান স্থানান্তরিত করা হয়,এই দাবি শাসক বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির।

Related Articles

Back to top button
Close