fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

এবার নিমতলায় হবে করোনায় মৃতদের দাহ, বিশেষ নির্দেশিকা জারি পুলিশ-প্রশাসনের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্যে উর্ধ্বগামী করোনা সংক্রমণের সঙ্গে বেড়ে গিয়েছে মৃত্যুর হারও। প্রত্যেকদিনই ২০০০-এর বেশি মানুষের সংক্রামিত হওয়ার খবর মিলছে এবং মারাও যাচ্ছেন গড়ে ৪০ জন করে। এর মধ্যে কলকাতাতেই মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ। এই বিশাল সংখ্যক মৃতদেহ সৎকারের জন্য ধাপার দুটি চুল্লিতে অত্যাধিক চাপ তৈরি হওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই নিমতলা মহাশ্মশানে কোভিড রোগে মৃতদের দাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ ও পুরসভা।

সূত্রের খবর, সব সময়ের জন্য না হলেও একটি বিশেষ সময়ে করোনায় মৃতদের দেহ দাহ করার জন্যই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে নিমতলা এলাকায় বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নিমতলা পুরনো কমপ্লেক্সটিকে করোনায় মৃতদের দাহ করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিমতলা শ্মশান এলাকায় রাত ১০টার পর রাস্তায় বেরোবার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত রাত ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই নির্দেশিকা জারি থাকবে।

জানা গিয়েছে, রাত ১০ টার পর নিমতলার পুরনো কমপ্লেক্সে সমস্ত করোনা মৃতদেহ নিয়ে আসা হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সব মৃতদেহ শ্মশানে ঢুকে যাবে, ততক্ষণ পুলিশ সমস্ত এলাকা ঘিরে রাখবে। তারপর সৎকার শেষ হওয়া পর্যন্ত পুলিশবাহিনী সেখানেই থাকবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে একমাত্র ধাপার ৪ টি চুল্লির মধ্যে ২ টি চুল্লিতে করোনা মৃতদেহ পোড়ানো হয়। হাসপাতাল থেকে দেহ সংগ্রহ করে পোড়ানোর জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২ টি বেসরকারি সংস্থাকে। এর মধ্যে আমফান পরবর্তী সময়ে ধাপার একটি করোনা চুল্লি খারাপ হয়ে যাওয়ায় বিপুল রোগীর চাপ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় প্রশাসনকে। তাই হাসপাতালের করোনা শয্যাবৃদ্ধির মতোই করোনায় মৃতদের দাহ করার জন্য অতিরিক্ত চুল্লিও খুঁজছিল প্রশাসন। প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করেই নিমতলার পুরনো কমপ্লেক্সকে এই তালিকায় নেওয়া হযেছে। সূত্রের খবর, শীঘ্রই ক্যানিং-এর একটি শ্মশানকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাহলে চাপ আরও কিছুটা কমবে। আরও বিভিন্ন এলাকায় তিন-চারটি শ্মশানের কথা ভেবে রাখা হয়েছে। যাতে শহরের শ্মশানের ওপর চাপ বেড়ে করোনা মৃতদেহ জমে না যায়। পরিস্থিতি কেমন দিকে এগোচ্ছে, তা দেখেই পরবর্তীকালে এই শ্মশানগুলিতে করোনা সংক্রমণের মৃতদেহগুলি দাহ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পুর প্রশাসনের এক কর্তার মতে, যেভাবে দিন দিন মৃতদেহ বাড়ছে তাতে একটি বা দুটি চুল্লিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের।

Related Articles

Back to top button
Close