fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাড়ছে সংক্রমণ, শ্রমিকের অভাব, সংকটে ১০০ দিনের কাজ

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়,আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় আসানসোল, দূর্গাপুর শহর সহ ব্লকগুলিতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকার তার প্রভাব গিয়ে পড়লো ১০০ দিনের কাজে। এই জেলায় ইতিমধ্যেই জব কার্ড নিয়ে ১০০ দিনের কাজ করা মানুষের সংখ্যা গত দেড় মাসের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

দেখা গেছে, জুলাই মাসে জেলায় করোনা আক্রান্তর সংখ্যা ঠিক যেভাবে বেড়েছে, ঠিক সেভাবেই ১০০ দিনের কাজ করতে আসা মানুষের সংখ্যাটাও কর্মীদের যোগ দেওয়া ততটাই কমেছে।

জেলায় ১০০ দিনের কাজে তথ্য থেকে জানা যায়, গত ১০ জুন ৩৮৮৪৬ জন ১০০ দিনের কাজ করেছিলেন। ঐদিন সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছিল দূর্গাপুরের কাঁকসা ব্লকে। সেদিন এই ব্লকে ৭৮৯৫ জন কাজ করেছিলেন। সবচেয়ে কম কাজ করেছিলেন পাণ্ডবেশ্বর ব্লকে ২৫৮৬ জন। গত ৩০ জুলাই জেলায় ১০০ দিনের কাজ করেছেন ১২১২৭ জন। তারমধ্যে কাঁকসা ব্লকে সবচেয়ে বেশি কাজ ২৭২৯ জন করেছেন। সবচেয়ে কম কাজ করেছেন জামুড়িয়ায় ৫২০ জন ।
করোনার প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিভাবে জব কার্ড হাতে নিয়েও কাজ করতে আসছেন না তার প্রমাণ হলো জেলা প্রশাসনের হাতে থাকা তথ্য। গত ১০ জুনের তুলনায় এক মাস পরে ১০ জুলাইয়ে প্রায় ১৭ হাজার লোক ১০০ দিনের কাজ করেননি। ১০ জুলাই ২১১১২ জন ১০০ দিনের কাজ করেছেন।

পশ্চিম বর্ধমান জেলায় করোনা আক্রান্তর সংখ্যা কিভাবে বাড়ছে, ও তার প্রভাব ১০০ দিনের কাজে গিয়ে পড়ছে তা স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট। দেখা যাচ্ছে, গত ১০ জুন যখন ৩৮ হাজারের বেশি লোক ১০০ দিনের কাজ করেছিলেন, তখন জেলাতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো মাত্র ৯০ জন। জেলায় তার ঠিক এক মাস পরে ১০ জুলাই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ১৯৫। সেখানে ১০০ দিনের কাজ করতে আসা মানুষের সংখ্যাটাও অনেক কমে যায়।
এই জেলায় ১০০ দিনের কাজের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট দিব্যেন্দু মজুমদার বলেন, প্রশাসন ১০০ দিনের কাজের জন্য অনেক মানুষকে জব কার্ড দিয়েছিলো। তারা কাজও করছিলেন। কিন্তু জেলায় করোনায় আক্রান্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গত দেড়মাসে ১০০ দিনের কাজ করতে আসা মানুষের সংখ্যাটাও অর্ধেকেরও কম হয়ে গেছে।

এটা সত্যি মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। তাই আমরা প্রতিটা ব্লকে ২ লক্ষ টাকা করে দিয়েছি। যাতে কাজ করতে আসা প্রত্যেককো মাস্ক ও স্যানিটাইজার দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও হয়তো মানুষ আতঙ্কে কাজ করতে আসতে চাইছেন না। আরেকটা বিষয় হলো, এই সময় পুরনো পুকুর কাটা যাবে না বা সংস্কার করা হচ্ছে না। এই কাজ না হওয়াতে হয়তো, কাজের লোক কমে গেছে। এই সময় গাছ লাগানো, মাটির যেসব কাজ আছে সেখানে তারা কাজ করছেন। প্রশাসনের অনুমান, দুর্গাপুজোর পরে নভেম্বর মাস থেকে আবার আগের চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষ এই জেলায় ১০০ দিনের কাজ করতে আসবেন। জেলার বিভিন্ন ব্লকে এখন ৫০% কর্মী দিয়ে কাজ চলছে। স্বাভাবিকভাবেই ফিল্ডে গিয়ে যে দেখাশোনাটা নিয়মিত করা দরকার সেখানেও কিছুটা ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে কর্মীর অভাবে।
যারা কাজ করতে আসছেন না এমন জামুড়িয়ার বাসিন্দা কয়েকজন বলেন, দিন ১৫ হলো ভয় কাজে যাচ্ছি না। কেননা আমরা যেখানে থাকি তার কাছাকাছি এলাকায় একজনের করোনা ধরা পড়েছে। এলাকায় আতঙ্ক আছে। একই কথা বলেন সালানপুর ব্লকে কাজ করতে না আসা মানুষেরা। অন্যদিকে, জানা গেছে, রানিগঞ্জ ও জামুরিয়া এলাকায় অবৈধ খনি থেকে কয়লা তোলার কাজ আবার শুরু হয়েছে। সেই কাজে ঝুঁকি থাকলেও, ১০০ দিনের থেকে, সেই কাজে বেশি টাকা পাওয়া যায়। তারা অনেকেই এখন ১০০ দিনের কাজ করতে যাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ বলেন, ১০০ দিনের কাজে না গিয়ে খনি থেকে কয়লা তুলে সাইকেলে করে তা বিক্রি করলে অনেক বেশি টাকা আসে। তবে, জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা বলেন, এমন কোন তথ্য তাদের কাছে নেই।

Related Articles

Back to top button
Close