fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

পুরসভার অন্দরেই কি করোনার আঁতুড়ঘর?

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা:  রাজ্য ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে করনা আক্রান্তের পারদ। ইতিমধ্যে কলকাতায় গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কার কথাও স্বীকার করেছেন সরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন অবস্থায় পুরসভার সামনের সারিতে যারা কাজ করছেন তারা একের পর এক কোরোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। পুরকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মুখে বললেও আদপে তার কোন চিহ্ন মাত্র নেই।

কলকাতা পুরসভার অন্দরেও হানা দিয়েছে এই মারণ ভাইরাস। তবে কি পুরসভার অন্দরেই তৈরি হচ্ছে করোনা আঁতুড়ঘর? আপাতত এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে লালবাড়ির অন্তর্মহলে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান প্রথম মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের হস্তক্ষেপ দাবি করে এদিন বামফ্রন্টের তরফে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। শহরে আমফান ঝড়ে খতিগ্রস্থ বাড়ির ত্রাণ বন্টনে দুর্নীতি, করনা আক্রান্ত পরিবার গুলির চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা সমস‍্যা সহ আট দফা দাবির কথা জানানো হয় ওই স্মারকলিপিতে।

এদিকে রাজ্যে করোনা সংক্রমনের নিরিখে একেবারে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। সেখানে কলকাতা পুরসভার মত অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামনের সারিতে কর্মরত কর্মীরা দিনের পর দিন আক্রান্ত হচ্ছেন এই মারন ভাইরাসে।

এই পরিস্থিতিতে পুরসভা কি ব্যবস্থা নিচ্ছে পুরসভার গৃহীত ব্যবস্থায় যে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে সে কথাই এদিন ওই স্মারকলিপিতে জানানো হয়। এই প্রসঙ্গে ৯৯ওয়ার্ডের আর এস পি কোঅর্ডিনেটর দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় জানান, কোরোনা ঠেকাতে রাজ্য সরকার তথা পুরসভা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। যতটা মুখে বলা হচ্ছে বাস্তবে তা রূপায়ন হচ্ছে না। তাই সংক্রমণ ক্রমশ উর্ধমুখি। করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে বেড নেই। সাহায্য তো দুরের কথা হেল্প লাইনে ফোন করলে কেউ ফোন ধরে না।  কন্টেইনমেন্ট নিয়ে রীতি মত প্রহসন চলছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা মিলছে না।

কন্টেইনমেন্টে করোনা আক্রান্ত পরিবারদের প্রযোজনীয় রসদ সরবরাহ করা হচ্চে না। এমন কি তাদের সু চিকিত্স্যার কোন বন্দবস্ৎ নেই। তার ওয়ার্ডে থাকা এক প্রসূতি মহিলাকে শিশুমঙ্গল হাসপাতাল থেকে কোরোনা আক্রান্ত হওয়ায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে হেল্পলাইনে ফোন করে কোন সুরাহা মেলেনি। তার ফোন পর্যন্ত তলা হয় নি। চূড়ান্ত অব্যবস্থা চলছে। এমন কি তার ওয়ার্ডে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা খতিপূরন পাননি অথচ অনেক ভুয়ো প্রাপক পুরো খতিপূরণ পেয়েছেন।তিনি বিষয়টির পূরনাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন।

একইসঙ্গে দেবাশিসবাবু পুরসভার পরিষেবামূলক পরিকাঠামোর দিকেও আঙ্গুল তুলেছেন। অভিযোগ করে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তিকে কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে তাদের তো কোনভাবেই বাইরে বেরোনো উচিত নয় সে ক্ষেত্রে পুরসভার তরফ থেকে ওই পরিবারকে সম্পূর্ণ সাহায্য করা উচিত কিন্তু সেই ব্যবস্থা এদের নেই। এরা পুরোটাই উপর উপর করছে।”এদিকে একের পর এক পুরকর্মীর আক্রান্ত হওয়া নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, “সামনের সারিতে কাজ করতে গেলে হয়তো আক্রান্ত হতেই হবে কিন্তু তার সাথে একই সঙ্গে দরকার নিরাপত্তা। পুর কর্তৃপক্ষ কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। দেবাশীষ বাবুর আরও অভিযোগ, “পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে সেই নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেই ফোন কেউ ধরেন না। এর ফলে মানুষ দিশেহারা হয়ে যাচ্ছেন। বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”

একইভাবে পুরসভার শ্রমিক কর্মচারি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অশোক সিনহাও পুরসভার গাফিলতির বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি জানান, “প্রথমে যখন ১০০ শতাংশ হাজিরা নিয়ে পুরসভার কাজ শুরু হয়েছিল। আমরা প্রথম থেকেই এর বিরোধিতা করে ছিলাম। এরপর সাত আট জন কর্মী আক্রান্ত হলো, দু তিন জনের মৃত্যু হলো। তখন আমরা পুনরায় ডেপুটেশন দিয়ে ১০০ শতাংশ হাজিরা নির্দেশকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছিলাম।” তার আরও অভিযোগ, “আগামী নির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে কর্মীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য সুরক্ষার তোয়াক্কা না করে কন্তাইনমেন্ট এলাকায় পাঠানো হচ্চে পুর কর্মীদের। পিপিই, হাতের দস্তানা, স্যানিতৈজর কোন কিছুর সু বন্দবস্ৎ নেই। পুর কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বালাই নেই। এমনকি এক বাসে গেদে গেদে আনা হচ্ছে পুর কর্মীদের। কার কোরোনা হয়েছে বা হয়নি বোঝার উপায় নেই। সম্প্রতি যিনি কোরোনায় আক্রান্ত হয়ে চন্দন নগরের বাসিন্দা যিনি মারা গেলেন। তিনি যে বাসে এসে ছিলেন সেই বাসের আরও দুজন কোরোনায় আক্রান্ত। এই ঘটনা যাতে না ঘটে তাই আমরা বারে বারে ১০০ শতাংশ হাজিরার নির্দেশ বাতীল করতে বলেছিলাম। কিন্তু পুর কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেনী। যেখানে রাজ্য সরকার পঞ্চাশ শতাংশ হাজিরার কথা বলছে সেখানে পুর কর্তৃপক্ষ কি ভাবে ১০০ শতাংশ হাজিরার কথা বলে? আর তাতে যা হওয়ার তাই হয়েছে। একের পর এক কর্মী আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করছে। মানুষের মৃত্যু মিছিল হবে আগেই আমরা জানিয়েছিলাম। আবারো জনাব কাজ না হলে বর সর আন্দোলনের পথে এগোব। সমাজিক দূরত্ব বিধির জন্য এখন ই তা করতে চাই না। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা করতে হবে। আমরা আমাদের ডেপুটেশনে জানিয়ে ছিলাম যে কোরোনায় মৃত্যু হলে রাজ্য সরকারি কর্মচারি দের এক কালীন টাকা দেওয়া হয়। পুর কর্মীদের জন্য সেই ব্যবস্থা করা হোক। স্থায়ী কর্মীদের জন্য এক কালীন ২০ লক্ষ ও আস্থযি কর্মীদের জন্য এক কালীন ১০লক্ষ টাকা ও পরিবারের একজন কে চাকরি দেওয়া হোক।’

যদিও এখন একের পর এক পুরো কর্মীর আক্রান্তের খবরে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে হাজিরার শতাংশ। পুরপ্রশাসক ফিরহাদ হাকিমও নিরাপত্তার সব দাবী খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close