fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

Covid19: বেসরকারি হাসপাতালের বিল নিয়ে সরব চিকিৎসকেরাও, স্বাস্থ্যসচিব ও AHEI কে চিঠি ডক্টরস ফোরামের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: করোনার সময়ে শুধু সাধারণ রোগীরাই নন, বেসরকারি হাসপাতালের বিপুল অঙ্কের বিলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে অসুস্থ চিকিৎসকদের। পরপর এরকম দুটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে এ রাজ্যেই। তাই এবার নিজেরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধেই পরিবর্তিত অবস্থান নিলেন চিকিৎসকরা। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি পাঠানো সহ অ্যাসোসিয়েশন অফ হসপিটালস অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া বা AHEI কে বিল-দুর্নীতি বন্ধের আবেদন জানাল রাজ্যের চিকিৎসকদের অন্যতম সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম।

বস্তুত, বেসরকারি হাসপাতালগুলি বিপুল মাত্রার বিল করার ক্ষেত্রে রাজ্যের চিকিৎসকদেরও ছাড় দিচ্ছেন না। কিছুদিন আগে মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন নামী চিকিৎসক সীতাংশু শেখর পাঁজা নামে চিকিৎসক অবসরের পর দমদমের একটি নার্সিংহোমের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও ২৪ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের হস্তক্ষেপে ১৬ লক্ষ টাকার বিল মেটাতে তার পরিবার বাধ্য হলেও পরে চিকিৎসকের মৃত্যু হয়। একইভাবে মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে শ্যামনগরে প্রখ্যাত চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্য্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হওয়ার পরেও ১৯ লক্ষ টাকা বিল করে হাসপাতাল। যে চিকিৎসক নিজে সারা জীবন বহু মানুষের নিখরচায় চিকিৎসা করেছেন, তার চিকিৎসার এই বিলে ক্ষেপে ওঠেন অনেকেই। স্বাস্থ্য কমিশন বিল রিভিউ করার নির্দেশ দিলে এক ধাক্কায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা কমানো হয়। তবু ১৮ লক্ষের মত টাকা মেটাতে হয় পরিবারকে।

যেখানে রাজ্যের চিকিৎসকদের এই অবস্থা সেখানে রাজ্যের সাধারণ মানুষের কি পরিস্থিতি হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। কোন বেসরকারি হাসপাতাল কোন পরিষেবার জন্য এবং কোন টেস্টের জন্য কি দর হাঁকছে, তা বুঝতে পারছেন না খোদ রাজ্যের চিকিৎসকরাও। অনেক চিকিৎসকের দাবি তারা বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। যার ফলাফলে চড়চড় করে বাড়ছে বিল। অবিলম্বে এই প্রবণতায় রাশ না টানলে চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বিপদে পড়বেন খোদ চিকিৎসকরাই, এমনটাই দাবি চিকিৎসক সংগঠনের।

সেই কারণেই রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব এবং বেসরকারি হাসপাতালে সংগঠনে এই চিঠি পাঠাল ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম। তাদের দাবি হাসপাতালগুলি পরিসেবার ক্ষেত্রে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকলেও অন্তত কিছু একটা গাইডলাইন তৈরি করা হোক, যাতে হাসপাতালগুলি এভাবে দিনে দুপুরে সকলের চোখের সামনে ডাকাতি না করতে পারে। অনেকদিন ধরে এই অভিযোগ থাকলেও করোনা মহামারীতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালগুলির এই ভয়ঙ্কর রূপ যেন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘খবরের কাগজ খুললেই নজরে আসছে হাসপাতালের আকাশছোঁয়া বিলের খবর। করোনা আবহে জনমানসে এই ধরণের খবর খারাপ বার্তা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ চিকিৎসকদের উপর খেপে যাচ্ছেন। যেখানে এই আকাশছোঁয়া বিল বা ভর্তির ক্ষেত্রে ডাক্তারদের কোনও ভূমিকাই নেই। চিকিৎসা ক্ষেত্রে কোনওরকম দুর্নীতি বা রোগীর পরিবারের কোনও হয়রানি হলে তা যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়।’ চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য কোনও কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল নেই। বেসরকারি ক্ষেত্রে করোনা চিকিৎসায় যা খরচ হচ্ছে, তা বহন করার ক্ষমতা অনেক স্বাস্থ্য কর্মীরই নেই। তাই স্বাস্থ্য সচিবের কাছে তাঁদের দাবি, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় যেন স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য লেভেল ফোর স্তরের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি রাখা হয়।’ একই ভাবে এই সমস্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সদর্থক ভূমিকা নিতে আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো সংগঠনের শীর্ষ কর্তাদেরও।

Related Articles

Back to top button
Close