fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনাকে কেন্দ্র করে ঘুঁটি সাজাচ্ছে দুই দল,পদ্মকে রুখতে পরিসংখ্যানে ভরসা তৃণমূলের

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী:   সামনেই ২১ শের বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এগোনোর লক্ষ্যে তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধে এবার জেলায় জেলায় সংগঠন কে আরো শক্তিশালী করতে নানান কর্মসূচি গ্রহণ করলো রাজ্য সরকার।

করোনা গ্রাসে বেসামাল গোটা দেশ। তিল তিল করে কোভিড-১৯ এর বিষে ঘায়েল করেছে পশ্চিমবঙ্গকেও। পাশাপাশি, আমফানের কাটা ঘায়ের দাগ এখনো শুকোয়নি। তার চিন্হ এখনো ছড়িয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে। এই দুটি বিপর্যয় মোকাবিলা করতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছে রাজ্য সরকারকে।

অন্যদিকে, এর ফায়দা তুলতে ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস পুরোপুরি ব্যর্থ। চাল চুরি, আটা চুরি, করোনা আক্রান্তের মৃত্যু সংখ্যা গোপন সবেতেই প্রথম তৃণমূল। আম্পানের পর পরিকল্পনা হীন ভাবে কাজ করেছে রাজ্য সরকার। গেরুয়া শিবিরের এই অভিযোগের বাণে বারবার বিদ্ধ হয়েছে সবুজ শিবির। এর ফলে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল মমতার সরকার। এমনটাই দাবি রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের।
এবার গেরুয়া শিবিরকে কড়া জবাব দিতে ময়দানে নামলো সমস্ত জেলার তৃণমূল বিধায়করা। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়া জমি পুনরায় ফিরে পেতে গেরুয়া শিবিরের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে কাজ করার ইঙ্গিত দিলেন রানাঘাট বিধানসভার বিধায়ক শঙ্কর সিং ও জেলা পরিষদের সভাপতি দীপক বসু।
এদিন নদীয়ার কল্যানীতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে শঙ্কর সিং বলেন, সুব্রত বক্সী,  মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আলোচনা করে কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতার মাশুল দিতে হচ্ছে জনসাধারণকে। আগামী ৫ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিধানসভার বিধায়করা নিজস্ব কেন্দ্র ভিত্তিক মানুষের সার্বিক দুর্দশার কথা তুলে ধরবে সারা বাংলায়। পাশাপাশি, কেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরা হবে। তিনি আরও বলেন, নদীয়ার জেলার বিভিন্ন বিধায়করাও সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো জন সাধারনের কাছে পৌঁছে দেবে। ১০তারিখের পর দল সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী কর্মসূচির।
জেলা পরিষদের সভাপতি দীপক বসু কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বিজেপি বাংলাকে ‘উহান অফ ইন্ডিয়া” হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার প্রতি ১০ লাখে ৫৬.৩৯ শতাংশ পজিটিভ কেস। এই পরিসংখ্যানে ১৩ নম্বর স্থানে রয়েছে বাংলা। পশ্চিমবঙ্গে করোনা মৃত্যুর হার প্রতি ১০ লাখে ৩.২৫ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘স্নেহের পরশ’ প্রকল্পের মাধ্যমে অন্য রাজ্যে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের নগদ এক হাজার টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার সমস্ত ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অপরদিকে, পরিমান মতো রেশন বিতরণ না করার অভিযোগে ৭৬২ জন ডিলারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৭৯জন ডিলারকে সাসপেন্ড ও ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু বিজেপি এর বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর প্রচার করছে।

তিনি আরো বলেন, আম্পানে ৯টি জেলার ৫লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। তাঁদের ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। MGNREGA- প্রকল্পের মাধ্যমে যাঁরা বাড়ি নির্মাণ করবেন তাঁদের ২৮ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close