fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তিন মেয়েকে দামোদর নদে ফেলে দিল বাবা, উদ্ধার ১

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: বাবার বিরুদ্ধে তিন নাবালিকা মেয়েকে দামোদর নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য আসানসোলে। বুধবার সকালের চিনাকুড়িতে দামোদর নদে আসানসোল পুরনিগমের এক কর্মী ঘটনার কথা জানতে পেরে একজনকে উদ্ধার করতে পারেন। তার শারীরিক অবস্থা ঠিক আছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে কুলটি থানা ও নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ এলাকায় যায়। দামোদর নদীতে জেলার সিভিল ডিফেন্স বা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের উদ্ধারকারী তল্লাশিতে নামলেও, বাকি দুজনের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘটনায় পুলিশ কুলটির চিনাকুড়ি ২ নংয়ের লাইন ধাওড়ার বাসিন্দা মিথিলেশ ঠাকুর (৪৮) কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। একইসঙ্গে  আটক করা হয় মিথিলেশের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সঙ্গীতা দেবী ও তিন নাবালিকার দাদুকেও   মিথিলেশের বাবা)। তাদেরকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

জানা গেছে, মিথিলেশ ঠাকুর কুলটির চিনাকুড়ি এলাকাতে একটি মুদির দোকানে কাজ করে। তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী বছর ছয়েক আগে বজ্রপাতে মারা যায়। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে ৷ পরে সে আবার একটা বিয়ে করে। দ্বিতীয় পক্ষের দুটি মেয়ে। বুধবার সকালে সাড়ে নটা নাগাদ মিথিলেশ দোকান যাওয়ার সময় তিন মেয়ে পিঙ্কি কুমারী (১২), চাঁদনি কুমারী (৬) ও লক্ষী কুমারী (২) কে সঙ্গে করে বাড়ি থেকে বেরোয়।

মিথিলেশ এরপর তিন মেয়েকে চিনাকুড়িতেই আসানসোল পুরনিগমের জল প্রকল্পের কাছে নিয়ে যায় ও দামোদর নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। মিথিলেশের এই কীর্তির একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হলো জল প্রকল্পের এক পুরকর্মী রাজ কুমার। তিনি বলেন, আমি এদিন সকাল দশটা নাগাদ জল প্রকল্পের উপরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেই সময় দেখি, একজন লোক তিনটে বাচ্চাকে নিয়ে ( একজনকে কোলে ও দুজনকে হাতে ধরে) নদীর মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আমি চিৎকার করে তাকে ডাকি। ঐ লোকটা আমাকে হাত দেখায়। আমি কিছু না ভেতরে চলে যাই। মিনিট কয়েক পরে আমার একটু সন্দেহ হয়। আমি সঙ্গে সঙ্গে বাইরে এসে দেখি, দামোদরে এক গলা জল সমান জায়গায় গিয়ে ঐ লোকটা তিনজনকে ছুঁড়ছে। আমি চিৎকার করতে করতে দৌড়ে যাই। আমার চিৎকার শুনে আশপাশের আরও ২/১ জন আসে। আমি নদীতে ঝাঁপিয়ে একটা মেয়েকে উদ্ধার করি। পরে জানতে পারি যে, যাকে উদ্ধার করি সে বড় মেয়ে। তার নাম পিঙ্কি কুমারী। জলে তলিয়ে গেছে চাঁদনি ও লক্ষী কুমারী। এরপরে খবর পেয়ে পুলিশ এলাকায় আসে। দুপুরে জেলা প্রশাসনের সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল আসে। তারা তল্লাশিতে নামে নদীতে ৷

কি কারণে ঐ ব্যক্তি এমন ঘটনা ঘটালো, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, পারিবারিক অশান্তির কারণেই সে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে৷ দুই মেয়ে খোঁজে নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এখনও পরিবারের তরফে পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ দায়ের করা হয় নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close