fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

তরল মাদক ও বাইক উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য নোয়াপাড়ায়

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর : উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার ইছাপুর ও গারুলিয়ায় দুটি ভিন্ন ঘটনায় জোড়া সাফল্য পেল নোয়াপাড়া থানা পুলিশ। সোমবার রাতে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ দুটি ভিন্ন ঘটনায় এক আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারকারী ও এক কুখ্যাত বাইক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে । দুই পাচারকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ। দুটি ঘটনাতেই একদিকে উদ্ধার করা হয়েছে ২ লিটার নিষিদ্ধ তরল মাদক এবং চোরাই বাইক । দুটি ভিন্ন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ । ধৃত কুখ্যাত মাদক পাচারকারীর নাম রাজা চৌধুরী । সোমবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ তাকে ইছাপুর অশোক নগর খেলার মাঠ থেকে গ্রেপ্তার করে ।

পুলিশ সূত্রে খবর, আন্তঃ রাজ্য মাদক পাচারকারী রাজা চৌধুরী ওই খেলার মাঠে নিষিদ্ধ তরল মাদক কোডউইন মিকচার পাচার করবে বলে দাঁড়িয়ে ছিল । স্থানীয় সূত্রে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ খবর পেয়ে সোমবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় । সেখানে পুলিশের হাতে নিষিদ্ধ তরল মাদকের জার সহ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে । পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ওই মাদক পাচারকারীর কাছ থেকে ২ লিটার নিষিদ্ধ তরল মাদক উদ্ধার হয়েছে । ধৃত ওই মাদক পাচারকারীকে জেরা করছে পুলিশ ।

অন্যদিকে, নোয়াপাড়া থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ল কুখ্যাত এক বাইক পাচারকারী, উদ্ধার হল চুরি যাওয়া একটি স্কুটি। ধৃতের নাম জানা  সুখেন দাস । সোমবার রাতে গারুলিয়ার কল্যানপল্লী এলাকা থেকে সুখেন দাসকে গ্রেপ্তার করেছে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ । দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশ এই বাইক পাচারকারীকে খুঁজছিল । পুলিশ সূত্রের খবর, সুখেন দাস নোয়াপাড়া এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী । ইছাপুর, গারুলিয়া, শ্যামনগর এলাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরি, ছিনতাই, তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে । সম্প্রতি ২৬ শে আগস্ট ইছাপুর নতুনপাড়া এলাকা থেকে শ্যামা চরন দাস নামে এক ব্যবসায়ীর স্কুটি চুরি করে নিয়ে পালায় এই সুখেন । সঙ্গে সঙ্গে তিনি নোয়াপাড়া থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন । তদন্তে নামে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ । মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই নোয়াপাড়া থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্কুটি সমেত পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করল । শ্যামা চরন দাস ভাবতেই পারেননি পুলিশ মাত্র ৫ দিনেই তার চুরি যাওয়া স্কুটি উদ্ধার করে দেবে । কিন্তু পুলিশ সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে স্কুটি ও উদ্ধার করেছে, পাচারকারীকে ও গ্রেপ্তার করেছে ।

পুলিশের ভূমিকায় খুশি স্কুটির মালিক শ্যামা চরন দাস নোয়াপাড়া থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন । তিনি বলেন, “আমার অসতর্কতার জন্য স্কুটি গাড়িটি চুরি হয়ে ছিল । আমি বাড়ির জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইছাপুর নতুনপাড়া এলাকায় এক আইনজীবির কাছে গিয়েছিলাম । তখন স্কুটির চাবি গাড়িতেই লাগানো ছিল” ।

এদিকে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ সূত্রের খবর মাদক পাচার বা বাইক পাচারকারীদের দলে শুধু একজন করেই নয়, এই পাচারকারীদের চক্রে জড়িত আছে অনেকেই । দুটি ভিন্ন ঘটনায় ২ দুষ্কৃতিকে জেরা করে মাদক পাচার ও গাড়ি পাচার চক্রকে ধরবার চেষ্টা করছে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীরা ।

Related Articles

Back to top button
Close