fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

প্রেমিককে দিয়ে স্বামীকে খুন মহিলার, চাঞ্চল্য কাটোয়ায়

দিব্যেন্দু রায়,কাটোয়া: কাটোয়ার জগদানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা পেশায় জনমজুর মাধব বাগের(৩৬) রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় আটক মৃতের স্ত্রী সোমা বাগ।  স্বামীকে খুনের কথা পুলিশি জেরায় কবুল করেছেন বলে জানা গেছে

জানা গেছে, ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে ঘটনার আগে স্বামী ও ছেলে-মেয়েকে রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন সোমাদেবী । তারপর গভীর রাতে যখন সকলে ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল তখন তিনি প্রেমিক প্রতিবেশী নারান প্রধান ওরফে নারায়নকে ফোনে ডেকে নেন । তারপর নারান এসে মাধবের গলায় নাইলনের মশারি পেঁচিয়ে ধরে। সেই সময় স্বামীর পা’দুটো চেপে ধরেছিলেন সোমাদেবী। শেষে কাজ হাসিল হতেই নারান পালিয়ে যায়। তারপর দরজা লাগিয়ে স্বামীর মৃতদেহের পাশে যথারীতি শুয়ে পড়েন সোমাদেবী। জেরায় পুলিশ এমনই তথ্য জানতে পেরেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পুলিশ খুনে ব্যবহৃত মশারিটি উদ্ধার করেছে ।
শুক্রবার রাতে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে সোমা বাগ ও নারান প্রধানের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তারই ভিত্তিতে ওইদিন রাতে সোমা বাগকে গ্রেফতার করে পুলিশ ।

শনিবার তাঁকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে দশ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয় । তবে অন্য অভিযুক্ত পলাতক। পুলিশ তার সন্ধান চালাচ্ছে।

জানা গেছে,ভাতার থানার কাঁটার গ্রামে বাপের বাড়ি সোমা বাগের। বছর সতেরো আগে মাধব বাগের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে ব্রজেশ দশম শ্রেনীর ছাত্র। মেয়ে রিঙ্কু নবম শ্রেনীতে পড়াশোনা করে। জানা গেছে,সোমাদেবী বয়সে বছর দুয়েকের ছোট প্রতিবেশী যুবক নারানের(৩০) সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন । দুজনে প্রায়ই একান্তে মিলিত হত। তাঁদের এই সম্পর্কের কথা পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশী কারোর অজানা ছিল না। এনিয়ে সোমাদেবীর সঙ্গে তাঁর স্বামী মাধবের প্রায়ই অশান্তি হত বলে পরিবার সুত্রে জানা গেছে।
মৃতের দাদা গদাই বাগ বলেন, ‘ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী নারান প্রধানের সম্পর্কের কথা আমরা সবাই জানতাম । ভাইও জানত। এনিয়ে আমরা কিছু বলতে গেলেই বধূ নির্যাতনের মামলা করার হুমকি দিত বউমা। সেই ভয়ে আমরা সব মুখ বুজে সহ্য করতাম । কিন্তু ভাইকে এরকম নৃসংসভাবে খুন করে দেবে কল্পনাও করতে পারিনি। আমরা চাই ভাইয়ের খুনিদের যেন দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হয়।

Related Articles

Back to top button
Close