fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

বুদবুদের স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি চালনায় অভিযুক্ত ৫ পুলিশের জালে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বুদবুদে স্বর্ন ব্যবসায়ীকে গুলি করে লুটের ঘটনায় ধরা পড়ল ৫ দুস্কৃতী। উদ্ধার হয়েছে লুট হওয়া টাকার কিছু অংশ ও সোনার কিছু গহনা। ধৃতদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন খারিজ করে দেন।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম লোকমান শেখ গলসীর পারাজের বাসিন্দা। শাহিল মন্ডল বর্ধমানের বাসিন্দা। চক্রের মুল পান্ডা সাহিন শেখ, রাকেশ শেখ, আলো শেখ ওরফে চঞ্চল মঙ্গলকোটের বাসিন্দা। আসানসোল-দুর্গাপুর ডিসি (পুর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানান,” ধৃতদের কাছ থেকে একটি দেশী নাইন এমএম পিস্তল, ৬ রাউন্ড কার্তৃজ ও একটি ম্যগজিন বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অভিযোগে দায়ের হওয়া দেড় লক্ষ টাকার মধ্যে ৯ হাজার ৯৬০ টাকা ও ৮ ভরির মধ্যে ২৫ শতাংশ গহনা উদ্ধার হয়েছে।” প্রসঙ্গত, গত ১৪ আগষ্ট সন্ধ্যা নাগাদ বুদবুদ থানার ঢিল ছোড়া দুরত্বে সুকান্ত নগর প্রাইমারি স্কুলের সামনে এক স্বর্ন ব্যাবসায়ীর ওপর সশস্ত্র দুস্কৃতী হামলা হয়। আক্রান্ত সমর সরকার বর্ধমানের বাসিন্দা। বুদবুদ মানকর রোডের নিউ মার্কেটে তার গহনার দোকান রয়েছে।

এছাড়াও বুদবুদ সুকান্তনগরে তার শ্বশুরবাড়ী। ওই দিন সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে শ্বশুরবাড়ী যাওয়ার সময় তার ওপর হামলা হয়। তিন দুস্কৃতী তাকে লক্ষ করে গুলি চালায়। এবং তাঁর কাছে থাকা টাকা ও গহনা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুস্কৃতীদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরবাইক আটক করে। থানার কাছাকাছি এরকম একটি ঘটনায় রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। বুদবুদ বাজারে ওই ব্যাবসায়ীর দোকানের আশপাশের সিসিটভির ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বুধবার রাত্রে একসঙ্গে পারাজ, মঙ্গলকোট ও বর্ধমানের দুই জায়গায় অভিযান চালায়। এবং ৫ জন কে গ্রেফতার করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। ডিসি(পুর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানান,” ঘটনায় আটক হওয়া মোটরবাইকটিও চুরির। ঘটনার ১৫ দিন আগে বর্ধমান সদরে চুরি করেছিল দুস্কৃতীরা। ধৃতদের মধ্যে লোকমান শেখ ওই স্বর্ন ব্যাবসায়ীকে কয়েকদিন ধরে অনুসরন করেছে। অর্থাৎ ঘটনায় রেইকির কাজ করেছে। লোকমানের সবুজ সঙ্কেত মত সাহিন শেখ ঘটনার পরিকল্পনা তৈরী করে। এবং শহিল, রাকেশ ও চঞ্চলকে দিয়ে ওই ছিনতাইয়ের কাজটি করার জন্য বলে।”

তিনি আরও বলেন,”ধৃতরা ঘটনার স্বীকার করেছে। জেরায় লুট করা টাকা ও গহনা তাদের বাড়ীতে রয়েছে বলে জানিয়েছে। ধৃতরা অতিতে এধরনের ঘটনায় যুক্ত রয়েছে কিনা তার তদন্ত চলছে। এখনও একজনের খোঁজ চলছে। আদালতে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।” ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।

Related Articles

Back to top button
Close