fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তৃণমূলে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না, বিধায়ক পদ ছেড়ে দিক মিহির গোস্বামী: জলিল আহমেদ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: “তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না, তার চাইতে বিধায়ক পদ ছেড়ে দিক মিহির গোস্বামী”-কুচবিহারের আক্রমণের সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল আহমেদ। তিনি আরো বলেন, যে মানুষ সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে পারে না তার বিধায়ক থাকার কোন দরকার নেই। দলের জন্মলগ্ন থেকে দল করে আসছেন জলিল আহমেদ, সেই অর্থে তিনি দলের বিশেষ কোনো দায়িত্ব কোনদিনই পাননি, কিন্তু কোনোভাবেই তিনি কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমালোচনা করেননি। তাই দলে থেকে দলের সুপ্রিমো সমালোচনাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে নারাজ তিনি।

 

তিনি বলেন, মীর গোস্বামী দলত্যাগ করলে বলেন বিশেষ কোনো ফারাক পড়বেনা। শুধু তাই নয় জলিল বাবু কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যের দুই মন্ত্রী, জেলা সভাপতি দীর্ঘদিন থেকে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে এবং রাজ্য নেতৃত্ব লাগাতার তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি তাদের সাথে কথা বলছেন না, এই ব্যবহার কিসের ইঙ্গিত?? তিনি যদি দল ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যান তাহলে দলের কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি জহির আহমেদের। এর আগেও অনেকেই দল ছেড়ে চলে গেছেন তাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল সুপ্রিমো কোনরকম কোনো প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

 

প্রসঙ্গত কোচবিহার জেলা এবং ব্লক কমিটি গঠন হওয়ার পরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামী।দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি জেলা তথা রাজ্যের কোন নেতৃত্ব সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা বন্ধ করে দেন তিনি। সম্প্রতি কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক তার বাড়িতে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানাতে পৌঁছালে রাজনৈতিক আলোচনা এবং জল্পনা বিরাট আকার ধারণ করে।শুধু তাই নয় কোচবিহার জেলার নতুন দল তৈরি গঠনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মিহিরবাবু বলেও জল্পনা শোনা যাচ্ছে, শুধু সবমিলিয়ে কোচবিহারের এখন রাজনৈতিক তরজা মিহির গোস্বামী কে কেন্দ্র করে চলছে।

 

রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারা সহকারে সংবাদমাধ্যম সকলেরই নজর রয়েছে এই একই বিষয়ের উপরে।তাই হয়তো কোথাও ব্যাকফুটে লক্ষ্য করে এই ধরনের মন্তব্য করেছেন জলিল আহমেদ। এই মন্তব্য চলাকালীন কার্যত জলিল বাবুর পাশ থেকে চেহারা নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায় জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় কে।সুতরাং তার এই আচরন অবশ্যই জলিল বাবুর বক্তব্যকে সমর্থন না করে তাফসীর করে উড়িয়ে দেওয়ার উপক্রম বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

প্রসঙ্গত, সোসাল মিডিয়াতে সক্রিয় মিহির ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছেন  তৃণমূল সুপ্রিমো র বিরুদ্ধে।তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, “ আজ যখন দেখছি দিদির দলে কোনো ঠিকাদার থিংকট্যাংক কোম্পানি ঢুকে পড়ে তছনছ করে দিচ্ছে ঘরবাড়ি, অপমানিত জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অথচ দিদি অন্তরালে নির্বিকার, তাহলে সেই ঘরবাড়ির মতই দিদির প্রতি এতদিনের সব আস্থা ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়াটাই কি স্বাভাবিক নয়?” অভিমানী সুরে ফেসবুক পোস্টে মিহির গোস্বামী লেখেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যারা কুকথা বলেছেন,কুৎসা করেছেন তাঁদেরকেই আবার দলে স্বাগত জানানো হচ্ছে। এজন্য এই একাধিকবার অপমানিতও হতে হয়েছে তাঁকে। দলের তরফে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও কিছুই পূরণ হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন মিহির বাবু।

Related Articles

Back to top button
Close