fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে দেরি! এনআরএসে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বৃদ্ধের, কাঠগড়ায় বেসরকারি ল্যাব

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃদ্ধের পেটের অসুস্থতার ধরন বুঝতে ৫ দিন আগে সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু ৫ দিন পরেও ওই রিপোর্ট তো আসেইনি, এমনকি আরও শারীরিক অবনতি হয় ওই বৃদ্ধের। তার পরেও রিপোর্ট না আসায় চিকিৎসা শুরুর আগেই মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হল ৭৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ বিপুল রাহাকে। আর এই ঘটনায় কোনও চিকিৎসকের গাফিলতি নয়, বরং আঙুল উঠেছে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরির দিকে। যদিও কোভিড আবহে অতিরিক্ত চাপের কথা বলে নিজের দায় সারতে চেয়েছে ওই ল্যাব।

প্রসঙ্গত, এনআরএসের এই ল্যাবের মত রাজ্যের একাধিক হাসপাতালেই সিটি স্ক্যান থেকে এমআরআইয়ের মত একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হয়ে পড়েষ কিন্তু বাইরে ল্যাব খুঁজে টেস্ট করানো অনেক রোগীর পরিবারের পক্ষেই ব্যয়সাধ্য হয়ে পড়ে।তাই পিপিপি মডেলে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সিটি স্ক্যানের দায়িত্বে থাকা ওই বেসরকারি সুরক্ষা ল্যাবরেটরিতেই সিটিস্ক্যান, এমআরআই থেকে করোনা পরীক্ষার মত একাধিক চিকিৎসা হয়। এরকম হয় রাজ্যের অনেক সরকারি হাসপাতালেই। বেসরকারি ল্যাবে এইসব পরীক্ষার খরচ অনেক বেশি হলেও কিন্তু সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি ল্যাবগুলিতে খরচ কম। কিন্তু খরচ কম বলে সেখানে যদি রিপোর্ট দিতে এত দেরি হয়, তাহলে তো রোগীর প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটে যাবে। এনআরএস হাসপাতালের সুপার অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাই কোনও মন্তব্য করবেন না।

সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে পেটে ব্যথা থাকায় পেটের সিটি স্ক্যান করার নির্দেশ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু ওই সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট আসতে ৪-৫ দিন দেরি হয়ে যায়। এই দেরি হওয়ার ফলেই চিকিৎসা শুরু করা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে সুরক্ষা ল্যাবরেটরির মালিক সঞ্জয় ব্রিজলালকার তরফে জানানো হয়েছে, খরচ কমে যাওয়ায় রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে এই অভিযোগ ঠিক নয়। তাঁদের দাবি, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই চিকিৎসকরা কোভিড রোগীদের নিয়ে ব্যস্ত। তাই তাঁদের ল্যাবেও কর্মীর সংখ্যা কম। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে ল্যাব থাকায় খরচ কম হওয়ায় সেখানে রোগীর ভিড় বেশি হচ্ছে। আর তার ফলেই এই দেরি হচ্ছে। কখনই তারা ইচ্ছাকৃত দেরি করেন না। বিষয়টি তারা সমাধানের চেষ্টা করবেন।

Related Articles

Back to top button
Close