fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বর্ষাকালীন মৌপালনে সুসংহত পরিচর্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি: আদিকাল থেকেই মধু শিশুর প্রযোজনীয় একটি খাদ্য হিসাবে নির্ধারিত হয়ে আসছে। শুধু শিশু নয়, বয়স্কদের জন্যও মধু উপকারী। বিভিন্ন রোগের মহৌষধি বলে বিশেষজ্ঞরা মধুকে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া কৃষিক্ষেত্রে পরাগায়নের জন্য মৌমাছির ভূমিকা অপরিসীম।

পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছির পালন ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গতেও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে মৌপালন করা হয়। মৌপালন কৃষির এক সহায়ক বৃত্তি। বর্ষাকালের পরই শুরু হয় মধুঋতু। তাই মধুঋতুর প্রাক্কালে কৃত্রিম উপায়ে যে এপিস মেলিফেরাপ্রজাতির মৌমাছির পালন করা হয়, তার সুসংহত পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। বর্ষাকালীন মৌমাছির সঠিক পরিচর্যাই দিতে পারে অধিক মধু।

মধুঋতুর প্রাক্কালে মৌমাছিকে কৃত্রিম খাদ্যের যোগান দিতে হবে, কারণ এই সময় ফুলের বৈচিত্র ও প্রাচুর্য কম থাকার কারণে মৌমাছির প্রাকৃতিক খাদ্যের অভাব দেখা যায়। কৃত্রিম খাবার হিসাবে গাঢ় চিনির রস দিতে হবে। যে কোনও মৌপালকের উচিৎ মধু ঋতু শুরুর আগেই কৃত্রিম উপায়ে চাক তৈরি করে নেওয়া এবং মাল্টিপ্লিকেশনের কাজটি সেরে রাখা। বয়স্ক রানি মৌমাছিকে ঋতু শুরু হওয়ার আগেই বদলে ফেলতে হবে। এই সময় অর্থাৎ বর্ষাকালে মৌমাছি বিভিন্ন ধরনের রোগ ও কীটের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। এবার জেনে নেওযা যাক এই সমস্ত রোগ ও কীটের হাত থেকে কেমন করে মৌমাছিকে রক্ষা করতে হবে।

মৌমাছির ভারোয়াসিস ও অ্যাকারাইন রোগ দেখা দিলে ফলবেক্স স্ট্রিপ জাতীয় ধূপক কৃষিবিষ প্রয়োগ করতে হবে। ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ফাউলব্রুড রোগের প্রতিকারে ক্যারামাইসিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক কৃত্রিম খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এক্ষেত্রে ১ ভাগ চিনি ১ ভাগ জলের মিশ্রণে তৈরি করা সরবত থেকে ১০০ মিলি পরিমান সরবত নিয়ে তাতে ১০০ মিলিগ্রাম ক্যারামাইসিন মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। মৌমাছি পালনে সব থেকে বেশি ক্ষতিকারক মাকরের উপদ্রব।

এরা মৌমাছির দেহে রোগ সৃষ্টি করা ছাড়াও মৌচাকে সঞ্চিত মোম ও পরাগ খেয়ে নেয়। কোনও মৌমাছির বাক্সে যদি এই কীটের উপদ্রব দেখা দেয় তাহলে যে ফ্রেমে এটি দেখা গেছে সেই ফ্রেমটিকে বাইরে বার করে দিতে হবে। সম্ভব হলে আক্রান্ত বাক্সটিকে অন্য বাক্সের থেকে আলাদা জায়গায় রাখতে হবে। আক্রান্ত মৌবাক্স কোনও আবদ্ধ জায়গায় রেখে ফর্মালিন অথবা অ্যাসেটিক অ্যাসিডের ধোঁয়া প্রয়োগ করে আক্রমণের তীব্রতা কমানো যেতে পারে। কোনও কোনও মৌপালক ৮০ শতাংস গন্ধকের গুড়ো প্রয়োগ করে থাকেন।

ঋতু শুরু হওয়ার আগে প্রতি পুরনো বাক্স থেকে মৌমাছিদের ফ্রেমগুলি বার করে কাঠের সংযোগ স্থলে ব্লোফ্লেম ব্যবহারের দ্বারা আগুনের শিখা দিয়ে কাঠের ফাঁকে লুকিযে থাকা পোকামাকড় মারা যেতে পারে। ভ্রাম্যমাণ মৌপালকদের ক্ষেত্রে এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময় তারা মৌভূমি বা এপিয়ারি গ্রাউন্ড নির্বাচন করে থাকেন। অবশ্যই যে মৌভূমিতে ফুলের প্রাচুর্য থাকে। মৌভূমির কাছাকাছি পরিষ্কার জলের বন্দোবস্ত করতে হবে। আলো-বাতাস ঢোকে না কিংবা ঘন জঙ্গল নির্বাচন না করাই ভালো। কোলাহল পূর্ণ মৌভূমি নির্বাচন করা উচিৎ নয়। বর্ষাকালে যদি এইভাবে মৌপালনে সঠিক পরিচর্যা করা যায় তাহলে উপযুক্ত পরিমাণ মধু পাওয়া সম্ভব হবে।

Related Articles

Back to top button
Close