fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পানচাষের কথা… 

নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানা, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, গোসাবা, বাসন্তী সহ ১০টি  ব্লকের বিপুল সংখ্যক মানুষ পান চাষের উপর নির্ভরশীল। এছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক, নন্দকুমার, রামনগর এবং মহিষাদলের বহু মানুষও এই পান চাষ করে জীবনযাপন করেন। মুর্শিদাবাদ জেলাতেও পানের চাষ চোখে পড়ে। এছাড়াও নদিয়া জেলার পলাশীতে ৪০০ বেশি পরিবার পানচাষের সঙ্গে যুক্ত। সেখান থেকে সমগ্র নদিয়া জেলা, মুর্শিদাবাদ এবং কলকাতাতেও পান সরবরাহ করা থাকে।সারা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০ রকমের পানপাতা পাওয়া যায়, তার মধ্যে ভারতে ৪৫ প্রজাতির আর এই রাজ্যে ৩০রকমের পানের চাষ করা হয়। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ১.৫ কোটি চাষী পানচাষ করেই অর্থ উপার্জন করে থাকেন।

আদ্র এবং গরম পরিবেশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি পান চাষের পক্ষে উপযুক্ত। ঋতু অনুযাযী পানের বরজে জলের প্রয়োজন হয়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে প্রচুর জল লাগে আবার বর্ষাকালে চাষ করার সময় খেয়াল রাখতে হয় যাতে গাছের গোড়ায জল না জমে, তাতে ক্ষতি হতে পারে। সেই কারণে মার্চ থেকে মে মাসের ভিতরে যখন চাষের জন্যে নিরোগ লতা বা কাটিং রোপন করা হবে সেই সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে মাটি থেকে ১৫-৩০ সেমি-এর তফাতে গাছ রোপন করা হয়। তারও আগে পানচাষের জন্য নির্বাচিত জমিতে ৫-১০ সেমি পর্যন্ত  মাটি ফেলে এলাকাটিকে উঁচু করতে হবে। এরপর মাটিতে ৪ থেকে ৫ বার চাষ দিতে হবে। সেই সময়ও খেয়াল রাখতে হবে যে সেই মাটিতে কোনোভাবেই জল না দাঁড়ায়। পান গাছ লাগাবার আগে বেশ কয়েকবার জমিতে ফেলা মাটির শুদ্ধিকরণ করতে হবে। গরমকালে মাটিকে আরও বেশি উষ্ণ করবার জন্য পলিথিন দিয়ে মাটিকে ঢেকে  রাখতে হবে।

            আরও পড়ুন: একের পর এক বিপর্যয়….. নেপালে ভূমিধস, মৃত ১৮, নিখোঁজ বহু

পানচাষে পাতা ও কাণ্ডপচা রোগ, ঢোলে পড়া রোগ, ছত্রাকজনিত অ্যানথ্রাকনোজ পাতা পচা রোগ, গোড়াপচা রোগ প্রভৃতি দেখা যায়। এর ফলে পুরো পানের বরজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাটি থেকে উৎপন্ন এই সমস্ত রোগের জীবাণুকে মারতে হেক্টর প্রতি ০.৫ নিম কেক বা হেক্টর প্রতি ১.৫ কেজি কারবোফোরান মাটিতে মেশানো প্রয়োজন। অবশ্য পান গাছ যখন সম্পূর্ণ মাত্রায় বেড়ে উঠবে তখন কিন্তু কারবোফোরান ব্যবহার করা যাবে না। এক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হবে ৬৫-৭৫ দিন।

পানচাষ পরিপূর্ণ হলে চাষীরা সরাসরি ক্ষেত থেকেই খোলা বাজারে তা পাঠিয়ে দেন বিক্রির জন্যে। বিশ্বজুড়ে বর্তমানের করোনা মহামারীর কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্যে এবং কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া আমফান ঝড়ের জন্যে রাজ্য জুড়ে পানচাষের প্রভুত ক্ষতি হয়েছে। সেই কারণে পানচাষীরা আর্থিকভাবে দুর্দশাগ্রস্ত। তাদের দিন কাটছে দুশ্চিন্তায়। পূর্ব মেদিনীপুরের জনৈক পানচাষী জানান, এই পরিস্থিতি আগামী কযেক মাস চলতে থাকলে রাজ্যের ৫০ শতাংস পানের বরজ বন্ধ হয়ে যাবে। প্রধানত মুখশুদ্ধির জন্যে পানের ব্যবহার করা হলেও, হজমশক্তি বাড়াতে ও  বিভিন্ন ধরনের ভেষজ হিসাবেও পান ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই অবস্থায় পানচাষের অস্তিত্ব বজায় রাখতে সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close