fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সুগন্ধী জুঁই ফুলের চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইংরেজিতে এই ফুলকে বলা হয় জ্যাসমিন। এর সুগন্ধ অনেক ধরনের কাজে লাগানো হয়। গাছের পাতা প্রায়  ইঞ্চি ২ লম্বা হয়। জুঁই ফুল কী কী কাজে লাগে? পুজো, ঘর সাজানো ছাড়া সুগন্ধি প্রস্তুতকারকদের বিপুল পরিমানে জুঁই ফুলের প্রয়োজন হয়। তাছাড়াও সাবান, শ্যাম্পু, তেল প্রভৃতি প্রস্তুতিতেও এই ফুলের প্রয়োজন হয়।

আমাদের দেশে প্রধানত জুঁই ফুল পঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাডুতে প্রভূত পরিমানে চাষ করা হয়।  নানান রকমের জমিতে এই ফুল চাষ করা হয়। বালি জমি, এঁটেল মাটির জমি, বিভিন্ন রকমের জমিতে এই ফুলের চাষ হয়। ভালো ফলন পেতে হলে অর্গানিক সার অধিক পরিমানে জমিতে মেশাতে হবে। বিভিন্ন প্রজাতির জুঁই ফুলের চা হয়। জুঁই ফুলের গড় ফলন প্রতি একরে ৩৫ কুইন্টাল হয়। সিও- এই প্রজাতির জুঁই ফুল প্রতি একরে ৪৬ কুইন্টাল ফলন দেয়।

আরও পড়ুন: বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বাগদায় বিজেপির রাস্তা অবরোধ

চামেলী জুঁই ফুলের বীজ বা চারা প্রথম তৈরি হয় তামিলনাডু বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই ধরনের ফুলের ফলন প্রতি একরে ৪৮ কুইন্টাল হয়। গুন্ডমালী জাতের জুঁই ফুলের রং কিছুটা গোলাপি হয়। এর ফলন ৩০-৩২ কুইন্টাল প্রতি একরে। অর্ক সুরভি ফুলের গন্ধ ভীষণ সুন্দর। রং একটু গোলাপি হয়। এর ফলনও প্রচুর পরিমানে হয়। প্রায় ৪০-৪১ কুইন্টাল জন্মায় প্রতি একরে। এই প্রজাতির প্রথম ফুলটি তৈরি হয়েছিল ব্যাঙ্গালোর ইন্ডিয়ান  ইন্সটিটিউট অব হর্টিকালচার রিসার্চে।

জমি তৈরিতে প্রথমে জমিটিকে আগাছা শূন্য করতে হবে। তারপর চাষের জমিটিকে দুবার লাঙল দিয়ে চাষ করুন। বপনের একমাস আগে জমিটিকে ভালো করে ৩০ সে.মি/৩০ সে.মি আকৃতির একাধিক বেড তৈরি করুণ। জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এর রোপনের উপযুক্ত সময়। গাছগুলো রোপন করতে হবে ২৫ সে.মি. গভীরে। জুঁই ফুলের চাষ গ্রাফটিং করে অথবা টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে করা যায়। এক একটি পিঠে একটি করে গাছ লাগানো হয়।

সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি একরে ইউরিয়া ১৩০ কেজি, ফসফেট ১৮ কেজি প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও নিমখোল প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাবেন। সঙ্গে একটু জিঙ্ক-ম্যাগনেসিয়াম অল্প মাত্রায় প্রয়োগ করুন। এই চাষে আগাছা দমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমবার জমিতে আগাছা জন্মানোর একমাস পরে এবং ২-৩ মাস পরে আবার উপড়ে ফেলুন। গাছের সঠিক বৃদ্ধিতে জুঁই ফুল চাষে সেচের প্রয়োজন হয়।  প্রথম দিকে সপ্তাহে একবার সেচ দেওয়া জরুরী।

জুঁই ফুলের জমিতে রোগ হওয়ার প্রবণতা থাকে।  যদি দেখা যায় গাছের বৃদ্ধি ঠিক মতো হচ্ছে না এবং পরবর্তী সময়ে পাতা ঝরে যাচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে গাছের নিমাটোড রোগ হয়েছে।সেক্ষেত্রে ১০ গ্রাম সারফ স্প্রে করলেই ফল পাবেন। পাতার নীচের দিকে গোড়া পচা রোগ হয়। সব থেকে ভালো হয় যদি অক্সিক্লোটার ২.৫ গ্রাম এক লিটার জলে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। নতুন পাতা গজানোর সময় খুব সাবধানে এক ধরনের পোকা গাছের পাতা খেয়ে ফেলে। সেক্ষেত্রে মনোক্রোটাফস এবং এক লিটার জলে ২ মিলি মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। রেড স্লাইডার সাইট- এই পোকাগুলো গাছের উপরের অংশ থেকে খেতে শুরু করে। সালফার প্রয়োগ করলে এতে ভালো কাজ হয়। তাছাড়াও ম্যালাসিয়াম প্রয়োগ করা যেতে পারে।

এই গাছে ছ মাস সময় লাগে ফুল আসতে।  প্রতি বছরই এই ফুলের ফলন বৃদ্ধি পায়।  প্রথম বছরে যদি প্রতি একরে ৮০০ কেজি ফলন হয়। দ্বিতীয় বছরে দেখা যাবে ১৬০০ কেজি ফলন হচ্ছে। তৃতীয় বছরে প্রতি একরে ২৬০০ কেজি ফলন হয়। চতুর্থ বছরে হয়ত বা ৩৬০০ কেজি প্রতি একরে ফলন পাওযা যেতে পারে।

Related Articles

Back to top button
Close