fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জাপানি কোয়েল পালন…

নিজস্ব প্রতিনিধি: কোয়েল বা বটেরা গ্যালিফার্মিস বর্গের অন্তর্গত এক মাঝারি আকারের ভূচর পাখি। এই পাখির পালকের রং কালচে, সাদা, বাদামী বা এই তিনটি রঙের মিশ্রণেও হয়ে থাকে। কিছু বড় জাতের কোয়েল বাণিজ্যিক ভাবে মাংস ও ডিমের জন্য পালন করা হয়। এটি বেশ লাভজনক ব্যবসা। এটি মূলত ইউরোপ এবং নর্থ আমেরিকায় দেখা যায়।

শোনা যায়, এই পাখির পালন সর্বপ্রথম শুরু করে জাপানিরা। জাপানিদের সেই পাখির পালন বর্তমানে বাড়িতেই সম্ভব। এই পদ্ধতি আজ সারা বিশ্বে খুবই জনপ্রিয়। কোয়েল চাষের জন্য প্রথমে কোনও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে হবে বাচ্চা কোয়েল। কোয়েলের বাচ্চাকে ব্রুডারে রেখে তার পালন করার এক বিশেষ পদ্ধতি আছে। এই পদ্ধতিতে বাচ্চাকে শূন্য থেকে তিন সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত রাখতে হয়। এই সময় ব্রুডার ঘরের তাপমাত্রা সঠিক মানে না থাকলে বাচ্চা কোয়েল মারা যেতে পারে।

                      আরও পড়ুন: সর্বরোগহরা ড্রাগন ফল চাষে সফল খেজুরির দেবাশীষ

বাচ্চা রাখার আগে ব্রুডিং ঘরটি ঠিক করতে হবে। ব্রুডিং করার সময় প্রতি বাচ্চা পাখির জন্য ৭৫ বর্গসেমি জায়গা রাখতে হবে। কোয়েল পালন প্রধানত দুটি পদ্ধতিতে করা হয়ে থাকে। ডিপলিটার পদ্ধতি ও খাঁচা পদ্ধতি। খাঁচা পদ্ধতিটি বেশি জনপ্রিয়। খাঁচা পদ্ধতিতে জালের ফাঁক যেন ৩ মিলি-র বেশি না হয়। একেকটি খাঁচার দৈর্ঘ্য ১১০-১৪০ সেমি, প্রস্থ ৫০-৬০ সেমি হতে হবে। ১০০ পাখির জন্য ১ লিটার জল রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এর উচ্চতা ১৫-২০ সেমি হওয়া উচিত। এই পদ্ধতিতে পাখির বাচ্চা যাতে পিছলে পড়ে না যায় তার জন্য মেঝেতে তারজাল পেতে তার ওপর কাগজ বা চট পেতে রাখতে হবে। যদি অনেক দূর থেকে কোযেলের বাচ্চা সংগ্রহ করা হয় তাহলে ধকল পড়ে। তাই ব্রুডারে কোয়েলের বাচ্চাকে এনে রাখার সঙ্গে সঙ্গে এদের গ্লুকোজ এবং ইলেক্ট্রোলাইট মেশানো জল দিতে হবে।

                     আরও পড়ুন: বাজারের চাহিদা মেটাতে উন্নত মানের পেঁপে চাষ

যদি গ্রীষ্মকালে কোয়েল পালন করতে চান তাহলে ব্রুডার ঘরের তাপমাত্রা রাখতে হবে ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এরপর প্রতি সপ্তাহে ৫ ডিগ্রি করে তাপমাত্রা কমাতে কমাতে তিন সপ্তাহ পর ৮০ ডিগ্রিতে আনতে হবে। আর যদি শীতকালে এই পাখির চাষ শুরু করা হয় তাহলে ব্রুডার ঘরের তাপমাত্রা ১০০-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে শুরু করে তাপমাত্রা কমাতে কমাতে ৪ সপ্তাহ বাদে ৮৫ ডিগ্রিতে আনতে হবে। ব্রুডার ঘরের তাপমাত্রা ঠিক আছে কিনা তা বোঝা যায় বাচ্চাদের চলাফেরা দিয়ে। যদি তাপমাত্রা বেশি হয় তাহলে তারা তাপের উৎস থেকে দূরে থাকবে এবং ঝিমোবে। আর যদি কম থাকে তাহলে তাপের উৎসের কাছাকাছি গাদাগাদি করে থাকবে। যদি তাপমাত্রা সঠিক হয় তাহলে বাচ্চারা স্বছন্দে ঘোরা ফেরা করবে।

 

এবার বলা যাক খাদ্য ও জলের ব্যবস্থা সম্পর্কে। প্রথম দিন বাচ্চাদের ভুট্টার গুঁড়ো কিংবা প্রিস্টাটার স্ম্যাশ খাওয়াতে হবে। এরপর ২৭ শতাংস প্রোটিন ও ৮০০ কিলো ক্যালোরি বিপাকীয় শক্তি যুক্ত খাদ্য পরিমান মতো দিতে হবে। সঙ্গে সঠিক পরিমানে বিশুদ্ধ জলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। খাদ্য ও জলের পাত্রের সংখ্যা অধিক রাখতে হবে যাতে করে বাচ্চারা সহজেই খাবার ও জল পেতে পারে। তাছাড়া ব্রুডার ঘরে খাবার ও জলের পাত্র সব সময় পরিস্কার রাখতে হবে। এইভাবে কোয়েল বাচ্চার পরিচর্যা করলে ধীরে ধীরে দুমাস বয়সের পর থেকে এরা ডিম দিতে শুরু করে। আরও কয়েক মাস পর থেকে এগুলিকে মাংসের জন্যও বাজারজাত করা যাবে।

Related Articles

Back to top button
Close