fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ম্যারিগোল্ড বা গাঁদা ফুলের চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ম্যারিগোল্ড বা বাংলায যাকে বলে গাঁদা ফুল| বাংলায এই ফুল অসম্ভব জনপ্রিয়| তার প্রধান কারণ যে কোনও ধরনের মাটিতে এই ফুলগাছ বড় হযে ওঠে এবং সেই গাছে প্রচুর ফুল ফোটে| আরেকটি কারণ এই ফুল ও গাছের ফলন খুব ভালো হয়| মজার ব্যাপার হল গ্রীষ্মেও এই ফুলের ফলন ভীষণ ভালো হয়| আফ্রিকান ম্যারিগোল্ড- এই প্রজাতির ফুলটি বেশ বড় আকৃতির হয়| এর বিভিন্ন রকমের রং-ও আছে| যেন পাতিলেবুর রং, হলুদ রং, কমলালেবুর রং প্রভৃতি ফ্রেঞ্চ ম্যারিগোল্ড-এটির আকৃতি অপেক্ষাকৃত ছোট হয়| এদেরও রং-এ বৈচিত্র রযেছে| যেন সোনালী রং, হলুদ রং, কমলা রং এবং লাল রং|

গাঁদা ফুল চাষের উপযুক্ত জমি-বিভিন্ন রকমের জমিতেই এই ফুলের চাষ করা যায়| তবে তার আগে মাটিতে গোবর সার দিযে চাষ করলে ভালো ফলন হয়| যে জমিতে জল ধরে রাখার উপায় আছে, সেই সব জমি চাষের পক্ষে খুবই উপযুক্ত| গাঁদা ফুল যেহেতু সারা বছর পাওয়া যায়, তাই এর বিরক্তি খুব বেশি|

ফুলের রোপন- ম্যারিগোল্ড বা গাঁদা ফুল দুভাবে চাষ করা যায় বীজের মাধ্যমে এবং কাটিং করে|

বীজের পরিমান- এক হেক্টর জমিতে দেড় কেজি বীজই যথেষ্ট| বীজ লাইনে রোপন করা যায় অথবা বীজ ছড়িযেও চাষ করা যায়| প্রথমে বীজতলা প্রস্তুত করতে হবে| ১০ কেজি কম্পোস্ট সার ৩ মিটার-১মিটার বীজতলায় প্রযোগ করুন| মাঝে মাঝে জল ছিটিযে বীজতলাগুলো যাতে শুকিয়ে না যায, সেদিকে লক্ষ রাখুন|

রোপনের সময়- জুন মাসের শেষের দিকটা গাঁদা ফুল গাছ রোপনের আদর্শ সময়| এছাড়াও সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্তও গাঁদা ফুলের গাছ রোপন করা যায়| তাছাড়াও যদি গ্রীষ্মকালে এই গাছ রোপন করতে হয, তাহলে গ্লাস হাউসের ভিতর রোপন করলে ভালো হয়|

সার প্রযোগ- সর্বাধিক ফলন পাওয়ার জন্য নাইেˆট্রাজেন, ফসফেট ও পটাশ নিম্নলিখিত মাত্রায় প্রয়োগ করুন| দু’মাসে দু’বার এই সব সার প্রয়োগ করবেন| জমিতে হেক্টর প্রতি ২০০ কেজি নাইট্রোজেন, ১০০ কেজি ফসফেট এবং ১০০ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করুন| জমি তৈরির সময অর্ধেকটা নাইেˆট্রাজেন প্রযোগ করুন| পরে বাকি অর্ধেক নাইেˆট্রাজেন প্রযোগ করুন| এরপর প্রায়  মাস পরে গাঁদা ফুলের চারা গাছগুলো জমিতে রোপন করুন| ফসফেট ও পটাশ জমি তৈরির সময প্রযোগ করলেই ভালো হয়|

আরও পড়ুন: বর্ষায় জলদি হাইব্রিড ফুলকপির ফলন

সেচ ব্যবস্থা- গাঁদা ফুলের গাছ প্রায় দুমাস সময় নেয় বড় হতে| এই সমযটায় গাছগুলিতে ঘন ঘন জল দিতে হবে| ঘন ঘন মানে দশদিন পরে পরে সেচ দিলে খুব ভালো হয়| গ্রীষ্মকালে চার-পাঁচদিন অন্তর অন্তর সেচ প্রয়োগ করুন| গাছের উপরের দিকটা যদি একটু আগে কাটা হয়, তাহলে গাছের পাতাগুলো তাড়াতাড়ি গজাবে আর এই প্রক্রিয়াতে ফুলের ফলন অনেক বেশি হবে|

গাছের রোগ- গাঁদা গাছের রোগের প্রাদুর্ভাব সচারচর হয়না| তবে মাঝে মাঝেই রোগগুলি দেখা যায়| একটি রোগ ইংরেজি বলে ‘ড্যাপিং অফ’, এতে  খযেরি রং-এর দাগ দেখা যায়| সেরকম দরকার হলে ‘ব্রাসিকল’ ছিটিযে দিন| পাতার নীচের দিকটায় গেলে গোল দাগ দেখা যায| ফলত গাছ বেশিদিন বাঁচে না| এ ক্ষেত্রে খুব ভালো হয় যদি ‘ডাইথেন-এম-৪৫’ দুই সপ্তাহ অন্তর -২-৩ বার স্প্রে করুন| এ ছাড়াও আরও একটি রোগ হতে পারে| খুব ছোট ছোট দাগ গাছের পাতায় হলে দু সপ্তাহ অন্তর ‘ব্যরাথোন’ পাউডার ছড়িযে দিন| গাছে যদি রেড স্লাইডার সাইট রোগ হয, তাহলে গাছের ফুল ফোটার ঠিক আগে একটি ধোঁযাশা আভা দেখা যায| এক্ষেত্রে ১ লিটার জলে ১মিলি ‘সুভ্রাকন’ বা ‘রোগার স্প্রে’ করুন| হেযারি ক্যাটারপিলার এই রোগটি হলে গাছের পাতা একটু একটু করে খেযে ফেলে| এক্ষেত্রেও র লিটার জলে ‘নুভ্যান’-৫- ইসি মিশিযে স্প্রে করুন| ভালো কাজ দেবে| নিযমিত ফুল তুললে প্রতি হেক্টরে ২০০-২২৫ কুইন্টাল ফুল পাওয়া যাবে| শীতকালে ফুল তুললে ১৫০-১৭৫ কুইন্টাল ফুল পাওযা যায প্রতি হেক্টরে| গ্রীষ্মকালে ফলন আরও কম হয| প্রতি হেক্টরে ১০০-২০০ কুইন্টাল ফুল|

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close