fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নদিয়ায় কাজলি জাতের পটল চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: গরমকালের একটি উল্লেখযোগ্য ফসল পটল। এর বাজারী চাহিদাও যথেষ্ট । শুধু গরমকাল নয়, প্রায় সারা বছরই এই ফসল সহজলভ্য। তবে বছরের বিভিন্ন সময়ে এর চাষ হয়। কাটিং পদ্ধতিতে মাচায় যাঁরা পটলের চাষ করেন তারা প্রায় তিন বছর পর্যন্ত একই মাচা থেকে ফসল তুলতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গে কুমড়ো গোত্রের যে সকল ফসলের চাষ হয় তার মধ্যে পটল চাষ বেশ লাভজনক। চাষিভাইরা মূলত কাজলী জাতের পটল চাষে আগ্রহী কারণ এই জাতের পটল দূর রফতানিতে নষ্ট হয় না। কার্তিক মাসের শেষে অর্থাৎ অক্টোবর মাসে এই ফসল চাষে উদ্যোগী হন চাষিভাইরা।

 

নদিয়ার কৃল্লনগরের চাষি তাঁর ১ বিঘে জমিতে পটল চাষেরˆপ্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর লংকার জমিতে মাচা করে কাটিং পদ্ধতিতে তিনি পটল চাষ করবেন। তিনি জানালেন চাষের পদ্ধতি। চারটে গিট যুক্ত ১২ ইঞ্চি লতার কাটিং নিয়ে প্রতি লিটার জলে ৩ গ্রাম থাইরাম গুলে পটলের লতা ২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর মাটিতে একটানা লতাগুলো লাগাতে হবে। তবে সারির দূরত্ব থাকবে ছ ফুট। মাটির

৩ ইঞ্চি নীচে লতা লাগিয়ে মাটি চাপা দিয়ে দিতে হবে। বৃষ্টি যদি হয় তাহলে ভালো না হলে হালকা সেচ দিতে হবে। এভাবে এক বিঘে জমিতে প্রায় ছ’হাজার পটলের চারা তৈরি করা সম্ভব। লতা রোপনের ২০-২৫ দিনের মাথায় চারা বেরোবে। এরপর যখন ধীরে ধীরে গাছ বড় হতে শুরু করবে তখন তাকে মাচায় তুলে দিতে হবে। গাছের বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাটিতে উপযুক্ত সার দিতে হবে।

লতা যত শক্ত হবে সারের পরিমাণ তত বাড়বে। প্রথম দিকে ২০ কিলো সার দিলে, পরে ২২ কিলো, ২৫ কিলো করে দিতে হবে। মাচায় পটল চাষের সুবিধে হল রোগ ও পোকার উপদ্রব কম হয়। পরাগমিলন ভালো হয়। ফলত উৎকৃষ্ট গুণমানের পটল হয়। ফলন অনেক দিন ধরে পাওয়া যায় এবং লাভও বেশি হয়। মাচায যখন ফুল দেখা যায তখন পরাগমিলন করাতে হয়। মনে রাখতে হবে প্রতি ১০টি স্ত্রী পটলগাছের সঙ্গে রটি পুরুষ পটলগাছ রাখতে হবে। পরাগমিলনের জন্য পুরুষ ফুল তুলে নিযে একটি পাত্রে গুলে ড্রপার করে স্ত্রী ফুলের ওপরে এক ফোটা করে দিতে হবে।

এই কাজটি খুব ভোরে উঠে করতে হয় যাতে রোদ ওঠার আগেই শেষ করা যায়। পরাগ মিলনের পর ফল ধরতে শুরু করলে তা বাজারজাত হতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। কার্তিক মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে লতা লাগালে বৈশাখ মাসের শুরুতে অন্ড পটল তোলা যেতে পারে। তবে জ্যৈষ্ঠ থেকে যত দিন যা তত ফলন বাড়ে। একদিনে প্রায় ২-৩  কুইন্টাল, এমনকী ৫-৬ কু্ইন্টাল পর্যন্ত পটল তোলা যায়। মাচার খরচ, লেবার খরচ নিয়ে প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা লাগে। তবে বিঘা প্রতি ৭০-৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে চাষিদের। পোকামাকড় খুব একটা না ধরলেও সাদা মাছির উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়। সেক্ষেত্রে সাদা মাছির প্রকোপ থেকে বাঁচতে নিযমিত কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

 

Related Articles

Back to top button
Close