fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অপ্রচলিত লাল বাঁধাকপির চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিদেশের মাটিতে বিশেষ করে ইওরোপ, আমেরিকা এবং আফ্রিকায় লাল বাঁধাকপির ফলন দেখা যায়। বিদেশি এই সবজিটি ভারতে অপ্রচলিত হলেও উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, অসম, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি জায়গায় এই বিশেষ ধরনের বাঁধাকপির চাষ শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার চাষি চিত্তরঞ্জন মণ্ডল বেশ কিছুদিন ধরে এই অপ্রচলিত সবজির চাষ করে আসছেন এবং লাভের মুখও দেখছেন।

এই বাঁধাকপির চাষ পদ্ধতিটি কেমন?

প্রথমে এই বাঁধাকপির বীজ থেকে চারা করে নিতে হবে। প্রধানত দুরকমের লাল বাঁধাকপির জাত পাওয়া যায়। এক-রুবি কুইন ও দুই-রেড জুয়েল। রুবি কুইন প্রজাতিটির চারা লাগানোর দিনের মধ্যে গুটি আসতে শুরু করে, অন্যটি চারা লাগানোর প্রায় ৮০ দিন বাদে ফলন দেখা দেয়। প্রথম প্রজাতিটি মূলত শীতকালেই হয়, অন্যদিকে রেড জুয়েল অপেক্ষাকৃত গরম সহ্য করতে পারে। বীজ তোলার মাটিটিকে বেশ ঝুরঝুরে করে তার ওপর ৩ ইঞ্চি নালি কেটে হাফ ইঞ্চি গভীরতায় ওই নালীর ভেতরে ২ ইঞ্চি অন্তর বাঁধাকপির বীজ রোপণ করে ওপরে হালকা মাটি চাপা দিয়ে ঝাঝরি দিয়ে জল দিয়ে দিতে হবে। এর ৪-৫ দিন পর বীজ ফুটে চারা বের হবে।

প্রায় ২০-২৫ দিন পর চারাগুলি মূল জমিতে রোপণের উপযুক্ত হয়। মূল জমি তৈরি করার সময় ৩-৪ বার লাঙল দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এই সময় গোবর ও কম্পোসট সারের সঙ্গে কিছু দানা জাতীয় রাসায়নিক সারও ব্যবহার করা হয়। এরপর সমতল জমিতে দেড়ফুট দূরত্বে চারা রোপণ করতে হবে। সারি-সারি এবং চারা-চারা উভয়ের দূরত্বই দেড়ফুট রাখতে হবে। এভাবে এক কাঠা জমিতে প্রায় ৩২০টি মতন চারা রোপণ করা যাবে। চারা বসানোর এক সপ্তাহ পর আগাছা নিড়ানি দিয়ে তুলে মাটিটা শুকনো করে নিয়ে সেচ দেওয়া শুরু হয়। ২০-২৫ দিন পর প্রথম চাপান সার দেওয়ার আগের দিন একটু সেচ দিয়ে পরের দিন রাসায়নিক সার দিয়ে চাপান সার দেওয়া হয়।

চারা লাগানোর প্রতি ৭-১০ দিন অন্তর সেচ দিতে হবে এবং সেই সঙ্গে ইউরিয়া, ১০-২৬ ইত্যাদি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এইভাবে পরিচর্যা করে ৬৫ দিন বাদে ফসল বাজারজাতকরণের উপযুক্ত হয়। একসঙ্গে সব ফসল কাটা হয় না। এক একবার এক এক কাঠার জমির ফসল কাটা হয়। মূলত এই লাল বাঁধাকপি কলকাতার নিউমার্কেটে বিক্রি হয়। শীতকালের শুরুতেই এই চাষ করে বাজারজাত করা যায়। জমিতে এই ফসল রাখা যায় অনেকদিন কারণ সাধারণ সবুজ বাঁধাকপির থেকে লাল বাঁধাকপির পাতা অনেক বেশি মোটা হয় এবং

এই বাঁধাকপিতে পোকা ও রোগের প্রকোপ খুবই কম। তবু যেটুকু রোগের প্রকোপ দেখা যায় তার জন্য নিয়মিত নিমতেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া যখন বাঁধাকপিতে গুটি আসে, তখন প্রতি কাঠায় দেড় কেজি অ্যামোনিয়াম সালফেট দেওয়া হয় তাতে

কপি নিরেট হয় এবং রংটা সুন্দর হয়। সবরকম মাটিতেই এই চাষ সম্ভব কিন্তু বেলে-দোআঁশ মাটি হলে পরিচর্যা করতে সুবিধে হয়। প্রতি কাঠায প্রায় ৩০০ কেজি ফসল তোলা যায়। কাঠা প্রতি খরচ এক হাজার টাকা। যদি ২০ টাকা করেও দাম পাওয়া যায় তবে ছ’হাজার টাকা কাঠা প্রতি পাওয়া যায় এবং পাঁচ হাজার টাকা লাভ থাকে চাষিদের।

Related Articles

Back to top button
Close