fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঋতুভিত্তিক ফসল মটরশুঁটি চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: শীতের ফসল মটরশুঁটি। অনেকেই আছেন মার্চ মাসের শেষে যখন মটরশুঁটির পরিমাণ বাজারে কমতে থাকে, তখন বেশি করে কিনে ডিপফ্রিজে রেখে দেন যাতে আরও কিছু মাস মটরশুটির স্বাদ জিভে পান। আশ্বিন মাসের শুরু থেকে এই ফসলের বীজ রোপণ শুরু হয়।

ভারতে কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বিহার জ্ঞ্রভৃতি জায়গায় উৎকৃষ্ট মটরশুটির ফলন হয়। শিম্বগোত্রের এই ফসল পরিণত অবস্থায় ডাল আর কাঁচা অবস্থায় মটরশুটি। তবে সবজি এবং ডাল চাষ করার জন্য আলাদা আলাদা জাতের প্রয়োজন হয়। পছন্দের এই ফসল চাষে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করেন চাষিভাইরা, তা জেনে নেওয়া যাক।
বেলে-দোআঁশ মাটিতে মটরশুটির চাষ ভালো হয়। জমি একটু উঁচু হলে ভালো হয়। ফলন শুরুর আগে মাটি তৈরির জন্য জমিকে ৭-৮ বার চাষ দিয়ে নিতে হবে। শেষ চাষটি অবশ্যই রোটার দিয়ে দিতে হবে। এতে মাটি সুন্দর ঝুরেঝুরে হবে।

এই শেষ চাষের সমযয়ই মাটিতে বিঘা প্রতি ২০ কেজি মতো ১০-২৬-২৬ এবং গোবর সার এক ট্রলি (বেশি হলেও ক্ষতি নেই), এছাড়াও কিছু অণুখাদ্য এবং বিঘায় অন্তত ৩ কেজি ফুরাডন দানা ইত্যাদি সার দিতে হবে। এক বিঘে মটরশুটি চাষের জন্য ১৬-১৮ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। সুন্দর লম্বা লাইন দিয়ে লাগালে১৫ কেজিতেও হয়। বীজ রোপণের আগে মাটিতে বেড তৈরি করতে হবে এবং জল নিকাশী ব্যবস্থা সঠিক করার জন্য ড্রেন কাটতে হবে। টানা সেচ মটরশুটি চাষে লাগে না। মূলত ছিটান পদ্ধতিতে সেচ দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত পিএসএম জাতটি চাষ করা হয়। বীজ রোপণের আগে ৫ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিরিডি দিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে| সুন্দর জো করে লাইন করে নিয়ে তাতে মটরশুটির বীজগুলি বসাতে হবে।

এক্ষেত্রে একটি গাছ থেকে অন্য গাছের দূরত্ব হবে ৫-৬ ইঞ্চি এবং লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব হবে ৮-১০ ইঞ্চি। বীজ বসানোর ১৫-২০ দিনের মাথায় একবার সেচ দিতে হবে। ফুল দেখা দিলে আরও একবার সেচ দেওয়া জরুরি। এই চাষে নাইেট্রাজেন সার ব্যবহার উপকারী। বীজ রোপণের ২০-২৫ দিন পর প্রথম চাপান সার হিসাবে প্রায় ২০ কেজি ইউরিয়া সার দিলে ভালো হয়। কিছুদিন পরে দ্বিতীয় চাপান সারে আরও ১৫ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করা উচিত। ভালো মটরশুটি তৈরি করতে কিছু অণুখাদ্যের প্রয়োজন হয়। প্রতি লিটার জলে ২ গ্রাম বোরণ অনুখাদ্য মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। চাষের একদম শুরুতে ফুল আসার আগে, কিছু ফুল আসলে পর এবং ফুল ঝরার সময় বোরণ দেওয়া জরুরি। এই চাষেও রযেছে কিছু সমস্যা। মূলত দুটি রোগ দেখা যায় মটরশুটিতে। ফুল ঝরে যাওয়া এবং পাতায় দাগ কিংবা পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া এই রোগ থেকে মুক্তির জন্য
রাসাযনিক ছত্রাকনাশক ম্যানকোজেব ২-৫ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে প্রয়োগ করতে হবে।

এটি স্টিকার সহ স্প্রে করলে ভালো হয়। এছাড়া ফলপচা রোগে বেবিস্টিন কিংবা হেক্সাকোনাজোল দেড় মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে প্রয়োগ করা উচিত। এসবের পাশাপাশি নানা ছোট পাখি মাঠের ফসলের ক্ষতি করতে পারে। এর জন্য যদি পুরো মাঠটি নেট দিযে ঢেকে দিলে পাখির উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বীজ বপনের ৯০-১০০ দিনের মধ্যে ফলন উঠে যায়। ঋতুভিত্তিক ফসল হওয়ায় অল্প দিনের এই চাষে লাভের সুযোগ থাকে বেশি। অগ্রহায়ণ মাসের শেষে ফসল তুলতে পারলে ভালো বাজার পাওয়া যায়, তবে ফসল তুলতে তুলতে পৌষমাস হয়েই যায়। চাষিভাইরা ৩৫-৪০ হাজার পর্যন্ত লাভ করতে পারেন।

Related Articles

Back to top button
Close