fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফ্রেজারগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা প্রচার, কাকদ্বীপে মহকুমা শাসকের দফতরে চলছে বৈঠক

বিশ্বজিত হালদার, কাকদ্বীপ: ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড় আমফান এগিয়ে আসছে বাংলার দিকে। ইতিমধ্যে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। গত দু’দিন ধরে ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, রায়দিঘি, সাগরে মৎস্য দফতর থেকে আগাম সতর্কতা দিয়ে প্রচার শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে সুন্দরবনে সমস্ত ফেরিঘাট বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোন ফেরি চলাচল করবে না।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর-সহ জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সেই সতর্কবার্তার পর শুরু হয়েছে প্রশাসনিক বৈঠক। শনিবার দুপুরে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য তড়িঘড়ি কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক শৌভিক চট্টোপাধ্যায় জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা, সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি, কাকদ্বীপ, সাগর, পাথরপ্রতিমা, নামখানার বিডিও। ছিলেন ওই মহকুমার থানার আইসি ও ওসিরা। এছাড়াও বৈঠকে ছিলেন মৎস্যজীবি সংগঠনের নেতৃত্ব।

 

ঘূর্ণিঝড় আসার আগে সমুদ্র ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলি থেকে কিভাবে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে আনা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। মৎস্যজীবী সংগঠনগুলিকেও সর্তক করা হয়েছে। কোনভাবে ঝড়ের সময় কোন ট্রলার বা নৌকা সমুদ্রে বা নদীতে যেন না থাকে। কারণ গত বছর নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে কয়েটি ট্রলার নদীতে থেকে যাওয়া। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বেশ কয়েকটি ট্রলার। ১০ জনের বেশি মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয় ট্রলার ডুবে। তবে গত ১৫ এপ্রিল থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। ফলে কোন ট্রলার নদী বা সমুদ্রে নেই। সব ট্রলার বন্দরগুলিতে নোঙর করা আছে।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী মঙ্গল, বুধবার নাগাদ এরাজ্যে প্রবেশ করবে ঘূর্ণিঝড়। ঝড়ের পাশাপাশি প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বুলবুলের গতিপথ ধরে এই ঝড় আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। গত ২০০৯ সালে ২৫ মে আইলা আছড়ে পড়েছিল সুন্দরবনে। ঠিক এগারো বছরের মাথায় মে মাসে সুন্দরবনে আবার দুর্যোগের ভ্রুকুটি।

লকডাউনের মধ্যে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়ে ত্রস্থ গোটা সুন্দরবনবাসী। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা বলেন,‘ প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য বৈঠক হল। সবরকমভাবে প্রস্তুত থাকছে সরকার। প্রয়োজনে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের তুলে নিয়ে আসা হবে।’

Related Articles

Back to top button
Close