fbpx
অফবিটহেডলাইন

ডি ট্যান ফেসমাস্ক ১৫ দিনে বাজিমাত

দোয়েল দত্ত:  বছরভর সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রে আর পরিবেশ দূষণ সবমিলিয়ে ত্বকে চট করেই ট্যান হয়ে যায়৷ ঠান্ডার দেশে  সূর্যের আলো গায়ে লাগানো রীতিমতো বিলাসিতা, তবে আমাদের দেশে একটু রোদে বেরোলেই ট্যান হয়ে যাওয়ার আশংকা৷ আর সারাবছর অফিস হোক বা বাড়ির কাজ সামলে কতটুকুই-বা সময় পাওয়া যায় এই ট্যান তোলার জন্য৷ আর এবারের পরিস্থিতিটা তো একেবারেই আলাদা৷ লকডাউনের ফলে অধিকাংশ মানুষই গৃহবন্দি৷ স্যাঁলোতে যাওয়া মানেই করোনার ভয়, তাহলে উপায়? শেষ কয়েকটা দিনে একটু তো চেহারায় জেল্লা ফেরাতে হবে৷ তাই বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন ডি ট্যান ফেসমাস্ক।

 

 ১.অ্যালোভেরা, মধু হলুদের মাস্ক

অ্যালোভেরার পাতা কেটে জেলটা বের করুন, এর মধ্যে একচামচ মধু আর সামান্য হলুদ যোগ করুন৷ সমস্ত উপকরণকে ভালো করে মিশিয়ে নিন৷ এবারে ব্রাশের সাহায্যে ওই ফেসমাস্ককে মুখে লাগান৷ ১০-১৫ মিনিট রাখুন, ঠান্ডা জলে ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে হালকা করে মুছে নিন৷ ৩-৪ দিন অন্তর ১৫ দিন ব্যবহার করলেই পার্থক্যটা বুঝুন৷

. টমেটো প্যাক

পাকা টমেটো ধুয়ে নিন টুকরো করুন৷ এরপরে মিক্সিতে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন৷ এবারে প্যাকটা ম্যাসাজের মতো করে মুখে লাগান৷ অন্তত কুড়িমিনিট রাখুন৷ জল দিয়ে ধুয়ে মুখটা শুকনো হতে দিন৷ তারপরে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না৷ সপ্তাহে ২ বার এই মাস্ক ব্যবহার করে পার্থক্যটা বুঝুন৷

.মিল্ক পাউডার, মধু পাতিলেবুর রস

সমপরিমাণ মিল্ক পাউডার ও মধু নিয়ে একটা বাটিতে মেশান৷ এর মধ্যে দিন অৰ্ধেক পাতিলেবুর রস৷ এমনভাবে মেশাবেন যেন মিল্ক পাউডার ডেলা না পেকে যায়৷ মিল্ক পাউডার একসঙ্গে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেলের উৎস, তাই এর ল্যাকটিক অ্যাসিড ট্যান দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে৷ এরপরে ব্রাশ করে এই মিশ্ৰণটা মুখে ভালো করে লাগান৷ কুড়ি মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন৷ এরপরে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিলেই কেল্লাফতে৷ তবে একদিনেই ট্যান দূর হবে না, সপ্তাহে অন্তত দুবার ব্যবহার করতে হবে৷

.বেসন, হলুদ, দই

একসঙ্গে তিনটি উপকরণ নিয়ে পেস্ট করুন৷ মুখে লাগিয়ে মিনিট পনেরো রেখে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন৷ এরপরে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না৷ প্রতি একদিন অন্তর রাত্ৰে শোওয়ার সময়ে এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন৷ ট্যান ত্বকে পুজোর আগে খুব দ্রুত কাজ করে এই প্যাকটি৷ এক্সফোলিয়েটর হিসাবেও এটি দ্রুত কাজ করে৷

.কফি, হলুদ দই

এক টেবিলচামচ কফি ও এক টেবিলচামচ হলুদগুঁড়ো নিয়ে  প্রথমে মেশান৷ আন্দাজবুঝে এর মধ্যে দই দিন, যাতে থকথকে পেস্টের মতো তৈরি হয়৷ কুড়ি মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে আস্তে আস্তে সানট্যানে বিবৰ্ণ হয়ে যাওয়া ত্বকে আসবে উজ্জ্বলতা৷ কফি ত্বকের মরাকোষ তুলতে  কাজ করে৷ এমনকী নিয়মিত ব্যবহারে দূরে হটবে পিগমেন্টেশনও৷

.দুধ হলুদ

এই দুইয়ের উপকারী গুণে কয়েকদিনে সানট্যান দূর হবে ম্যাজিকের মতো৷ এটি খেলে যেমন উপকার পাওয়া যায়, তেমনি ট্যান রিম্যুভ করতে এই প্যাকের কোনও জুড়ি নেই৷ পাঁচভাগ দুধের সঙ্গে একভাগ হলুদ নিন৷ নরম পেস্ট তৈরি করুন৷ এবারে একটা পরিষ্কার ব্রাশ দিয়ে আস্তে আস্তে মুখে লাগান৷ পুরোটা ভালো করে লাগানোর ফলে শুষ্ক হওয়ার জন্য রাখুন৷ আধঘণ্টা রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিন৷ রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে সপ্তাহে তিনদিন এই প্যাক ব্যবহার করলে নিমেষে দূর হয়ে যাবে ট্যান৷

. কমলালেবুর খোসা দুধ

এই কম্বিনেশনের ফেসপ্যাক ম্যাজিকের মতো কাজ করে ত্বকের উপরে৷ কেননা কমলালেবুর খোসার ভিটামিন সি সানট্যান দূর করতে ভালো কাজ করে, দুধ ত্বকের যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি দূর করে৷ শেষ মুহূৰ্তে কোন ট্যানপ্যাক বাছলে চটজলদি উপকার পাবেন, তা নিয়ে চিন্তা হলে এই প্যাকটিকে অনায়াসেই বেছে নিন৷ কমলালেবুর শুকনো খোসাগুলোকে গ্রাইন্ড করে দুধে মিশিয়ে থকথকে পেস্ট তৈরি করুন৷ মুখে লাগিয়ে মিনিট ২৫ রেখে ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিন৷ শুকিয়ে গেলে জলে ধুয়ে নিন৷ এই বিশেষ প্যাকটি ব্যবহারে ১০ দিনে ট্যান দূর হবে৷

. পেঁপে, পাতিলেবু মধু

পেঁপের মধ্যে থাকা প্যাপাইন নামক উৎসেচকটি সানট্যান দূর করতে কাৰ্যকর ভূমিকা নেয়৷ এছাড়াও মুখে কোনও দাগ বা ক্ষত থাকলে সেটাও দূর করে৷ পাকাপেঁপে কয়েকটুকরো করে কেটে নিয়ে ভালো করে চটকে নিন৷ এর মধ্যে আন্দাজমতো মধু ও কয়েকফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পেস্টটি তৈরি করুন৷ মুখের সর্বত্র সমানভাবে এই প্যাকটি লাগান৷ যতক্ষণ না শুকোয় রেখে দিন৷ এরপরে শুকিয়ে গেলে নরমাল টেম্পারেচরের জলে ধুয়ে স্কিনটোন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লাগান৷ দ্রুত ভালো ফলাফল পেতে নিয়মিত ব্যবহার করুন।

Related Articles

Back to top button
Close