fbpx
কলকাতাহেডলাইন

শহরের রাস্তায় ফের দাদাগিরি অ্যাম্বুল্যান্স চালকের, ৮ কিলোমিটার যেতে ৯ হাজার টাকা গুনতে হল পরিবারকে

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বেসরকারি হাসপাতালের বিল হোক বা অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া, কোনও কিছুতেই যেন লাগাম পরাতে পারছে না প্রশাসন। কিছুদিন আগে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল পার্ক সার্কাসের ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথ থেকে করোনা আক্রান্ত দুই শিশুকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার সময়ে অ্যাম্বুল্যান্স চালকের ৯ হাজাক টাকা দাবির ঘটনা। ফের সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল শুক্রবার সকালে। সল্টলেক আমরি থেকে কলকাতা মেডিকেল কলেজে যাওয়ার জন্য ফের দাবি করা হল ৯ হাজার টাকা। আগেরবার এক চিকিৎসক ২০০০ টাকায় ব্যবস্থা করে দিলেও এবারে সুযোগ না থাকায় পুরো টাকাটাই দিতে হল রোগীর পরিবারকে।

জানা গিয়েছে, ১০ দিন আগে হাওড়ার বাসিন্দা ৯০ বছরের হরিওম আগরওয়ালের আচমকা সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়। এর ফলে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চেষ্টা করার পরেও বেড না পেয়ে শেষে সল্টলেকে আমরি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে ৫ দিন পর তার করোনা পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, তার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ।

একদিকে করোনা আর অন্যদিকে দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে থাকার ফলে হাসপাতালের বিলে নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা হয়েছিল আগরওয়াল পরিবারের। তাই তারা বৃহস্পতিবার ঠিক করেন হরি ওম বাবুকে কোভিড হাসপাতাল কলকাতা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাবেন। মেয়ে মমতা আগরওয়ালের কথায়, “লকডাউনে অনেক অ্যাম্বুল্যান্স চালক কোভিড রোগী শুনেই ফোন কেটে দিচ্ছিলেন। শেষমেশ ন’হাজার টাকায় ওই অ্যাম্বুল্যান্স ঠিক হয়। বাবার অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে আসায় আর বেশি চিন্তা করার সময় পায়নি।’ তিনি আরও বলেন, বুঝতে পেরেছিলাম যে অতিরিক্ত নিচ্ছে। কিন্তু দর কষাকষি করতে গিয়ে এ চলে গেলে আমাদের আরও অসুবিধা হতে পারত, তাই মানতে হল।

আরও পড়ুন: করোনা চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনার দুর্নীতি ইস্যুতে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি রাজ্যপালের

হরি ওম বাবুর পরিবারের দাবি, অ্যাম্বুল্যান্স চালককে ৬ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের গেটের সামনে এসে নিয়ে আসেন। বকেয়া ৩ হাজার টাকা দেওয়ার পর অ্যাম্বুল্যান্স চালক কার্যত রোগীকে মাটিতে নামিয়েই চম্পট দেয়। পিপিই কিট পরা থাকা সত্বেও রোগীকে জরুরি বিভাগের বাইরে নিয়ে যাওয়াতে রাজি হয়নি। যদিও এই নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স চালকের দাবি, ‘ আমি কিছু জানি না। আমার মালিক সমস্ত টা বুঝে নিয়েছেন। আমার কিছু করার নেই।’ তার আরও দাবি, ‘ওই পরিবার আমার সঙ্গে অত্যন্ত অভদ্র ব্যবহার করেছে। তবুও মানবিকতার খাতিরে আমি পরিষেবা দিয়েছি। কিন্তু কোভিড হাসপাতালে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না, তাই চলে এসেছিলাম।’

Related Articles

Back to top button
Close