fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাসায়নিক দিয়ে দামোদরে মাছ শিকার! হাতেনাতে পাকড়াও চোরা শিকারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর: ব্যারেজের জলে রাসায়নিক মিশিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত মৎস্যজীবিদের হাতে ধরাল পড়ল এক চোরা মাছ শিকারি। সুবিচারের দাবিতে ক্লাব ঘরে আটকে রাখা হয় তাকে। বুধবার এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুর আশীষনগর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত চোরা মাছ শিকারী ভিন রাজ্যের বাসিন্দা।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুরে দামোদর নদী তীরবর্তি ৩৯ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় এক হাজার মৎসজীবি রয়েছে। ব্যারেজের জলাধারে মাছ ধরে সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু গত বছর তিনেক ধরে ওই জলাধারে হঠাৎই ভিন রাজ্যের চোরা শিকারীদের দৌরাত্ম শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ। বছরে দুটি মরশুমে ওই চোরা শিকারীদের প্রায় ২০ জনের একটি দল বিহার থেকে দুর্গাপুরে আসে। দুর্গাপুর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিহারী ট্যাগ এলাকায় তারা আশ্রয় নেয়। শীতকালে ও বর্ষাকালে ২ থেকে ৩ মাসের জন্য তাদের আগমন হয়।

অভিযোগ, শীতকালে ওই জলাধারে ও নদীর বেশকিছু জায়গায় পরিযায়ী পাখী আসে। ওই সময় চোরা শিকারিরা পরিযায়ী পাখী শিকার করে অবৈধভাবে বিক্রি করে রোজগার করে ফের বিহার ফিরে যায়। ফের তারা বর্ষাকালে এলাকায় এসে রাতের অন্ধকারে মশারির জাল দিতে জলাধারের ছোটো এলাকায় মশারি জাল দিয়ে ঘিরে রাসায়নিক মিশিয়ে বিষক্রিয়া ঘটায়। ফলে ওই এলাকার জলে থাকা মাছের চারা সহ সমস্ত মাছ নিমেষে মরে যায়। মরা মাছ মশারির জালে ছেঁকে তুলে বিক্রি করে দেয়। আর তার ফলস্বরুপ যেমন নদীতে মাছ সহ অনান্য জলজ প্রানীর মৃত্যু হচ্ছে। তেমনই

স্থানীয় মৎস্যজীবিদের রুজিতে টান পড়ছে। নদীতে মাছ ধরতে গিয়েও জালে মাছ ওঠে না। কম ওঠে। আবার মরা মাছ ওঠে। বুধবার এমনই এক চোরা মাছ শিকারিকে হাতে নাতে ধরে ফেলে দুর্গাপুর আশীষনগর এলাকার মৎস্যজীবিরা। খবর চাউর হতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত চোরা মৎস্যশিকারীকে ধরে একটি ক্লাবঘরে আটকে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোকওভেন থানার পুলিশ।

এলাকার মৎস্যজীবি স্বপন বিশ্বাস ও স্বপন বর্মণ বলেন,” দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক মিশিয়ে জলকে বিষাক্ত করে মাছ ধরে নেওয়ায় জলাধারে মাছ কমে যাচ্ছে। মাছের ডিমপোনা সহ মাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের জালে কেবল মরা পচা মাছ উঠছে। আগে সারাদিনে ৫ থেকে ১০ কেজি মাছ ওঠত। এখন এই চোরা শিকারীদের জন্য আমরা ১ থেকে ২ কেজি মাছ পাচ্ছি। তাও আবার মরা মাছ। পরিযায়ী হাঁসগুলি ওই চোরাশিকারীরা শিকার করাই বর্তমানে পরিযায়ী পাখীও কম আসছে।”

মৎস্যজীবিরা আরও বলেন,” প্রশাসনকে আমরা একাধিকবার এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি কোনও কাজ হয়নি। আর এক মৎস্যজীবী বিকর্ণ বিশ্বাস বলেন,” ওই চোরাশিকারীরা জলে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে মাছ ধরছে। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখী শিকার করতে ফড়িং এর শরীরে কিটনাশক মিশিয়ে বঁড়শিতে গেঁথে জলে ফেলে রাখে। ফড়িং খেয়ে মৃত্যু’ হয় হাঁসগুলির। এই ভাবে প্রকৃতিকে দিনের পর দিন নষ্ট করে দিচ্ছে এই চোরাশিকারীরা। আমাদের দাবি অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকে।”

এলাকার এক মাছের আড়তদার গৌতম বিশ্বাস বলেন,” এলাকায় প্রায় ৪ টি মাছের আড়ৎ রয়েছে। প্রতিদিন জলধার থেকে প্রায় ১০ কুইন্ট্যালের বেশি মাছ ওঠে। এখন কমে গেছে। চোরা শিকারিরা সমস্তমাছ সহ ডিমপোনা নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা বহুবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি এই বিষয়ে কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি।”

পশ্চিম বর্ধমান জেলা মৎস্য আধিকারিক অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ব্যানার্জী বলেন, “এই ধরনের কার্যকলাপ জানতে পেরে আশ্চর্য লাগছে। দামোদরের জল দুর্গাপুরবাসী পান করে। এভাবে দুষিত করলে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। তাই কোনভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। ওই চক্রের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত সেটাও দেখা হচ্ছে। গোটা বিষয়টি প্রশাসন দেখছে।”

Related Articles

Back to top button
Close