fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মোবাইলেই নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকার ক্লাস চলছে রাধামনিতে

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : ‘মোরা ছুটব মোরা খেলব বসে কুঁড়ে হয়ে থাকবোনা / ছাতি ফাটবে মাথা ভাঙবে তবু পরাজয় মানবনা / মোরা নাচব মোরা গাইব মিছে সরমেতে জড়বনা / গুরু ছাত্র পুঁথি মাত্র পড়ে অকালেতে মরবনা’। ব্রতচারীর এই গান এখন লক ডাউনের পরিস্থিতিতে মন্ত্রের মতো আত্মীকরণ করে নিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের রাধামনির বিবেকানন্দ শিশু কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের নিয়ন্ত্রন করছেন গায়ত্রী জানা। নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা ছাড়াও ব্রতচারী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে। আপাতত সব বন্ধ। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপেই ফের শুরু করা হয়েছে দূরে দূরে থেকেও।

 

চুপচাপ ঘরে বসে থাকা নয়। বাড়িতে বসেই চলছে গান, আবৃত্তি, নাচ, ছবি আঁকা সহ যাবতীয় প্রশিক্ষণের ক্লাস। মোবাইলের মাধ্যমেই টাস্ক দেওয়া হচ্ছে। লক ডাউন শুরু হতেই প্রথমে এক সপ্তাহ ধরে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি ফোন করে কোরোনা ভাইরাসের বিষয়ে সাবধানতা এবং সচেতনতার প্রচার করা হয়েছে। এরপর ফোনের মাধ্যমে ক্লাস শুরু করা হয়েছে।

 

কী পদ্ধতিতে ক্লাস? গায়ত্রী জানা বলেন, নাচের ক্লাসে সব মিলিয়ে প্রায় ৮০-৯০ জন আছে। নার্সারি লেভেল থেকে আদ্য, মধ্য, পূর্ণ সহ মোট ৮ টি ক্লাস। নাচের ভিডিও করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে। তাঁরা সেইমতো তালিম নিয়ে ফের নিজেদের নাচের ভিডিও তুলে পাঠাচ্ছে। রাজনগরের মেহুলী বর্মন, কেলোমালের রাজনন্দিনী ঘড়াই, হরিদাসপুরের স্নেহা চৌধুরীরা এভাবেই এই লক ডাউনেও বাড়িতে বসে নাচ শিখছে নিয়মিত।

 

তবে নার্সারি লেভেলের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে বলে জানান গায়ত্রী জানা। সকাল ৬-৯ টা পর্যন্ত একজন একজন করে আবৃত্তির ক্লাস হয় ফোনে। সপ্তাহে দুদিন বরাদ্দ। তাতেই খুশি সবাই। তবে এইভাবে ক্লাসের ফলে ফোনের উল্টো দিকে ছাত্রছাত্রী সহ তাঁদের বাড়ির বাবা মা ঠাকুমা দাদুও সময় কাটাতে ক্লাস শুনছেন। তাঁরাও খুশি একটা অন্যভাবে সময় কাটানোর রসদ পেয়ে।

 

উত্তর বাগুয়ানের অঙ্কিতা দে কিংবা রাধামনির ঐষী বেরারা আবৃত্তি শেখে। তাঁদের কথায়, এভাবে যদি ক্লাস না হোতো তবে এই এতোদিনের ছুটিতে আমরা সব ভুলেই যেতাম। একই অনুভূতি হাকোলার রীতম প্রামানিক, চাপবসানের রূপম চৌধুরী, কুরপাইয়ের দেবলীনা মাইতির অভিভাবকদেরও। তাঁদের সহাস্য উক্তি, এই লক ডাউনে একটা অন্যরকম আনন্দ উপভোগ করতে পারছি ছেলে মেয়েদের সৌজন্যে। এই উদ্যোগও যথেষ্ট ইতিবাচক বলে ব্যাখ্যা তাঁদের।

 

বাড়িতে বসেই কিভাবে মনোসংযোগ করতে হয় তাও মোবাইলের মাধ্যমেই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। সামনেই রবীন্দ্র জয়ন্তী। অথচ ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে না। প্রতিবছর এখানে ঘটা করেই পালিত হতো। এবার হবে না। তাতে কি? নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকে বাড়ির বাগানেই রবি ঠাকুরের ছবি রেখে শান্তিনিকেতনের মতো করে ফুল, ধূপ, মালা দিয়ে সাজিয়ে গান করবে, নাচ করবে। এরপর ভিডিও তুলে পাঠাতে হবে। এভাবেই দূরে দূরে থেকেও রবিকবিকে সম্মান জানাতে তৈরি এখানকার ২৫০ জন ছাত্র ছাত্রী।

Related Articles

Back to top button
Close