fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে পূর্ব বর্ধমানের লোক শিল্পীদের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার!

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: রাঢ় বাংলার মাটির সুরের গানে সংগীত প্রেমীদের মুগ্ধ করেন ভাদু ও টুসু গানের শিল্পীরা।পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম, মঙ্গলকোট ও ভাতার থানার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে রয়েছে ভাদু, টুসু গানের শিল্পীদের আস্তানা। এখানকার অজয় নদের তীরবর্তী সেনপাহাড়ির জঙ্গল লাগোয়া বনভূমি ঘেরা গ্রাম ছাড়াও কুনুর নদীর তীরের গ্রামের আস্তানায় ভাদু, টুসুসহ বিভিন্ন লোক গানের সুর বাঁধেন শিল্পীরা। মূলত মহিলা মহলের শিল্পীরাই এই গানের চর্চায় বেশি এগিয়ে রয়েছেন।

এখানকার লোক শিল্পীদের কেউ কেউ রাজ্য সরকারের শিল্পী পরিচয় পত্রও পেয়েছেন।
ভাদ্র মাস থেকে শুরু হয় গানের প্রস্তুতি। তারপর বৈশাখ মাস থেকে শুরু হয় সংগীত পরিবেশন। পৌষ সংক্রান্তির মকরে টুসু পরব মাতোয়ারা হয় এখানকার লোক শিল্পীদের লোকগানে। গান গেয়েই জীবিকা নির্বাহ। এই লোক শিল্পীরা লকডাউনে চরম বিপাকে পড়ে গিয়েছেন। লকডাউনের কারণে খেত খামারের কাজে যেতে পারছেন না শিল্পীরা। ফলে তাঁদের পরিবারে দেখা দিয়েছে অভাব।

আউশগ্রাম ২ ব্লকের রামনগর গ্রামের উল্লাসপুরের মালতি মেটে, ভাদু মেটে, শ্যামলি মেটে প্রমুখ শিল্পীরা জানালেন, তাঁরা শিল্পী ভাতা পান না। লকডাউনের জন্য খেতের কাজও নেই। সে কারণে এখন নিদারুণ কষ্টের মধ্যেই তাঁদের কাটছে দিন।”

অন্যদিকে অমরপুর, শ্রী চন্দ্রপুর, মঙ্গলপুর গ্রাম গুলোতে কয়েক হাজার লোক শিল্পীদের বসবাস। মঙ্গলকোট, কাটোয়া, কেতুগ্রামেও রয়েছে প্রচুর লোক শিল্পীরা।এখন তাদের ঘরে ঘরে অভাব।
শিল্পীরা বলেন,সরকার তাদের পাশে না দাঁড়ালে দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।
এবিষয়ে জেলার বিশিষ্ট লোক গবেষক রাধামাধব মণ্ডল জানান, “এই সব লোক শিল্পীদের কোনও তালিকা নেই সরকারের কাছে। এরজন্য দায়ী জেলার তথ্য সংস্কৃতি কেন্দ্র। ফলে শিল্পীদের, সেভাবে চাইলেও পাশে দাঁড়াতে পারবে না সরকার।

তবে পঞ্চায়েত এলাকার কিছু মানুষ, সমাজকর্মী ভাদু, টুসু, হাবু, বাউল ও বিভিন্ন লোক শিল্পীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। পুলিশও চাল, ডাল দিয়ে সাহায্য করছে। তা দিয়েই এখন তাদের কোনওরকমে পেট চলছে।”

আউশগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৈয়দ হায়দার আলি বলেন, “আমরা ওই সকল লোক শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। অসহায়ভাবে দিন কাটানো লোক শিল্পীদের কোনও তালিকা থাকলে আপনারা জানান। আমি ওনাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিচ্ছি।”

 

 

Related Articles

Back to top button
Close