fbpx
কলকাতাহেডলাইন

দাস বাড়ির জগন্নাথ কোলে চড়ে মাসির বাড়ি

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: করোনার জেরে একেবারে শেষ মুহূর্তে পুরীর রথযাত্রার অনুমতি মিলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে থেকে। কিন্তু তাছাড়া সব রথযাত্রাই বন্ধ। সে ঐতিহ্যের মাহেশ থেকে ইসকনের রথযাত্রা সর্বত্র একই ছবি। তবে ছবিটা একটু বদলেছে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরে। এখানকার দাস বাড়ির ঐতিহ্যমণ্ডিত রথযাত্রা এবারও সম্পন্ন হলো। এবার জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা রথে নয় কোলে চড়ে মাসির বাড়ি গেলেন।

 

 

দাস বাড়ির পক্ষে খোকন দাস জানালেন, ‘এবার করোনার জেরে রথযাত্রা হচ্ছে না। কিন্তু রথ না চললেও’দেহরথে’ করে শাস্ত্রীয় বিধান মেনে প্রভু শ্রী জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার বিগ্রহ মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। শ্যামপুকুর বাটি যেখানে শ্রীরামকৃষ্ণদেব কিছুদিন ছিলেন, তার উল্টোদিকের মন্দিরে থাকবেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা।’ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উলু, ঘণ্টাধ্বনির মধ্য দিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনেই সুসম্পন্ন হলো পুজো, অর্চনা, প্রভু এলেন মাসির বাড়ি। জানা গেল পুরীর পাকশালার রীতিমেনেই দাসবাড়ির জগন্নাথ দেবের ভোগ রান্না হয়। অন্নভোগের সঙ্গে থাকে প্রভু জগন্নাথের প্রিয় ভাজাভুজি পটল, বেগুনসহ হাজারো পদ,থাকে লুচি, পায়েস। রয়েছে নানারকম মিষ্টির পদ। তবে ভাজা মিস্টিই বেশি।যেমন মালপোয়া, চিত্রকূট,পান্তুয়া, রসগোল্লাও আছে। তবে প্রভুর ভোগে রাঙালু থাকলেও আলু নেই, আর কাঁচা শঙ্কাও বাদ। সব রান্নাতেই থাকবে গোলমরিচ। আর জগন্নাথ মাসির বাড়ি থাকা কালীন রোজ অন্নকূট উৎসব হবে অবশ্যই সামাজিক দূরত্বের রীতি মেনে।

 

 

শহরের সর্বত্র এদিন রথযাত্রার ছুটি থাকলেও খুশির মেজাজটাই উধাউ। অন্য বছরগুলোতে রঙিন জামা কাপড় পরে কচি কাঁচারা শহরের রাস্তায় রথ নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এবার ইট কাঠের শহরে সেই চেনা ছবিটা হারিয়ে গিয়েছে। তারইমধ্যে উত্তর কলকাতার চিলতে গলিতে ব্যতিক্রমী ছবি হয়ে রইল দাস বাড়ির রথযাত্রা।

Related Articles

Back to top button
Close