fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

রাজভবনে মণীশের দেহ নিয়ে যেতে বাধা পুলিশের, খণ্ডযুদ্ধ বিজেপি কর্মীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টিটাগড়ে রবিবার রাতে নিহত বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার মরদেহ রাজভবনে নিয়ে যেতে দিল না পুলিশ। শুধু মণীশের বাবা, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিং রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পান।

রাজ্যপাল এরপর টুইটে লেখেন, ‘ কান্নায় ভেঙে পড়া মণীশের বাবা ৩৯ বছরের ছেলে মনীশের খুনের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন। প্রতিনিধিদলের বক্তব্য এটা পরিকল্পিত খুন, এর পিছনে ষড়যন্ত্র ছিল।’

সোমবার বিকেলে এনআরএস হাসপাতালে নিহত নেতার ময়নাতদন্ত শেষ হয়। তারপর মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দিলে বিজেপি নেতা কর্মীরা মনীশের শববাহী গাড়ি মৌলালি হয়ে রাজভবনের দিকে রওনা দেয়।
এদিন প্রয়াত নেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে এসে নেতা কর্মীরা হাসপাতালে ঢুকতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়।

এই ঘটনাতেও উত্তেজনা ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে নিহত নেতার পরিজনরা হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি পান। বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় অভিযোগ করেন, ‘ মৃত্যুর পর ১৮ ঘণ্টার বেশি কেটে গিয়েছে এখনও ময়না তদন্ত হলো না। এই সরকার কতোটা অসংবেদনশীল তা এ থেকেই স্পষ্ট। আমি রাজ্যপালের কাছে যাচ্ছি, যাতে দ্রুত ময়না তদন্ত হয়।’ রাজ্যপালও টুইট করে লেখেন, ‘ মনীশের মরদেহ ২০ ঘণ্টা পরেও দেওয়া হয়নি। আমি ক্ষুব্ধ।’

এদিন সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ মণীশের মরদেহ পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হলে বিজেপি সিদ্ধান্ত নেয় রাজভবনে নিয়ে যাওয়া হবে মরদেহ। বিজেপি নেতৃত্ব জানান, পরিজনের ইচ্ছায় রাজভবনে মনীশের দেহ নিয়ে গিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হবে। তারপর টিটাগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে শোকমিছিল। সেইমতো এনআর এস থেকে ‌মরদেহ নিয়ে শোকমিছিল মৌলালি হয়ে এস.এন.ব্যানার্জী রোড ধরে এগোতে থাকে। কিন্তু এলিট সিনেমার সামনে তিনটে গার্ডরেল তুলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। কেন পুলিশ শববাহী গাড়িসহ মিছিল রাজভবন যেতে দেবে না? প্রশ্ন তোলেন বিজেপি কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় বিজেপি কর্মীদের। তীব্র যানজট হয় গোটা এলাকাজুড়ে।

পুলিশ জানায় , শববাহী মিছিল শিয়ালদা উড়ালপুল হয়ে শ্যামবাজার, বিটি রোড হয়ে টিটাগড় যাওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত ডিসি ( সেন্ট্রাল) জানান, রাজভবন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। সেখানে কোন মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয় না। রাজভবনে কেবল ৪ জনের প্রতিনিধিদল যেতে পারবেন। মনীশের শববাহী গাড়ি রাখতে হবে প্যারাডাইস সিনেমার সামনে।

শেষ পর্যন্ত বিজেপি নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তে রাজি হয়। মনীশ শুক্লার বাবা, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিং রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান। মনীশের বাবা বলেন, ‘আমি রাজ্যপালকে জানাবো যেন আমার ছেলের খুনের সুবিচার পাই।’ শেষ পর্যন্ত রাজ্যপালের সঙ্গে প্রতিনিধিদল দেখা করার পর টিটাগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় শোকমিছিল।

Related Articles

Back to top button
Close