fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মৃত শ্রমিকের দেহ নিয়ে মালদায় এসে পৌঁছালো শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন

মিলন পাল, মালদা: শ্রমিকের মৃতদেহ নিয়ে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন এসে পৌঁছালো মালদা টাউন স্টেশনে। এই নিয়ে মালদায় ট্রেনে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ৩। তবে ওই পরিযায়ী শ্রমিক করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে কিনা , তা পরিষ্কার নয়। যদিও মৃত শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বলতে পারা যাবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।

যদিও মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের অভিযোগ , দুইদিন ধরে অসহ্য পেটের যন্ত্রনায় ট্রেনের মধ্যেই কাতরাচ্ছিলেন ওই শ্রমিক। ট্রেনটি কোথাও থামে নি। চিকিৎসা পরিষেবা তো দূরের কথা, পরিশ্রুত পানীয় জল টুকুও পাওয়া যায় নি। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে মালদা টাউন স্টেশনে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই পরিযায়ী শ্রমিক। এই ঘটনায় রেলের পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়েছে অন্যান্য ভিন রাজ্য ফেরত শ্রমিকদের মধ্যে।

এদিকে পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম খাতিপ শেখ (২৭) । তার বাড়ি উত্তর মালদার পুকুরিয়া থানার চাঁদপুর গ্রামে। চার মাস আগে কেরলের কায়কলম এলাকায় রাজমিস্ত্রির সহকারি শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে গিয়েছিলেন খাতিব শেখ এবং তার এক কাকাতো ভাই মতিন শেখ। লকডাউনের জেরে তারা কেরলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিলেন। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করলে, কেরলের কায়কলম জংশন থেকেই ৬ জুন শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে করে মালদায় ফেরার জন্য রওনা হয় ওই পরিযায়ী শ্রমিক এবং তার ভাই মতিন শেখ । কিন্তু তিনদিনের ট্রেন যাত্রার পথেই মৃত্যু হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক খাতিব শেখের।

মৃত শ্রমিকের এক ভাই মতিন শেখ বলেন, দাদার সঙ্গে আমিও কেরল থেকে ট্রেনে করে ফিরছিলাম। ৬ জুন রাত ৮ টায় আমরা কেরলের কায়কলম জংশন থেকে ট্রেন ধরি। ৭ জুন সকাল থেকেই দাদার পেটে যন্ত্রণা শুরু হয়‌। ৪৮ ঘন্টার বেশি সময় ধরে দাদা খাতিপ শেখ ট্রেনের মধ্যে পেটের যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকেন। ঘনঘন শৌচাগারেও যায় । বমিও হচ্ছিল । ট্রেন কোথাও থামে নি। যার ফলে চিকিৎসা পরিষেবা মিলে নি। পরিশ্রুত পানীয় জল খাওয়াতে পারি নি । সোমবার রাতে দাদা পেটের যন্ত্রনায় ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে থাকে। এরপর আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। মঙ্গলবার সকালে মালদা টাউন স্টেশন ঢোকার মুহূর্তেই দাদাকে যখন ডেকে তুলি, কোন সাড়াশব্দ পাই নি। অবশেষে জানতে পারি দাদার মৃত্যু হয়েছে।

মৃতের ভাই মতিন শেখ ও তার পরিবারের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই একটি প্রাণ চলে গেল। ট্রেনে যদি কোনওরকম চিকিৎসা পরিষেবা অথবা সহযোগীতা মিলতো, তাহলে দাদার মৃত্যু হত না। এই ঘটনায় মৃত শ্রমিকের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , মৃত খাতিব শেখের পরিবারে স্ত্রী লাকি বিবি এবং ছয় বছরের আনসুর শেখ এবং চার বছরের সাহিল শেখ রয়েছে। স্বামীর রোজগারে তাদের সংসার চলত। কিন্তু এখন তারা অসহায়।

যদিও এই প্রসঙ্গে উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানিয়েছেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা অসহায় ওই শ্রমিকের পরিবারের পাশে রয়েছি।

তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নূর বলেন, রেলের উদাসীনতার কারণে মালদায় এই নিয়ে পরপর তিন জন শ্রমিক প্রাণ হারালেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহু কষ্টের মধ্যে ভিন রাজ্য থেকে শ্রমিকেরা নিজেদের বাড়িতে ফিরছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে উদ্যোগ নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যবস্থা করেছেন । ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ওই পরিবারটির সঙ্গে দেখা করে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।

এদিকে মঙ্গলবার নতুন করে মালদায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দুইজন। আক্রান্তরা দুজনেই পরিযায়ী শ্রমিক । তাদের পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়েছে এখনও পর্যন্ত মালদায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩০।

এদিকে মালদা শহরের যে নার্সের করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল , তাকে আপাতত প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই নার্সের স্বাস্থ্যের তদারকি করছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা ।

Related Articles

Back to top button
Close