fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ছাত্র সংসদের ই-মেলে অপমানিত যাদবপুর বিজ্ঞান বিভাগের ডিন পদত্যাগ পত্র দিলেন

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে উপাচার্যের কাছে চিঠি দিলেন যাদবপুর বিশ্ব বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ডিন কল্যান কুমার দাস। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সংসদের পাঠানো ই’মেলে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে উপাচার্য সুরঞ্জন দাস-এর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ডিন।

 

যদিও পরীক্ষা চলায় এবং স্নাতকের ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য কল্যাণবাবুর পদত্যাগ গৃহীত হয়নি। এই বিষয়ে সুরঞ্জন দাস ডিনকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আর্জি জানিয়েছেন । বিজ্ঞান বিভাগের ডিন কল্যান কুমার দাস তার পদত্যাগ পত্রে অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই ই – মেলে ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে লেখা হয় , ‘ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল , এবং সিদ্ধান্তগ্রহণকারী সব ভার্চুয়াল বৈঠকের লিঙ্ক তাদের পাঠাতে হবে, সব বৈঠকে সংসদকে স্মারকলিপি দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে , কী সিদ্ধান্ত হল সেটাও ছাত্র সংসদের যে আইডি আছে সেখানে ই-মেল করে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনে ডিনকে তাদের ফোন ধরত হবে। ডিন যদি ফোন না ধরেন তবে ছাত্ররা সরাসরি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলবেন।’ এছাড়াও যেখানে রেজাল্ট তৈরি হচ্ছে সেখানে ছাত্র সংসদের এক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে বসে থাকার অভিযাগও উঠেছে।

 

এই ইমেলের পরই অপমনিত বোধ করে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছেন কল্যান কুমার দাস। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছে অন্যান্য অধ্যপকরাও। তাদের মতেও, যে ভাষায় ই – মেলটি করা হয়েছে তা অত্যন্ত অপমানকর । এটিকে ছাত্র সুলভ কাজ বলা যায় না। আর এই বৈঠকগুলিতে যাঁরা সদস্য তাঁরাই থাকেন। ছাত্রদের থাকার কথা নয়। এই প্রসঙ্গে শিক্ষক সমিতি জুটা’র সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় জানিয়েছেন , ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও শুধুমাত্র ছাত্রদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শিক্ষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। সেখানে এই ধরনের অপমানকর ই-মেইল বার্তা শিক্ষকদের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক।’

 

অন্যদিকে, ছাত্র সংসদের তরফে জ্যোতির্ময় বিশ্বাস সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু বলিনি । সাধারণ সময়ে কোনও বৈঠক হলে আমরা জানতে পারতাম। কিন্তু এখন ভার্চুয়ালি সব বৈঠক হওয়ায় ছাত্র সংসদ কিছুই জানতে পারছে না। আমরা বৈঠকে থাকতে চেয়ে কোনও ই – মেল করিনি। ই – মেলের ভাষায় কেউ অপমানিত বা আঘাত পেয়ে থাকলে আমরা দুঃখিত।’ উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এই বিষয়ে জানিয়েছেন, ‘যাদবপুরে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ আছে। এখানে পড়ুয়া সহ সব শ্রেণীর কথা শোনা হয়। সেখানে কোনও শিক্ষকের প্রতি অমর্যাদাকর ব্যবহার অত্যন্ত নিন্দনীয়। এহেন আচরণ যাদবপুরের ঐতিহ্যের পরিপন্থী নয়। আমি ডিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করছি না।’

 

Related Articles

Back to top button
Close