fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

ক্ষুদিরাম বসু…হাতে শ্রীমদ্ভগবদগীতা নিয়ে উঠেছিলেন ফাঁসিকাঠে

মৃত্যুদিনে ফিরে দেখা বীরের জীবনী

বিশেষ প্রতিবেদন: ক্ষুদিরাম বসু…ভারতের স্বাধীনতার জন্য মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসি কাঠে ঝুলেছিলেন এই বীর যুবক।  ভারতের স্বাধীনতা আন্দলনে বাংলার বিপ্লবীরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন ক্ষুদিরাম।

সেই সময় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে একসময় হাসতে হাসতে ফাঁসি বরণ পর্যন্ত করেছিলেন। ক্ষুদিরাম বসুর আজ ১১২তম আত্মবলিদান দিবস। ১৯০৮ সালের আজকের দিনেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন ক্ষুদিরাম বসু। ফাঁসি হওয়ার সময় ক্ষুদিরামের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৭ মাস ১১ দিন। বেশ কয়েকজন ইতিহাসবিদ তাঁকে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে কনিষ্ঠতম শহিদের আখ্যা দিয়েছিলেন।  ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার কেশপুর থানার হাবিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা ছিলেন নাড়াজোলের তহশিলদার ত্রৈলোক্যনাথ বসু ও মা ছিলেন লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। মাত্র ছয় বছর বয়সে  পিছুটানহীন ক্ষুদিরাম ছাত্র অবস্থাতেই বিপ্লবী দেশমাতার পরাধীনতার গ্লানি ঘোচাতে বিপ্লবী কর্মকান্ডে যোগ দেন।

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু

  আরও পড়ুন: ‘এবার খুব মন দিয়ে পড়াশোনা করব’, ক্লাস ১১-এ ভর্তি হয়ে বললেন শিক্ষামন্ত্রী

বিভিন্ন বিপ্লবী আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে থাকেন তিনি। বারীন্দ্র ঘোষের সংস্পর্শেও আসেন। তমলুকের হ্যামিল্টন স্কুলে পড়াকালীন মাত্র ১৫ বছর বয়সেই অনুশীলন সমিতির একজন স্বেচ্ছাসেবী হয়ে ওঠেন এবং ভারতে ব্রিটিশ শাসন বিরোধী পুস্তিকা বিতরণের অপরাধে গ্রেপ্তার হন ক্ষুদিরাম। ১৬ বছর বয়সেই ক্ষুদিরাম থানার কাছে বোমা মজুত করে সরকারি আধিকারিকদেরকে আক্রমণের লক্ষ্য স্থির করেন। এই নির্ভীক সন্তানের জীবনে বিপ্লবী সত্তার বীজ বপণ হয়েছিল এই সময় থেকেই।

আরও পড়ুন: দেশে একদিনে করোনা আক্রান্ত ৫৩ হাজার, স্বস্তি দিয়ে দেশে করোনার সংক্রমণ নিম্নমুখী

জানা যায়, মেদিনীপুরেই তার বিপ্লবী জীবনের অভিষেক। তিনি বিপ্লবীদের একটি নবগঠিত আখড়ায় যোগ দেন। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসু এবং রাজনারায়ণ বসুর প্রভাবে মেদিনীপুরে একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠন গড়ে উঠেছিল। সেই সংগঠনের নেতা ছিলেন হেমচন্দ্র দাস কানুনগো ও সত্যেন্দ্রনাথ বসূ ছিলেন হেমচন্দ্র দাসের সহকারী। এটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্রিটিশবিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত হতো। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ক্ষুদিরাম তার গুণাবলীর জন্য সবার চোখে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন। ক্ষুদিরাম সত্যেন্দ্রনাথের সাহায্যে বিপ্লবী দলভুক্ত হয়ে এখানে আশ্রয় পান। ক্ষুদিরাম তারই নির্দেশে ‘সোনার বাংলা’ শীর্ষক বিপ্লবাত্মক ইশতেহার বিলি করে গ্রেপ্তার হন।

১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে কাঁসাই নদীর বন্যার সময়ে রণপার সাহায্যে ত্রাণকাজ চালান।১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে বারীন্দ্র কুমার ঘোষ তার সহযোগী হেমচন্দ্র কানুনগোকে প্যারিসে নির্বাসনে থাকা একজন রাশিয়ান নিকোলাস সাফ্রানস্কি-এর কাছ থেকে বোমা তৈরির কায়দা শেখার জন্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।  ক্ষুদিরাম বসু তার শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কাছ থেকে এবং শ্রীমদ্ভগবদগীতা পড়ে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লব করতে অনুপ্রাণিত হন। তিনি বিপ্লবী রাজনৈতিক দল যুগান্তরে  যোগ দেন। একের পর এক বোমা হামলার দায়ে ৩ বছর পর তাকে আটক করা হয়। যখন তাঁর মাত্র আঠেরো বছর বয়স তখন তিনি শুনতে পেলেন বিপ্লবী সুশীল সেনকে চাবুক মারার নির্দেশ দিয়েছেন অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড। এর যথোপযুক্ত প্রতিশোধ নিতে কিংসফোর্ডকে খুন সিদ্ধান্ত নেন তিনি, সঙ্গী হিসেবে পেলেন আর এক বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকীকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকবশত ১৯০৮ সালের ২৯ শে এপ্রিল তারিখে ক্ষুদিরামের ছোঁড়া বোমার আঘাতে মিস ও মিসেস কেনেডি নামের দুই ইংরেজ মহিলার মৃত্যু হয় এবং বেঁচে যান কিংসফোর্ড।

পরের দিন সকালেই মুজফ্ফরপুরের ওয়াইনি নামক একটি স্টেশনে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান ক্ষুদিরাম। হাতে হাতকড়ি লাগানো অবস্থায় ১ মে ক্ষুদিরামকে মুজফ্ফরপুর থেকে কলকাতায় আনা হয়েছিল।

Related Articles

Back to top button
Close