fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মৃত্যুও হার মানেনি গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: বছরের ৯ ই এপ্রিল অকাল মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে চলে গিয়েছিলেন পটাশপুরের শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। একাধারে ছিলেন ক্ষেত্র গবেষক অন্যদিকে ছিলেন প্রবন্ধকার। সবংয়ের নানা বিষয় নিয়ে তাঁর গবেষণা ছিল সর্বজনবিদিত। তিনি গৌতম দেব পাত্র। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর প্রিয়জনদের উদ্যোগে গঠিত হয় ‘গৌতম পাত্র মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’।

সেই ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত হলো এই কোরোনা ভাইরাস যুক্ত কঠিন পরিস্থিতিতে একদল নিরন্ন মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। সংস্থার অন্যতম শান্তনু অধিকারী জানান, গৌতমের প্রিয়জনদের দেওয়া সাহায্যের ওপর নির্ভর করে সবং এলাকার গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এই ট্রাস্ট। এখানেই এতদিন ধরে নানা ধরনের গবেষণামূলক কাজ করতেন গৌতম যাঁদের নিয়ে, তাঁদের হাতেই তুলে দেওয়া হোলো ত্রান সামগ্রী।

সবংয়ের ৩ নং অঞ্চলের দাঁতড়দার ১৬ টি, বড়চারা এলাকার ৬০ টি লোধা পরিবার, ৪ নং অঞ্চলের দশগ্রাম এলাকার ৬০ টি লোধা ও সাঁওতাল পরিবারকে এদিন ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয় গৌতম পাত্র মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এর উদ্যোগে। শান্তনু অধিকারী জানান, আবারও ত্রাণ তুলে দেওয়া হবে সবংয়ের পিছিয়ে পড়া মানুষজনদের।

আরও পড়ুন: ভিন রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রথম ঠিকানা এখন গ্ৰামেরই স্কুল ভবন

এদিন ত্রাণ দেওয়া হয়েছে সবংয়ের বিশিষ্ট লুপ্তপ্রায় চাঙশিল্পী ভ্রাতৃত্রয়কে। পূর্ণচন্দ্র কোটাল, শম্ভু কোটাল, গুরুপদ কোটালরা খুব খুশি । তাঁদের বক্তব্য, এই ত্রাণ গৌতমবাবুর নিজের হাতে তুলে দিলে সবচেয়ে ভালো লাগতো। উনি যখন বেঁচে ছিলেন, তখন আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন প্রায়ই। আজ উনি নেই। তবুও যেন তিনি আছেন। একই কথা শোনা গেল বড়চারার নিমাই মল্লিক এবং দশগ্রামের ডোমপাতা এলাকার জ্যোৎস্না হেমরম, সর্বেশ্বর মাজীদের গলায়।

আপাতত ১৫০ জনকে দেওয়া হয়েছে আলু তিন কেজি, তেল এক কেজি সহ আরও নানা দৈনন্দিন সামগ্রী। আসলে গৌতম এইসব প্রান্তিক মানুষজনকে খুব ভালোবাসতো। তাই তাঁদের এই বিপদের দিনে গৌতম যেন না থেকেও রয়েছে। তাঁর স্বপ্ন ছিলো এইসব মানুষজনের সার্বিক উন্নয়ন। তাঁর অধরা স্বপ্ন পূরণের জন্য এগিয়ে এসেছেন শান্তনু অধিকারী, পূর্ণ চন্দ্র ভুঁইয়া সহ গৌতমের বন্ধু বান্ধব এবং পরিবারের লোকজন।

দিন আনা দিন খাওয়া এই মানুষগুলো আজ কিছুটা যেন আলোর মুখ দেখলো গৌতম পাত্র মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এর সৌজন্যে। প্রশাসন যেন থেকেও নেই। যৎসামান্য সরকারি সহযোগিতা। তাও কহতব্য নয়। আর একজন পৃথিবীতে না থেকেও আছেন তাঁদের পাশে।

Related Articles

Back to top button
Close