fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অগ্নিদগ্ধ হয়ে দম্পতি সহ শিশুপুত্রের মৃত্যু মন্তেশ্বরে, চাঞ্চল্য 

অভিষেক চৌধুরী, কালনা: বন্ধ ঘরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল বাবা,মা ও ছেলের।বরাৎ জোরে প্রাণে বেঁচে গেলেও মারাত্মক জখম হয়েছে দম্পতির কন্যা।মর্মান্তিক এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার বাঘাসন গ্রামে।  এই মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা,নাকি দুর্ঘটনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। পুলিশ মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ জানায় মৃতরা হলেন সুদেব চন্দ্র দে (৩৯), রেখা দে (২৯) ও স্নেহাংশু দে (৮)। মন্তেশ্বরের বাঘাসন গ্রামেই তাদের বাড়ি। সুদেব রেল পুলিশে কর্মরত ছিলেন।রেখা সম্পর্কে তার স্ত্রী ও স্নেহাংশু তার ছেলে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম হয়েছে সুদেবের ১১ বছর বয়সী কন্যা রিমঝিম দে।পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান রেল পুলিশের কর্মী সুদেব চন্দ্র দে স্বপরিবার আত্মঘাতী হয়েছেন।আর এই কারণেই তিনি আগুন লাগিয়ে থাকতে পারেন। যদিও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীন )ধ্রুব দাস জানিয়েছেন , “অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে । ”

সুদেব চন্দ্রর বৃদ্ধা মা অন্নপূর্ণা দে এদিন বলেন , ছেলে,বৌমা, নাতি ও নাতনি রাতে নিজেদের ঘরেই শুতে যায়।ভোররাতে প্রতিবেশী ও বাড়ির অন্য সবাই চিৎকার চেঁচামেচি করে সুদেবের ঘরের দরজা ভাঙতে শুরু করে । তখনই তিনি অঘটনের কথা জানতে পারেন ।  সুদেবের দাদা বাসুদেব বাবু বলেন, ছেলে  স্নেহাংশুকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার সুদেব মন্তেশ্বরের মালডাঙ্গায় পিকনিকে গিয়েছিল । রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ ভাই ও ভাইপো বাড়ি ফেরে। তারপর স্বপরিবার ভাই সুদেব বাড়ির উপর তলায় নিজেদের ঘরে শুতে চলে যায়। ভোর রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ ভাইঝি রিমঝিমের আর্ত চিৎকার শুনে সবাই উপর তলায় ছুটে যান।তখনই এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে পরিবারের সবাই জানতে পারেন ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর সুদেবের ঘরে আগুন জ্বলছে দেখে আশপাশের বাড়ির লোকজন সেখানে ছুটে যান।সুদেবের ঘরের দরজা তখনও ভিতর থেকে বন্ধ ছিল।সেই ঘরে আটকা পড়ে থেকে রিমঝিম বাঁচার জন্য চিৎকার করছিল।ওই ঘরের দরজা ভাঙার পর স্থানীয়রা দেখেন একটি আলমারি দরজার  ঘেঁসিয়ে দাঁড় করানো রয়েছে।সেই সবকিছু সরিয়ে সবাই ঘরে ঢুকে ঘরের ভিতর তিনজনের অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।দগ্ধ রিমঝিমকে কোনরকমে উদ্ধার করা হয়।বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।রিমঝিমের মুখ থেকে স্থানীয় ও পরিবার সদস্যরা জানতে পারেন রাতে সুদেবের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী অশান্তি হয়।তখনই রাগের মাথায় সুদেব কেরোসিন তেল ঢেলে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় ।

 

যদি কি কারণে সুদেবের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর অশান্তি হয় সেই বিষয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যরাও কিছু জানাতে পারেননি।পুলিশের বক্তব্য রিমঝিম সুস্থ হয়ে উঠলে তার বয়ানের ভিত্তিতেই ঘটনার রহস্যের কুল কিনারা উদ্ধার সম্ভব হবে ।

Related Articles

Back to top button
Close