fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ডেবরায় গ্ৰাহকদের লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে গায়েব রাষ্ট্রায়ত্ত বাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবার প্রতিনিধি

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের ভবানীপুর অঞ্চলের অন্তর্গত পাটনা গ্রামের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব‍্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবার প্রতিনিধি নিশিকান্ত চক্রবর্তী ওই এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া গরিব মানুষের জমানো প্রায় ১৫ লক্ষ টাকারও বেশি টাকা জালিয়াতি করে পলাতক।
এখনও পর্যন্ত যে সমস্ত প্রতারিতরা তাদের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে , শুধু তাদেরটা হিসাব করলেই তছরূপ হওয়া টাকার পরিমান ১৫ লক্ষ। অনেকই এখনও পর্যন্ত জানেনইনা যে এমন কান্ডটা হয়ে বসে আছে। ন ‘মাসে বা ছয় মাসে যারা ব্যাংক মুখো হন তাদের হিসাব করলে এই লুটের পরিমাণ যে কত দাঁড়াবে, তার হিসাব অজানা।

সূত্রের খবর, করোও পঁচিশ হাজার টাকা, কারও ত্রিশ হাজার টাকা, কারও পঞ্চাশ হাজার, কারও আবার এক লক্ষ টাকা! তারা একটু একটু করে হাঁস, মুরগি, ছাগল প্রতি পালন করে, কেউ আবার প্রবাসে থাকা স্বামীর উপার্জনের জমানো টাকা রেখেছিলেন মাথার ওপর ছাদ বানাবেন বলে, কারও ১০০ দিনের কাজের টাকা, কারও বার্ধক্য ভাতার, কারও কন্যাশ্রীর টাকা! সব চেটে পুটে সাফ করে পালিয়েছে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক শাখার মালিক বা প্রতিনিধি নিশিকান্ত চক্রবর্তী।

অভিযুক্ত উইথড্রলস্লিপে সই বা টিপ ছাপ করিয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া গরিব মানুষ দের মধ্যে বেশির ভাগই মহিলা তাদের জমানো লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও। ব‍্যাঙ্ক থেকে টাকা তুললেও গ্রাহক টাকা পাননি। প্রতারিত এমনই এক স্কুল ছাত্রী সুজাতা সরকার জানিয়েছে ” আমি কন্যাশ্রীর প্রাপ্ত টাকা থেকে ২ হাজার টাকা তোলার জন্যে উইথড্রলস্লিপ জমা করে ২ হাজার টাকা নিয়েছি। কিন্তু পরে পাসবই আপটুডেট করে জানতে পারি ১০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে।

স্থানীয় আরও কয়েকজন এর মধ্যে বিদ্যা ভুঁইয়া একটু একটু করে ৫০ হাজার জমিয়ে ছিলেন, আশরাফপুরের মায়া ভুঁইয়া ছাগল চাষ করে ৪৫ হাজার জমিয়েছিলেন। তপন মাইতি গত এক বছর ধরে ৩০ হাজার টাকা জমা করেছেন। কিন্তু আপটুডেট করতে গিয়ে সবার চক্ষু চড়ক! কারও একাউন্টএ দুশো, কারও চারশো। খোদ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক অস্থায়ী কর্মীর একাউন্ট থেকে ১ লক্ষ টাকা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে তালা ঝোলানো ওই গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রটির অবস্থান ভবানীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরের মাত্র ১৫ মিটারের মধ্যেই পাটনা গ্রামে। ভবানীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা জগন্নাথ মূলা বলেন “আমরা অভিযোগ পেয়েছিলাম, উনি শালডহরির বাসিন্দা হওয়াই ওখানকার পঞ্চায়েতকে বলে আমি চেষ্টা করে ছিলাম যাতে অভিযুক্তকে বলে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে গরিব মানুষ গুলির টাকাটা ফেরত দেওয়া যায়। কারণ ব‍্যাঙ্ক তো আর টাকা ফেরত দেবে না। তাই একটা রাস্তা বের করার যথেষ্ঠ চেষ্টা করেছি, অভিযুক্ত কথা দিয়েছিলেন আস্তে আস্তে করে সবার টাকা উনি ফেরৎ দিয়ে দেবেন। কিন্তু এখন দেখছি উনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, পুলিশ প্রশাসনকে ব্যাপারটা জানানো হয়েছে। এবার প্রশাসন তার মত করে ব্যবস্থা নিক। ”

এই ব্যাপারে স্থানীয় এক সমাজসেবি গৌতম মাজি বলেন ” কারও ১০০ দিনের কাজের টাকা, কারও তিল তিল করে সঞ্চয় করা টাকা, কেউ বাড়ি বানাবেন, কেউ মেয়ের বিয়ে দেবেন, সবার এখন মাথায় হাত। এ যেনো সরকারি চিটফান্ড! এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনা সবই শুনেছেন, দেখেছি কারও কোনও হেল দোল নেই। এখন প্রতারিত এই গরিব মানুষ গুলোর কি হবে? কেউ কি ভেবেছেন? তার কোনও উত্তরও কারও কাছে নেই!

Related Articles

Back to top button
Close