fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কর্মজীবন থেকে অবসরের আগে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ডেবরার বিডিও অফিসের প্রধান করণিকের

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: এমনই এক অবিশ্বাস্য মৃত্যুর সাক্ষী থাকল খড়গপুর শহর। সূত্রে খবর দুর্ঘটনার পর ধীমানবাবু বাড়িতে ফিরে টিফিন করে, পরিবারের লোকেদের সঙ্গে সময় কাটিয়েও পরে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন! মাত্র ৬ মাস পরেই অবসর নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই মঙ্গলবার রাতে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনাটি। খড়গপুর শহরের ১১নম্বর ওয়ার্ড মালঞ্চ এলাকায় ওনার বাড়ি । পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা বিডিও অফিসের প্রধান করণিক ধীমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স ৫৯ বছর পেরিয়েছিল। জানা গেছে ধীমানবাবুকে রোজ দিনকার মতোই বিডিও অফিসের একটি গাড়ি বাড়ি থেকে নিয়ে যেত এবং ছেড়ে দিয়ে যেত। বাড়ি শহরের ভেতরে বলে ইদানিং তিনি ৬নম্বর জাতীয় সড়কের ওয়ালিপুর মোড়েই গাড়িতে উঠতেন এবং সেখানেই নামতেন। ওখানেই একটা দোকানে তাঁর সাইকেল থাকত। জাতীয় সড়ক টপকে ভেতর দিয়েই তিনি বাড়ি চলে আসতেন।

মঙ্গলবার এভাবেই তিনি অফিস ফেরতা গাড়ি থেকে নেমে সাইকেলে করে ফিরছিলেন। সেই সময় একটি মালবোঝায় লরি পেছন দিক থেকে ধাক্কা মারলে তাঁকে তিনি পড়ে যান, ধাক্কায় সাইকেলটি পুরো দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্থানীয়রা দৌড়ে ঘাতক লরিটিকে আটকান। খুবই সামান্য আঘাত লাগে তাঁর পায়ে অল্প একটু খুঁড়িয়ে হাঁটলেও ধীমানবাবু ঠিকই ছিলেন। সাইকেলের যথেষ্ট ক্ষতি হওয়ায় স্থানীয় মানুষজনরা সাইকে্লে ক্ষয়ক্ষতি বাবদ লরির চালকের কাছ থেকে কিছু ক্ষতিপূরণও আদায় করে দেন এবং স্থানীয়রাই তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেন।

বাড়ি ফিরে ধীমানবাবু হাতমুখ ধুয়ে বাড়ির পোশাক পরে পরিবারের সঙ্গে গল্প গুজব করেন। সন্ধ্যায় বাড়িতে তৈরি টিফিনও করেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ। হঠাৎই কাঁপুনি শুরু হয় তাঁর। দ্রুত নাড়ির গতি কমতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে পাশের একজন তরুণ চিকিৎসক খবর পেয়ে ছুটে আসেন। সমস্ত কিছু শোনার পর তাঁর ধারণা হয় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তিনিই পরামর্শ দেন হাসপাতালে স্থানান্তিত করতে।

আর  পড়ুন:এবার থেকে প্রতি রবিবার থাকবে লকডাউন

পরিবারের লোকেরা ফোন করেন ডেবরার বিডিওকে। বিডিও পিন্টু ঘরামি ওঁনাকে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং জানিয়ে দেন প্রয়োজনে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে প্রাথমিক চেক আপ করিয়ে নিতে। সেইমত ধীমানবাবুর ছেলে নিজেই গাড়ি নিয়ে তাঁকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন সঙ্গে স্ত্রী ও মেয়েও ছিলেন। কিন্তু পারলেন না ডেবরা পৌঁছাতে!!
তার কিছু আগেই গাড়িতেই মৃত্যু হয় তাঁর। ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন ডেবরার বিডিও পিন্টু ঘরামি, উনি বলেন “জানি না কোথা থেকে কি হয়ে গেল, আর কিছুদিন পরেই ওঁনার অবসর নেওয়ার কথা ছিল। আত্মার চির শান্তি কামনা করি , সমবেদনা জানাই ওঁনার পরিবারকে। ডেবরার সমাজসেবী তথা তৃণমূল নেতা প্রদীপ কর সহ অন্যান্য বিশিষ্টবর্গ ধীমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close