fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কমছে ধসের প্রবণতা, গাছ লাগিয়ে মাটি ধস ঠেকানোয় নজির কাজোড়া পঞ্চায়েতের

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: খনি অঞ্চল…তার ওপর ধস প্রবণ। কয়েকদিন আগেই জামবাদ খনিতে ধস হওয়ার ফলে শিউরে উঠেছে গোটা খনি অঞ্চল। এদিকে বিশ বাঁও জলে পুনর্বাসন। তার আগে পরিত্রাণের উপায় খুঁজছে ধস কবলিত এলাকার মানুষ। অবাধ বৃক্ষরোপনই ধস ঠেকানোর মূল হাতিয়ার। অর্জুন গাছ লাগিয়ে স্বনির্ভরতার পাশাপাশি ধস প্রবনতা কমিয়ে নজির গড়ছে অন্ডালের কাজোড়া পঞ্চায়েত। রীতিমতো মডেল প্রজেক্টের দৌড়ে এগিয়ে।

 

 

খনি অঞ্চলের আতঙ্কের কারণ ধস। সম্প্রতি কাজোড়া এরিয়ার জামবাদ খোলামুখ খনি ধসের আতঙ্কের ছাপ খন অঞ্চলবাসীর মুখে। ইসিএলের পরিত্যাক্ত আস্ত আবাসন নিমেষেই তলিয়ে যায়। দশ দিন পর তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তারপর বারাবনিতে একই রকম ধসে দুটি ডাম্পার তলিয়ে যায়। বরাত জোরে প্রানে বাঁচে এক চালক। চলতি বছর লাগাতার বর্ষণে ধস আতঙ্কে খনি অঞ্চলবাসী। ধসকবলিত মানুষের পুনরবাসনের কাজ বিশ বাঁও জলে। ধসের হাত থেকে পরিত্রানের দিশা খুঁজছে বাসিন্দারা। আর সেই দিশা দেখিয়ে নজির গড়ল অন্ডালের কাজোড়া পঞ্চায়েত।

দিশাটা কি?

বছর পনের আগেও খা খা করত খনি অঞ্চলের ডাঙা জমি। ওইসব ফাঁকা মাঠে তসর চাষের উদ্যোগ নেয় কাজোড়া পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসন। এমজিএনআরইজিএস প্রকল্পের ১০০ দিনের কাজে লাগানো হয় অর্জুন গাছ। শুরুতে প্রায় ১৩ হাজার গাছ লাগানো হয়েছিল। পরে আর প্রায় ৯ হাজার গাছ লাগানো হয়। গাছগুলি রয়েছে ৫ নং প্রোপার কাজোড়া এলাকায়। সেখানে তসর চাষ হয়। এছাড়াও কাজোড়া রায়দত্ত এলাকায় আরও ১০ একর জমির ওপর প্রায় ১২ হাজার অর্জুন গাছ সম্প্রতি লাগানো হয়েছে।

 

 

 

 

বর্তমানে একটি ১০০ দিনের কাজে স্থানীয় একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী দেখাশোনা করে। এছাড়াও খাস কাজোড়ার ১০ ও ১১ নং কোলিয়ারী সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩ একর জমিতে সোনাঝুরী গাছ লাগানো হয়েছে। তবে গাছ লাগানো হলেও বেড়া না থাকায় প্রচুর চারগাছ নষ্ট হয়ে যায় বলে আক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের। অন্ডাল বিডিও ঋত্বিক হাজরা জানান,” ইসিএল কাজোড়ার বেশ কয়েকটি এলাকা ধস প্রবন বলে ঘোষনা করেছিল। ওইসব জমিতে অর্জুন গাছ লাগানো হয়। এছাড়াও ১০০ দিনের কাজে আমের বাগান তৈরী হয়েছে। প্রায় ২৫ হেক্টর জমির ওপর গাছ লাগানো আছে। সম্প্রতি মাটি সৃষ্টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। গাছ লাগানোর ফলে ওই সব শুকনো জমিতে এখন প্রচুর ঘাসও জন্মেছে। বড় সাফল্য, মাটি ধস ওইসব এলাকায় রোধ হয়েছে।” দুর্গাপুর আঞ্চলিক বনাধিকারিক মিলনকান্তি মন্ডল জানান,” যেকোন গাছ এমনকি ঘাসও যদি থাকে মাটিকে ধরে রাখে। মাটি ক্ষয় রোধ করে। তাই খনি অঞ্চলে ওইসব ডাঙা জমিতে গাছ লাগানো দরকার।” তিনি আরও বলেন,” চলতি বছর বনমহোৎসবে ২ লক্ষ চারাগাছ বিলি করা হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close