fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভর দুপুরে ফিল্মি কায়দায় ডাকাতি, গোল্ড লোন সংস্থা থেকে ৩০.৫ ভরি সোনা লুঠ

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: দিনে-দুপুরে বর্ধমান শহরের একটি গোল্ড লোন সংস্থার অফিসে ঢুকে ৩০,৫ ভরি  সোনা লুঠ করে নিয়ে পালাল সশস্ত্র দুষ্কৃতি দল। সোনা লুঠ করে পালানোর সময় দুষ্কৃতিদের সামনে পড়ে যান হীরামণ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। দুস্কৃতিরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে  বাইকে চেপে চম্পট দেয়। শুক্রবার দুপুরে বর্ধমান থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে জনবহুল বিসি রোড এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনা। যা নিয়ে শহর বর্ধমানের ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

[আরও পড়ুন- উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যের সেরা দশে পুরুলিয়ার  দুই কৃতী]

জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় ছাড়াও বর্ধমান থানার আইসি পিন্টু সাহা সহ অন্য পুলিশ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা দুস্কৃতিদের ছোঁড়া গুলিতে জখম হীরামণ মণ্ডলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান। দুস্কৃতিদের খোঁজে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশি তৎপরতা। জেলার বর্ধমান আরামবাগ রোড সহ অন্য সড়কপথে নাকা চেকিংয়ে নেমে পড়ে পুলিশ কর্মীরা। বর্ধমান শহরের বিসি রোডে রয়েছে একটি গোল্ড লোন সংস্থার অফিস।

ওই সংস্থার কর্মী পলাশ মণ্ডল জানিয়েছেন, এদিন দুপুরে ৬ জনের সশস্ত্র দুস্কৃতি দল তাদের ওই সংস্থার অফিসে ঢুকে পড়ে। দুস্কৃতিদের প্রত্যেকের হাতেই বন্দুক ছিল। পলাশ বাবু বলেন, দুস্কৃতিরা প্রথমেই আগ্নেআস্ত্র দেখিয়ে সংস্থার কর্মীদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে সংস্থার কর্মীদের এক জায়গায় আটকে রেখে অবাধে লুঠপাট চালায়। পলাশ মণ্ডল জানিয়েছেন, দুস্কৃতিরা  তাদের সংস্থার অফিস থেকে ৩০,৫ ভরি  সোনা লুঠ করে নিয়ে পালিয়েছে।

[আরও পড়ুন- বাড়ি ভাড়া নিয়ে দুই পরিবারের বিবাদ, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ]

দুষ্কৃতিদের ছোঁড়া গুলিতে আহত হীরামন মণ্ডল জানিয়েছেন যে, এদিন দুপুরে তিনি বিসি রোডে লোন সংস্থার অফিসে পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন।  অফিসে ঢোকার সময়ে তিনি আগ্নেআস্ত্র সহ দুই দুস্কৃতিকে দেখতে পেয়ে যান। দুস্কৃতিদের মুখে বড় মাস্ক লাগানো ছিল। সেই কারণে তাদের মুখ ভালো ভাবে দেখা যাচ্ছিল না। দুস্কৃতিদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন এক দুস্কৃতি বন্দুক দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। এরপরেই  দুস্কৃতি দলের অপর একজন গুলি চালায়। সেই গুলি গিয়ে তাঁর পিঠে লাগে। বর্ধমান থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি

জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন , ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুস্কৃতিদের খোঁজে জেলার প্রতিটি রাস্তায় নাকা তল্লাশি করা হচ্ছে। জেলার প্রতিটি থানার আইসি বা ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দুস্কৃতিরা পালিয়ে যেতে না পারে।

 

Related Articles

Back to top button
Close