fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ইছামতী নদীর বাঁধ সারাতে দেরি, অভিযোগের তীর পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা: সুপার সাইক্লোন আমফান-এর দিন ইছামতীর নদীর বেশ কিছু জায়গায় জলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় বহু গ্রাম। ভেসে যায় ওই গ্রামের বহু বাড়িঘর এবং গবাদি পশু, কোন মতে রক্ষা করা যায়নি। জীবিত মানুষ গুলোর ঠাই হয় পাকারাস্তার উপরে।

 

 

বিগত চার ৫ দিন কেটে যাওয়ার পরেও নদীবাঁধ সারাই হচ্ছে না। বারবার সেচ দপ্তর ও প্রধানকে জানানো সত্ত্বেও বাঁধ মেরামতির কাজ হয়নি বলে অভিযোগ পাটলি খানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ও গ্রামবাসীদের। ওই পঞ্চায়েত সদস্যর অভিযোগ গ্রামের মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়ে মেম্বার বানিয়েছে, আর আমরা মেম্বাররা মিলে আপনাকে পঞ্চায়েত প্রধান বানিয়েছি। এই গ্রামের মানুষ আমাদের কথা মতো ভোট দিয়েছে, এখন তাদের দুঃসময়, তাদের পাশে যদি আমরা না দাঁড়াই তারা কোথায় যাবে? তাদের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, নেই থাকার জায়গা, আবার নদীতে জোয়ার আসলে ভাসতে হবে এই গ্রামের মানুষদের। তারই প্রতিবাদে পঞ্চায়েত প্রধান পারুল গাজীর বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই গ্রামের মানুষ জন।

 

 

পঞ্চায়েত প্রধানের অভিযোগ, ‘মিথ্যে আমাকে হেনস্থা করে এই গ্রামের কিছু মানুষ।’ এরপর বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাসনাবাদ থানার পুলিশ গিয়ে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর পিছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে দিয়েছে সেচ দপ্তর।

 

 

সূত্রের খবর, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রামবাসীদের অভিযোগ ২০০৯ সালে যখন আয়লা ঝড় হয়েছিল, তারপর সরকারের আধিকারিকরা এসে, তারা বলে গেছিল এই নদীর বাঁধ সম্পূর্ন কংক্রিটের তৈরি হবে এবং নদীর পাশ দিয়ে যে ভেড়ির রাস্তা গিয়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি গ্রামের মধ্যে, সেই রাস্তাটা সম্পূর্ণ পাকা হবে। কিন্তু তারপরেও ওই সুন্দরবন গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে আরেকটা সাইক্লোন বুলবুল ঝড়, ক্ষতি হয়েছিল প্রচুর চাষের জমি, নষ্ট হয়েছিল পাকা ধান, পাকা বাড়ি, রাস্তার উপরে বড় বড় গাছ পড়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল সন্দেশখালি, হেমনগর, তুষখালী, ভান্ডার খালি, সাহেব খালি, লেবুখালী, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ। এই সমস্ত এলাকাগুলি সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, বহু মানুষ মারাও গিয়েছিলেন।

 

 

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেলিকপ্টারে চড়ে বুলবুল ঝড়ের তান্ডব লীলা দেখেছিললেন, তারপর বসিরহাটে কর্মতীর্থে প্রশাসনিক বৈঠক হয়।তার পর ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তার পর তাদের হাতে চেক তুলে দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তারপর সেই গ্রামবাসীদের ঘাড়ের উপরে এসে পড়ল আমফান সুপার সাইক্লোন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু মানুষ, নিঃস্ব হয়ে গেছে এলাকা। তারপর দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিধ্বস্ত এলাকাগুলি একই হেলিকপ্টারে পরিদর্শন করেন, তারপর সেই হেলিকপ্টার এসে নামে বসিরহাট কলেজ মাঠে। কলেজের ভিতরে বসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক হাজার কোটি টাকা রাজ্যকে অগ্রিম দিয়ে যান।

 

 

কিন্তু সেই গ্রামের মানুষ এবারও কি প্রশাসনের কর্তা দের কাছ থেকে একই কথা শুনবেন? এখনো সেই সুন্দরবনের মানুষ একই অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, তারা নিরুপায়, তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ প্রতি বছর একটি করে সাইক্লোন আছে এই সুন্দরবনে। ঠিক তার পরেই এলাকার রাজনৈতিক নেতারা তারা মাঠে নেমে পড়ে তাদের পেট ভরাতে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের দেখা পাওয়া যায় গ্রামে তারপর সেই আগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া শুরু হয়। বাঁধ তৈরি করে দেওয়া হবে, পাকা রাস্তা তৈরি হবে। কিন্তু সরকারের কথা ছিল গ্রামে কোনও কাঁচা বাড়ি থাকবে না, গ্রামের কোন কাঁচা রাস্তার থাকবে না, সমস্ত গ্রামের বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। যদি সেই প্রতিশ্রুতি পালন করা হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে এই গ্রামের মানুষ গুলি প্রতিবছর নোনাজল খেতে হয় । এই উত্তর আমার জানা নেই, যদি কোনও সহৃদয় ব্যক্তি বলে দেন, উপকৃত হবে ওই গ্রামের অসহায় মানুষগুলো।

Related Articles

Back to top button
Close