দেশহেডলাইন

দিল্লির প্রবাসী বাঙালির ভরসা বিজেপিতেই

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লিতে বিজেপি শোচনীয় হারের মুখ দেখলেও বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো থেকে ভালো ভোট পেয়েছে বিজেপি প্রার্থীরা। কেজরিওয়াল ঝড়েও দিল্লির বাঙালিরা কিন্তু ভরসা রেখেছেন বিজেপিতেই। মূলত দুটি বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চল করোল বাগ থেকে ৮০ শতাংশ বাঙালি ভোট এবং চিত্তরঞ্জন পার্ক থেকে প্রায় ৪৫ শতাংশ বাঙালি ভোট গেছে বিজেপির পক্ষে। অন্যান্য বিধানসভার বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চল গুলি থেকে ও বুথ ভিত্তিক ফলাফলে এগিয়ে আছে বিজেপি। সুতরাং আম আদমি পার্টির পক্ষে দিল্লির জনাদেশ গেলেও বাঙালিদের সিংহভাগই বিজেপির দেশ গড়ার লক্ষ্যে তাদের সাথী হয়েছেন বলেই মনে করছেন দিল্লি বিজেপি।

আরও পড়ুন: কাশ্মীরকে উন্মুক্ত জেল ঘোষণা করা হোক: তারিগামি

দিল্লিতে মূলত বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চল বলতে করোল বাগ এবং চিত্তরঞ্জন পার্ককে বোঝানো হয়। করোল বাগ অঞ্চলে ১৪ হাজার বাঙালি ভোটার আছেন। যদিও বসবাস করেন প্রায় কুড়ি হাজার বাঙালি। এই অঞ্চলের  বাঙালিরা মূলত স্বর্ণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এই অঞ্চলে বাঙ্গালীদের ৮০ শতাংশ  ভোট পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।  আম আদমি পার্টির  প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র কুড়ি শতাংশ ভোট। গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ ভোট এই অঞ্চলে বেড়েছে বিজেপির। এই প্রসঙ্গে স্বর্ণ ব্যবসায়ী গৌড় সানা জানালেন, আমরা বরাবরই বিজেপিকে ভোট দিই। আগে আমাদের এই অঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার বাঙালি বসবাস করত। কিন্তু দিল্লি কর্পোরেশন থেকে দূষণের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বহু সোনার কারখানা এই অঞ্চলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এবং তারা  পশ্চিমবঙ্গে ফিরে গেছেন বা মুম্বই এবং চেন্নাইতে কাজ খুঁজে নিয়েছেন। এই অহেতুক সিলিংয়ের সমস্যার জন্য এখানকার বাঙালিরা আম আদমি পার্টির উপরে প্রচন্ড বিরক্ত ছিল। তার পরেও এখানে যে বাঙালিরা থাকেন তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তু মানুষ। বিভিন্ন সময় ভিটেমাটি ছেড়ে একবস্ত্রে তারা এই দেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: শ্লীলতাহানির অভিযোগে আটক অভিনেতা শাহবাজ খান

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার পরে এরা সবাই ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন।  সবাই ভারতীয় জনতা পার্টির উপরে খুব খুশি ছিল। সেই কারণেই এবার বিজেপির ভোট আরও বেড়েছে।  মূলত করোল বাগের বাঙালি অঞ্চল গুলির সব বুথ থেকেই প্রচুর ভোটে এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপি প্রার্থী। এক সময় মনে করা হচ্ছিল করোল বাগ সিটটা বিজেপি জয় করবে। কিন্তু ভোট গণনা বাঙালি অঞ্চলের বুথগুলি ছেড়ে বেরোতেই ধীরে ধীরে সেই আশা বিজেপির ক্ষীণ হতে শুরু করে।

মিনি বেঙ্গল বলে পরিচিত চিত্তরঞ্জন পার্কেও গতবারের তুলনায় এবার বাঙালি ভোট বেড়েছে বিজেপির পক্ষে। চিত্তরঞ্জন পার্কের বাঙালি ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার। সেখান থেকে আপ প্রার্থী সৌরভ ভরদ্বাজ হাজার ১৮৫৪ টি ভোট বেশি পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শিখা রায় এর থেকে। গতবার এই অঞ্চল থেকে সৌরভ ভরদ্বাজ বিজেপি প্রার্থীর থেকে প্রায় ২২০০ এর বেশি ভোটে লিড পেয়েছিলেন। সুতরাং সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে প্রায় ৪৫০টির বেশি ভোট ২০১৫ বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবারে বেশি পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসে টাকা জোগান, হাফিজ সইদের ৫ বছরের কারাদণ্ড পাক আদালতের

চিত্তরঞ্জন পার্কের আদি বাসিন্দা অধ্যাপিকা সুরঞ্জনা সরকারের কথায়, এবারের ভোটে কাটাকাটি অংকে কংগ্রেসের ভোটটা সম্পূর্ণটাই চলে গেছে আপের খাতায়। গত বিধানসভার কংগ্রেস বেশ কিছু ভোট পেয়েছিল। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে মাত্র সাড়ে চারশো ভোট। সেই দিক থেকে যদি হিসাব করা হয় তাহলে বলতে হবে বিজেপির ভোট শুধু বাড়েনি হয়তো লিডিং পজিশনে আছে। কারণ বিজেপি এবং আম আদমি পার্টির প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির মধ্যে যে পার্থক্য দেখছেন সেটা হয়েছে কংগ্রেসের ভোট সম্পূর্ণভাবে আপে চলে যাওয়াতে। না হলে এবার এই অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থী আরও অনেক বেশি ভোটে এগিয়ে যেত। সুতরাং বাঙালি অধ্যুষিত চিত্তরঞ্জন পার্ক অঞ্চলে  বিজেপির ভোট আগের বারের তুলনায় যথেষ্ট বেড়েছে বলেই মনে করছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন: করোনা ভাইরাসের জের, চিন থেকে পণ্য রপ্তানি কমতে থাকায় বড়সড় প্রভাব বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্পে

অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যেও পালাম, দারোকা তুঘলকাবাদ, লক্ষ্মীনগর, গান্ধীনগর প্রভৃতি অঞ্চলগুলোতেও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বাঙালি ভোট। এইসব অঞ্চলের বাঙালিরা যে বিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতি বাঙ্গালিদের আবেগ এবং আনুগত্য । এছাড়াও সারা দিল্লি জুড়ে বাংলার বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী সহ সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ,লকেট চ্যাটার্জি  এবং অন্যান্য বিজেপি নেতৃবৃন্দ ও সাংসদরা যেভাবে প্রচার করেছেন তার ফলেই প্রবল আপ ঝড়েও দিল্লির বাঙালি ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে দিল্লির বিজেপি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close