fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দিল্লি থেকে আসা শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত, শিলিগুড়িতে ব্যাপক গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: করোনায় আক্রান্ত আরও এক ব্যক্তির সন্ধান মিলল শিলিগুড়িতে। দিল্লি থেকে আসা এই শ্রমিকের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর শনিবার ছড়িয়ে পড়তেই শিলিগুড়িতে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ নিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কেননা এই যুবক দিল্লি থেকে সম্প্রতি শিলিগুড়িতে পৌঁছে স্বাধীনভাবেই সকলের সঙ্গে মেলামেশা করেছে ও বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে বলে এলাকার মানুষই জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এখন শিলিগুড়ির মোট পাঁচ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে আসা ওই যুবক শিলিগুড়ি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। দিল্লিতে শ্রমিকের কাজে গিয়েছিল। পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা শুরু হতেই ওই যুবক শিলিগুড়িতে আসেন। দিল্লি ছাড়ার আগে সেখানে তার লালারসের নমূনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করে রাখা হয়।

শিলিগুড়িতে পৌঁছে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আদর্শনগরে বাড়িতে গেলে ওই যুবকের বাবা তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেননি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তখন সে শিলিগুড়ি পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধরমনগরে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেয় বলে এলাকার মানুষ জানিয়েছে। কিন্তু ওই যুবক ঠিক কবে শিলিগুড়িতে এসেছে তা ধন্দ দেখা দিয়েছে।

এদিকে দিল্লিতে লালারসের নমুনা পরীক্ষায় শিলিগুড়ির এই যুবকের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। সরকারিভাবে জেলাশাসকের মাধ্যমে শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের কাছে শনিবার সেই খবর আসে। সেই মতো পুলিশ ও স্বাস্থ্য আধিকারিকরা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শনগরে গেলে তার পরিবার জানিয়ে দেয় করোনা আক্রান্ত ওই যুবক সেখানে থাকে না। শেষে ওই যুবকের বাবা পুলিশকে সহযোগিতা করেন। তিনিই পুলিশের সঙ্গে গিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ধরমনগরে যে বন্ধুর বাড়িতে তার ছেলে আশ্রয় নিয়েছে তা দেখিয়ে দেন।

ওই যুবককে মাটিগাড়ায় কোভিড হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি তার বন্ধুর বাড়ির আট জন সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত যুবকে বাবা সহ মোট ২০ জনকে কোয়ারান্টাইনে নেওয়া হয়েছে।

এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা স্বাস্থ্য আধিকারিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। কেননা শিলিগুড়ি পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকা একটি ঘিঞ্জি বস্তি এলাকা। ফলে সকলেই ধরে নিচ্ছে যে ওই যুবকের সঙ্গে এলাকায় একাধিক মানুষ সংস্পর্শে এসেছে।

এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, দিল্লি থেকে আসার পর ওই যুবক কিভাবে নিজের ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়ালেন। প্রশাসনের তরফ এ ধরনের বহিরাগত ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি কেন থাকছে না? যদিও এনিয়ে প্রশাসনিকভাবে কেউ কোনও মন্তব্য করেননি। বাইরে ধেকে আসা শ্রসিক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ ফেরার পর প্রশাসনের কোনও নজরদারি যে থাকছে না তা এদিনের ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এতেই গোটা শহর ও মহকুমায় করোনার ব্যাপক গোষ্ঠী সংক্রমণ দেখা দিতে পারে বলো তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

Related Articles

Back to top button
Close