fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গৃহবন্দি করেছে পুলিশ, বিস্ফোরক অভিযোগ AAP-এর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার দিল্লিতে বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর দল আম আদমি পার্টির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁকে সব মিটিং বাতিল করতে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও কেজরিওয়ালকে গৃহবন্দি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছে। গতকাল দিল্লিতে বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। তারপরই তাঁর বাড়ির সামনে ব্যারিকেড তৈরি করেছে দিল্লি পুলিশ। দলীয় নেতাকর্মীদের তো বটেই, দিল্লির বিধায়কদেরও নাকি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। মঙ্গলবার ভারত বনধের দিন বিস্ফোরক অভিযোগ করল আম আদমি পার্টি । এদিন সাতসকালে টুইট করে আপের তরফে দাবি করা হয়, গতকাল কৃষকদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকেই দিল্লি পুলিশ মুখ্যমন্ত্রীকে ‘গৃহবন্দি’ করে রেখেছে।

আপের অভিযোগ, কেজরিওয়ালের বাড়ির রাস্তা আটকে দিয়েছে পুলিশ। তাঁকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দিল্লির তিন মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছে পুরসভার কর্মীরা যেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের ঠেকানোর নাম করে দিল্লি পুলিশ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের রাস্তা ব্যারিকেড করে দিয়েছে। কেউ বাড়িতে ঢুকতে বা বেরোতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সবক’টি প্রশাসনিক বৈঠক বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। দিল্লি পুলিশের নর্থ ডিস্ট্রিক্টের ডেপুটি কমিশনার অ্যান্তো আলফানসো এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সতর্ক আছি। অরবিন্দ কেজরিওয়াল সোমবার সন্ধ্যা আটটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। ১০ টা নাগাদ ফিরে আসেন। তাঁকে কেউ আটকাতে যায়নি।’

এদিন সকাল থেকে কৃষক সংগঠনগুলির ডাকে দেশজুড়ে বনধ শুরু হয়েছে। সকাল ১১ টা থেকে বিকাল তিনটে পর্যন্ত টানা চার ঘন্টা চাক্কা জ্যাম-এর ডাক দিয়েছেন কৃষক নেতারা। কিন্তু সেই চাক্কা জ্যামের আগেই রাজধানী দিল্লিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে তোলা বিস্ফোরক অভিযোগ। সকাল ১০টা ২৯ মিনিটে আপের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। টুইটে লেখা হয়, ‘বিজেপি’র দিল্লি পুলিশ মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালকে গৃহবন্দি করেছে। গতকাল সিঙ্ঘু সীমান্ত থেকে ফেরার পরেই গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে ওঁর বাসভবনে কারও প্রবেশ এবং সেখান থেকে বেরনোর অনুমতি নেই’।

আরও পড়ুন: ভারত বনধ: রাজধানীতে শুরু রেল রোকো-রাস্তা অবরোধ

আপের বিস্ফোরক অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসে বিজেপির আজ্ঞাবহ দাসানুদাসে পরিণত হওয়া দিল্লি পুলিশ। নিজেদের মুখ রক্ষায় পাল্টা আসরে নামেন উত্তর দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার। তিনি দিল্লি পুলিশের টুইটার হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করা হয়নি। শুধুমাত্র তাঁর বাসভবনের সামনে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে আপের সঙ্গে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষ না বাঁধে, তার জন্যই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

সেখানেই থেমে থাকেনি আম আদমি পার্টি। এরপর সাংবাদিক সম্মেলনে আপ বিধায়ক সৌরভ ভারদ্বাজ দাবি করেন, “গতকালই সিঙ্ঘু সীমান্তের কৃষকদের সঙ্গে দেখা করেছেন কেজরিওয়াল । ওঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। ফেরার পরই দিল্লি পুলিশ ওঁর বাড়ির সামনে ব্যারিকেড করে দিয়েছে। তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখার মতো রাখা হয়েছে। আর এ সব কিছুই হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ইশারায়।” সৌরভ ভারদ্বাজের দাবি,”মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সমস্ত সরকারি বৈঠক বাতিল করতে হয়েছে। দলীয় কর্মীরা দেখা করতে গেলে তাদের মারধর করা হচ্ছে।” প্রসঙ্গত, এর আগে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের আগে সেরাজ্যের ৩ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল কেন্দ্র। তবে, ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ এক কথায় বেনজির।

 

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close