fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

কমেছে ঠান্ডা পানীয়র চাহিদা, বিকল্প ব্যবসার খোঁজে বিক্রেতারা

দেবজ্যোতি কর্মকার, করিমপুর নদিয়া:  মে মাস শেষ। অথচ এখনও পর্যন্ত তীব্র গরমে অসহ্য হয়ে উঠতে হয় নি কাউকেই! প্রতিবারের চেনা দাবদাহ এবছর উধাও! প্রকৃতির খেলা এমনই! নাকি লকডাউনের দু’মাসে দেশের দূষণের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলেই এমন হচ্ছে তা ভাবতেই হচ্ছে।

লকডাউনের পর মানুষের জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। অনেক অনেক অভ্যাস মানুষ নিজে থেকেই বদলে ফেলতে চাইছেন এবং পেরেওছেন। তারমধ্যে একটি হল খাদ্যাভ্যাস। পাশাপাশি মানুষের জীবিকার পরিবর্তন কিছুটা হলেও হয়েছে। করোনা আবহে সাধারণ মানুষের সচেতনতার ঠেলায় একপ্রকার বাধ্য হয়েই অভ্যাস বদল ব্যবসায়ীদেরও।

প্রতিবছর এই গরমের সময়ে আট থেকে আশি প্রায় প্রত্যেক মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হল বিভিন্ন ব্রাণ্ডের ঠান্ডা পানীয়। দুপুরে ঘেমে ক্লান্ত হয়ে হাঁফিয়ে ওঠা মানুষের মুখে মুখে ঠান্ডা পানীয়ের বোতল দেখেননি এমনটা ভাবাই কঠিন। আবার বিকেলের দিকে পুরো পরিবার একটু হাওয়া খেতে বেরিয়ে আইসক্রিম খেয়েই গরম থেকে সামান্য রেহাই পাবার চেষ্টা করেন অনেকেই।

এবার সেসব ছবির চিহ্ন মাত্র নেই। একদিকে যেমন গরমের তীব্রতা নেই। মে মাসে হাতে গোনা কয়েকদিন সামান্য গরম পড়লেও তাতে নাভিশ্বাস উঠে যাবার মতো কিছু হয় নি। তবে সবথেকে বড় কথা হল এই গরমের সময়ের ঠান্ডা পানীয় বিক্রি যেমন কমে গেছে তেমনই বিক্রি বেড়েছে বিকল্প পানীয় হিসেবে ডাবের জল।
এমনিতেই ডাবের জলে থাকে এন্টিঅক্সিডেন্ট,ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন -সি, এবং প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতির মতো খনিজ মৌল যা আমাদের দেহের ইমিউনিটি ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যেহেতু করোনা আবহে মানুষের অন্যতম লক্ষ্যই হল শরীরের ইমিউনিটি ক্ষমতা বাড়ানো, তাই ডাবের জলকে নিত্যদিনের খাবার তালিকায় রাখছেন অনেকেই। পাশাপাশি বাজারের ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা পানীয় খেলে যে ক্ষতিই বেশি তাও বুঝেছেন অসংখ্য সচেতন মানুষ। হয়তো এই কারণেই এবারের গরমে ঠান্ডা পানীয় বিক্রি একদম তলানিতে!

করিমপুরের আনন্দপল্লির এক বাসিন্দা জানালেন, ”এ বছর বাড়িতে এসে ডাব পেড়ে কিনে নিয়ে গেল একজন। দামও গতবারের চেয়ে কিছুটা হলেও বেশি পেলাম। আর ডাবের চাহিদাও নাকি অনেক বেশি! আমাদের বাড়িতে কতগুলো ডাব রাখতে চাইলাম। উলটে প্রায় সবই নিয়ে গেল! এমন চাহিদা আমি আমার জীবনে দেখিনি ”।

করিমপুর বাজারের এক ঠান্ডা পানীয় বিক্রেতা সঞ্জয় দেবনাথ অকপটে জানালেন, এবছর ঠান্ডা পানীয় বিক্রি প্রায় অর্ধেক! আবার শুধু ঠান্ডা পানীয়ই নয়, বিক্রি কমে গেছে গরমের আরও একটি জনপ্রিয় ঠান্ডা খাবার আইসক্রিমও। করিমপুর লক্ষ্মীপাড়ার এক আইসক্রিম বিক্রেতা তাপস সরকারের কথায়, ”আইসক্রিম বিক্রি এখন খুবই কম। যে দু’দিন গরম পড়েছে সেই ক’দিনেও বিক্রির হার বরাবরের চেয়ে অর্ধেক। বাকি দিনগুলোতে বিক্রির বেহাল দশা। উপায় না থাকায় আমাদের এখন অন্য জীবিকার কথা ভাবতে হচ্ছে। ”

Related Articles

Back to top button
Close