fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বাংলায় আর্সেনিক অ্যালবামের চাহিদা তুঙ্গে, যোগান দিতে হিমশিম কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএইচ

রক্তিম দাশ, কলকাতা: করোনা প্রতিষেধক হিসাবে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক হোমিপ্যাথি ওষুধ আর্সেনিক অ্যালবামকে ব্যবহারের নিধান দেওয়ার পরই বাংলায় ওষুধটির চাহিদা তুঙ্গে। বিভিন্ন হোমিপ্যাথি ওষুধের দোকানে আর্সেনিক অ্যালবাম যেমন ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে তেমনই কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অব হোমিপ্যাথি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

 

সল্টলেকের ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অব হোমিপ্যাথির ডিরেক্টর ডা.সুভাষ সিং যুগশঙ্খকে বলেন,‘ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্টান আমাদের কাছে এই ওষুধটি চেয়ে পাঠাচ্ছেন কিন্তু আমরা চাহিদা অনুয়ায়ি যোগান দিতে পারছি না। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে ৫ হাজার ফাইল চাওয়া হয়েছিল। মাত্র দেড় হাজার দেওয়া গিয়েছে। এই ভাবে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট চেয়েছিল ৬ হাজার। দেওয়া হয়েছে ১ হাজার। ব্যারকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ৭ হাজারের চাহিদার মধ্যে ২৫০০ দেওয়া গেছে। বিএসএফকে ২৫০০ এর মধ্যে ১৩০০, সিআরপিএফকে ১০০ আর হিডকোকে ৫০০টি ফাইল দেওয়া গিয়েছে। আমরা সব ওষুধই বিনামূল্যে দিয়েছি এনআইএইচের পক্ষ থেকে।’

 

 

 

এই সংস্থার প্রাক্তণ ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন,‘ আমরা বিধাননগর পুরসভাকে মডেল করে আর্সেনিক অ্যালবাম দিয়ে একটি রির্সাচ প্রজেক্ট করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাঁরা এই ওষুধটি প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহার করতে চান তাঁরা আমাদের হাসপাতালে এসে বিনামূল্যে সংগ্রহ করবেন। অতীতেও স্প্যানিস ফ্লু, ইনফ্লয়েঞ্জা, কলেরার মহামারির ক্ষেত্রে হোমিপ্যাথি ওষুধের সাফল্যে রেট খুব বেশি ছিল। করোনা ক্ষেত্রেও আমরা এটা আশা করছি।’

 

 

অভিজিৎবাবু আরও বলেন, ‘পুনের পুলিশ কমিশনার শ্রী ভেঙ্কটেস পুনে পুলিশ ফোর্সকে আর্সেনিক অ্যালবাম ৩০ খাইয়েছেন। ওনার বক্তব্য এতে এখনও পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীতে করনা উপসর্গ পাননি। ডাক্তার অ্যাই জ্যাক মাথাই প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, যিনি করোনা সংক্রান্ত ভারত সরকারের টাস্ক ফোর্স এর সদস্য প্রতিষেধক হিসাবে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার এর কথা বলেছেন।’

 

 

আর্সেনিক অ্যালবামের চাহিদা বাড়ার কারণে এর দাম প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি লকডাউনের কারণে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর উৎপাদনও বন্ধ। লকডাউনের আগে এই ওষুধটির ১ পাউন্ডের দাম ছিল কলকাতার বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। সেটি এখন বেড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ১ পাউন্ড আর্সেনিক অ্যালবাম থেকে ৩০০ শিশি প্রস্তুত করা যায়। ২০ নম্বর গ্লোবিউলসের সঙ্গে ৭ থেকে ৮ ফোঁটা দিয়ে প্রতি ১ গ্রাম ওষুধ  তৈরি করতে খরচ হতো মাত্র ৫ টাকা। যা ১০ থেকে ১২ টাকায় মিলত। এখন তা ৪০ টাকার  মতো দাম পড়ছে। হোমিওপ্যাথি মতে সকালে খালি পেটে ৪ থেকে ৫ টি গ্লেবিউলস টানা তিনি দিন খেতে হবে। এরপর আবার একমাস পরে আবার খেতে আর্সেনিক অ্যালবাম।

Related Articles

Back to top button
Close