fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাজ্যের ভাগচাষিদের ক্ষতিপূরণের দাবি

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : চিরদিন ভাগচাষি তথা লিজচাষিরা সরকারি উদাসীনতার শিকার। কোনোদিন মর্যাদা জোটেনা তাঁদের। সম্প্রতি প্রবল সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য রাজ্য সরকার কয়েকশো কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষনা করেছে। কিন্তু সেই অনুদান বা ক্ষতিপূরণের টাকা যাঁরা ভাগচাষ করেন বা লিজ নিয়ে জমিতে ধান সহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলান, তাঁরা পাবেননা।

 

 

কৃষক সংগ্রাম পরিষদ এবং সারা ভারত কৃষক ও ক্ষেতমজদুর সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে রাজ্যে কৃষিমন্ত্রী আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদারকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দাবি জানানো হয়েছে আমফানের ক্ষতিপূরণের টাকা যাতে ভাগ বা লিজচাষিরা পান।

 

 

কৃষক সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক নারায়ন চন্দ্র নায়ক এবং সারা ভারত কৃষক ও ক্ষেতমজদুর সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পঞ্চানন প্রধান এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, রাজ্যের এক বিরাট সংখ্যক কৃষক বড় বা মাঝারি জমির মালিকের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে চাষ করে থাকে। তাঁরাও যাতে এই ক্ষতিপূরণ পায়, সেজন্য সরকারকে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।

 

 

সেইসাথে দাবি করা হয় এক কুইন্টাল ধানের সহায়ক মূল্য হোক দু হাজার টাকা। বর্তমানে ১৮১৫ টাকা কুইন্টাল দরে সরকার চাষিদের কাছ থেকে ধানের সহায়ক মূল্যে ধান কেনে। কিষান মান্ডি বা স্হায়ী ধান ক্রয়কেন্দ্র গুলোতে কৃষক ধান নিয়ে গেলে আরও অতিরিক্ত কুড়ি টাকা পরিবহন খরচ বাবদ সরকার কৃষকদের দেয় ।

 

 

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ধানের সহায়ক মূল্য ১৮১৫ টাকা থেকে ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১৮৬৮ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে কৃষক সংগ্রাম পরিষদ। পরিষদের সম্পাদক নারায়নচন্দ্র নায়ক বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে লকডাউন পরিস্থিতিতে কৃষকরা উপকৃত হবেন। তবে গ্রাম পঞ্চায়েত পিছু ক্যাম্প করে ধান ক্রয় করলে কৃষকেরা আরও বেশি উপকৃত হবেন বলে তিনি জানান।

 

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এক কুইন্টাল ধান উৎপাদন করতে গেলে কৃষকের নিজস্ব মজুরি খরচ যুক্ত করে প্রায় দু হাজার টাকার কাছাকাছি খরচ হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে পরিষদের দাবি অন্তত দুই হাজার টাকা সহায়ক মূল্য করা হোক। এতে এই কোরোনা এবং আমফান পরবর্তী অধ্যায়ে চাষিদের কিছুটা হলেও সুবিধা মিলবে।

Related Articles

Back to top button
Close